"উদ্দীপকটি 'ঝিঙে ফুল' কবিতার সমগ্র ভাবের ধারক নয়।"-মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।
অপরূপ শোভাময় দেশ বাংলাদেশ। এখানকার মাটির গন্ধ, সূর্যের নরম আলো, পাখির কিচিরমিচির, নদীর কলতান সবকিছুই আমাদের মুগ্ধ করে। আরও বেশি মুগ্ধ করে তার স্নেহ ও ঔদার্য।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্নেহের কথা। দেশমাতা আদর-সোহাগ-ভালোবাসা দিয়ে আমাদের লালন করে থাকে। 'ঝিঙে ফুল' কবিতায় ঝিঙে ফুলের সৌন্দর্য ও প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণ বর্ণিত - হয়েছে। সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রজাপতি ও আকাশের তারারা হাতছানি দিয়ে ডাকলেও মাটির মমত্বে ঝিঙে ফুল তাদের কথায় সাড়া দেয় না।
উদ্দীপকে শুধু মাটির প্রতি মায়ের মতো সম্মান ও ভালোবাসা দেখানোর দিকটি ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে 'ঝিঙে ফুল' কবিতায় ঝিঙে ফুলের মাটির প্রতি আকর্ষণের দিকটির বর্ণনার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসায়, স্বর্গ সুখের প্রলোভন প্রত্যাখ্যান, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ইত্যাদি বিষয়ও বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকটি 'ঝিঙে ফুল' কবিতার সমগ্র ভাবের ধারক নয়।
Related Question
View Allঅলকা বা স্বর্গ অনেক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে পরিপূর্ণ থাকলেও কবি এ স্বদেশের প্রকৃতিকে রেখে অন্য কোথাও যেতে চান না- এটাই ঝিঙে ফুলের প্রতীকে বোঝানো হয়েছে।
'ঝিঙে ফুল' কবিতায় কবির প্রকৃতিপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। পৌষের বেলাশেষে সবুজ পাতার এ দেশে জাফরান রং নিয়ে ঝিঙে ফুল মাচার উপর ফুটে আছে। প্রজাপতি তাকে বোঁটা ছিঁড়ে চলে আসার জন্য ডাকছে। আকাশে চলে যাওয়ার জন্য ডাকছে তারা। কিন্তু সে সুখ-ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ স্বর্গের চেয়ে পৃথিবীকে বেশি ভালোবাসে। তাই সে মাটিকে ভালোবেসে মাটি-মায়ের কাছেই থাকবে- আলোচ্য চরণে এ কথাই বোঝানো হয়েছে।'
জন্মভূমির শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বানের দিক থেকে ফয়সালের মামার চাওয়া 'ঝিঙে ফুল' কবিতার প্রজাপতির ডাকের সঙ্গে সম্পর্কিত।
জন্মভূমির সঙ্গে সবার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। স্বর্গ সুখের নিশ্চয়তা পেলেও মানুষ জন্মভূমিকে ছেড়ে যেতে চায় না।
'ঝিঙে ফুল' কবিতায় ঝিঙে ফুলকে বোঁটা ছিঁড়ে আসার জন্য প্রজাপতি ডাকছে। কিন্তু ঝিঙে ফুল মাটিকে ভালোবেসে মাটির কাছেই থাকবে। উদ্দীপকে ফয়সালের মামা ভালো পড়াশুনার জন্য চেনা-জানা পরিবেশ ছেড়ে ফয়সালকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চান। এভাবেই জন্মমাটির শেকড় বিচ্ছিন্ন করার আহ্বানের দিক থেকে ফয়সালের মামার চাওয়াl 'ঝিঙে ফুল' কবিতার প্রজাপতির ডাকের সঙ্গে সম্পর্কিত।
"ফয়সাল এবং ঝিঙে ফুলের ইচ্ছা যেন একই সূত্রে গাঁথা।"-উক্তিটি যথার্থ।
মানুষ বা প্রকৃতি যে যেখানে যে পরিবেশে বড় হয় সেখানে আত্মীয়তার সম্পর্ক অনুভব করে। কিছুতেই সে তার চিরচেনা-পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায় না।
উদ্দীপকে ফয়সালের মামা ফয়সালকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চান পড়াশুনা করানোর জন্য। কিন্তু ফয়সাল তার নিজ অবস্থানকেই ভালোবেসে অন্য কোথাও যেতে চায় না। 'ঝিঙে ফুল' কবিতায় ঝিঙে ফুলকে প্রজাপতি ডাকছে বোঁটা ছিড়ে চলে আসার জন্য, আকাশে চলে যাওয়ার জন্য ডাকছে তারা। কিন্তু সে মাটিকে ভালোবেসে মাটি-মায়ের কাছেই থাকবে।
কোনো কিছুর মোহেই নিজ জন্মস্থানকে ছেড়ে' না যাওয়ার দিক দিয়ে ফয়সাল ও ঝিঙে ফুলের ইচ্ছা যেন একই সূত্রে গাঁথা। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
ঝিঙে ফুল মরা মাচানের দেশ মস্গুল করে।
ঝিঙে ফুল মা-মাটির পরশেই ভালো থাকতে চায়, ‘তাই সে অলকায় যেতে চায় না।’
ঝিঙে ফুল সবুজ পাতার মাঝে যখন ফোটে তখন তার অপরূপ সৌন্দর্য যেন সবাই মুগ্ধ করে। ঝলমল করে দোলা ঝিঙে ফুল যেন পৌষের, শেষ বেলাতেও প্রকৃতির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। কিন্তু মাঝে মাঝে যেন এই ঝিঙে ফুল অবহেলিত হয়, যখন রোদের মাঝেও ঝিঙে ফুল তার মায়ের কোলে ঘুমায় তখন। প্রজাপতি তাকে ডাকে বোঁটা ছিঁড়ে আকাশে চলে আসতে, কিন্তু ঝিঙে ফুল তাতে রাজি হয় না। সে তার সৌন্দর্য নিয়ে মা-মাটিকে আঁকড়ে ধরেই বাঁচতে চায়। এই জীবনই যেন তার কাছে শান্তিময়। তাই ঝিঙে ফুল অলকায় যেতে চায় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!