একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের দ্রাবক সর্বোচ্চ যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত করতে পারে তার চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে সেই দ্রবণকে অসম্পৃক্ত দ্রবণ বলে।
দ্রব ও দ্রাবক্কের মিশ্রণের ফলে দ্রবণ উৎপন্ন হয়। একটি নির্দিষ্ট. দ্রাবকে বিভিন্ন দ্রব দ্রবীভূত হওয়ার পরিমাণ দ্রবের দ্রাব্যতা এবং এর পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। উপরের ক্ষেত্র দুটিতে একই দ্রাবক পানি সমপরিমাণে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই দ্রব দ্রবীভূত হওয়ার পরিমাণ কেবল দ্রবের দ্রাব্যতার ওপর নির্ভর করবে। ক-চিত্রে দ্রব হচ্ছে তুঁতে এবং খ-চিত্রে দ্রব হচ্ছে চিনি। এ দুটির মধ্যে চিনির দ্রাব্যতা তুঁতের তুলনায় অনেক বেশি। ১০০ মি. লি. পানিতে ৫ গ্রাম তুঁতে মিশালে যে সময়ে দ্রবণ উৎপন্ন হবে তার চেয়ে ১০ গ্রাম চিনি ঐ পানিতে দ্রুত দ্রবীভূত হয়। তাই, খ-চিত্রের ক্ষেত্রে বেশি দ্রব দ্রবীভূত হবে।
খ-চিত্রে পানি ও চিনির একটি দ্রবণ দেখানো হয়েছে। এতে অধিক তাপ প্রয়োগ করা হলে কী ঘটবে তা নিচে আলোচনা করা হলো-
একটি তেপায়া স্ট্যান্ডের উপর একটি তারজালি বসিয়ে এর উপর খ-চিত্রের বিকারটিকে বসাতে হবে। এবার একটি স্পিরিট ল্যাম্পের সাহায্যে দ্রবণটিতে তাপ প্রয়োগ করতে হবে। নাড়ন, কাঠিটি দিয়ে দ্রবণটি নাড়াতে হবে। লক্ষ করলে দেখা যাবে পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে। এক সময় বিকারের সমস্ত পানি বাষ্পাকারে উড়ে যাবে এবং বিকারের তলায় চিনির দানা জমা হবে। এভাবে চিনির দ্রবণ থেকে দ্রব (চিনি) আলাদা হয়ে যাবে। অর্থাৎ অধিক তাপ প্রয়োগ করলে খ দ্রবণটির দ্রব (চিনি) পৃথক হয়ে যাবে।

ক' ও 'খ' চিত্রে যথাক্রমে তুঁতের দ্রবণ এবং চিনির দ্রবণ দেখানো হয়েছে। এখানে দ্রব হচ্ছে তুঁতে ও চিনি। দ্রবণ থেকে এ দ্রব দুটি পৃথক করা সম্ভব। 'ক' এর ক্ষেত্রে দ্রব পৃথকীকরণে স্ফটিকীকরণ পদ্ধতি এবং 'খ' এর ক্ষেত্রে দ্রব পৃথকীকরণে বাষ্পীভবন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এ দুয়ের মধ্যে 'খ' এর ক্ষেত্রে দ্রুত দ্রব পৃথক করা যায়।'ক' এর ক্ষেত্রে দ্রবণটিকে বিকারসহ উত্তপ্ত করা হয়। ফলে পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে থাকে। দ্রবণ শুকিয়ে অর্ধেক হলে গরম করা বন্ধ করা হয়। এবার দ্রবণটিকে ঠান্ডায় রেখে দেওয়া হয়। দ্রবণটি ঠান্ডা হলে কিছু দ্রব অর্থাৎ ছুঁতে কেলাসাকারে নিচে জমা পড়বে। তখন, তা থেকে তুঁতে পৃথক করা হয়। আবার দ্রবণটিকে গরম করে পুনরায় ঠান্ডা করে একইভাবে দ্বিতীয়বার ভূঁতে পৃথক করা হয়। এভাবে সম্পূর্ণ তুঁতে ফেরত পাওয়া যায়।
খ' এর ক্ষেত্রে বিকারটিকে অধিক পরিমাণে তাপ দেওয়া হয়। ফলে পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে থাকে এবং দ্রব অর্থাৎ চিনির দানা বিকারের তলায় জমা পড়তে থাকে। এক সময় বিকারের সমস্ত পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যাবে এবং চিনির কঠিন দানা বিকারের তলায় জমা হবে। এভাবে চিনির দ্রবণটি থেকে দ্রব অর্থাৎ চিনি ফেরত পাওয়া যাবে।
উপরের দুটি পদ্ধতির মধ্যে 'ক' এর ক্ষেত্রে সময় বেশি ব্যয় হয়। অতএব বলা যায়-'খ' এর ক্ষেত্রে দ্রুত দ্রব ফেরত পাওয়া যাবে।
দৈনন্দিন জীবনে আমরা নানা রকমের জিনিস ব্যবহার করে থাকি। এদের কোনোটি বিশুদ্ধ আর কোনোটি মিশ্রণ। মিশ্রণের মধ্যে আবার কোনোটি দ্রবণ, কোনোটি সাসপেনসন আর কোনোটি কলয়েড।

এই অধ্যায় শেষে আমরা
• মিশ্রণ এবং দ্রবণের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব।
• বিভিন্ন প্রকার দ্রবণের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব।
পানি এবং কঠিন পদার্থ দিয়ে বিভিন্ন প্রকার দ্রবণ প্রস্তুত করতে পারব।
• দ্রবণে তাপমাত্রার প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব।
• সর্বজনীন দ্রাবক হিসেবে পানির ব্যবহার প্রদর্শন করতে পারব।
• সমসত্ব এবং অসমসত্ব মিশ্রণ প্রস্তুত এবং উপাদানসমূহ পৃথক করতে পারব।
• লবণাক্ত পানি হতে লবণের স্ফটিক এবং বিশুদ্ধ পানি প্রস্তুত করতে পারব।
• দ্রবণ, কলয়েড এবং সাসপেনসনের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব।
• দৈনন্দিন জীবনে দ্রবণ, কলয়েড এবং সাসপেনসনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব।
• আমাদের জীবনে দ্রবণ ও সাসপেনসনের প্রয়োগ উপলব্ধি করব।
• পরীক্ষণ কাজের যন্ত্রপাতি এবং উপকরণ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারব।
Related Question
View Allদুই বা ততোধিক পদার্থকে এক সাথে মিশালে যদি তারা নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে তবে উক্ত সমাবেশকে মিশ্রণ বলে।
সার্বজনীন দ্রাবক বলতে সেই সমস্ত দ্রাবককে বুঝায় যারা সব রকমের পদার্থকে দ্রবীভূত করে। তবে বাস্তবে সকল পদার্থকে দ্রবীভূত করার মতো কোনো দ্রাবক নেই। তবে পানি এমন একটি দ্রাবক যা অনেক পদার্থকে সহজেই দ্রবীভূত করতে পারে। অন্যকোনো দ্রাবকের পক্ষে এটি সম্ভব নয়। যেমন- ক্যালসিয়াম কার্বনেট, সিলিকা ইত্যাদি জৈব যৌগ, স্পিরিট, এসিটোন, এসিটিক এসিড ইত্যাদি গ্যাসীয় পদার্থ সবগুলোকেই পানি দ্রবীভূত করতে পারে। অর্থাৎ পানিই এখন পর্যন্ত পাওয়া একমাত্র সার্বজনীন দ্রাবক।
রূপত্তিকে দেখানো প্রিয়ন্তির উপাদানটি হলো লবণ, 'যা সমুদ্রের পানি থেকে প্রস্তুত করা হয়। নিচে রেখা চিত্রের মাধ্যমে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ প্রস্তুত প্রণালি দেখানো হলো-

উদ্দীপকের দ্রবণটি হলো লবণ ও পানির দ্রবণ। এ দ্রবণ হতে লবণ ও পানি দুটো উপাদানই আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব। লবণকে সহজেই পরিস্রাবণ পদ্ধতির সাহায্যে আলাদা করা যায়। পানি পাতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলাদা করা যায়। প্রথমে দ্রবণকে ছাঁকন কাগজের সাহায্যে ছেঁকে পানিতে থাকা বালি ময়লা এবং লবণাক্ত পানি আলাদা করা হয় যা ক চিত্রে দেখানো হয়েছে।

এরপর পানিকে পাতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিম্নোক্তভাবে আলাদা করা যায়।
প্রয়োজনীয় উপকরণ: ১টি ১টি পাতন যন্ত্র, ৫০০ মি. লি. লবণাক্ত পানি।
পদ্ধতি: খ চিত্রের মতো পাতন যন্ত্রটিকে সাজিয়ে 'গোলতলী ফ্লাক্সে লবণাক্ত পানি নিই। পাতন যন্ত্রটির পানি প্রবেশের নলটি একটি পানির ট্যাপের সাথে যুক্ত করে পানি প্রবাহ চালু করি। পানি নির্গমন নলের সাথে একটি প্লাস্টিকের পাইপ যুক্ত করে বেসিনে রাখি এবং বৈদ্যুতিক হিটারে তাপ দিই। বাষ্পীভূত পানি শীতকের সরু নলের মধ্য দিয়ে গোলতলী ফ্লাক্সে জমা হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর পর্যবেক্ষণ করি, দেখতে পাই যে, বিশুদ্ধ পানি জমা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় দ্রবণের লবণ পাত্রের তলায় জমা হয়।
যে মিশ্রণের বিভিন্ন অংশে তার উপাদানসমূহ বিভিন্ন অনুপাতে থাকে এবং একাধিক বস্তুর অস্তিত্ব সহজে বুঝা যায় তাকে অসমসত্ত্ব মিশ্রণ বলে।
কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম দ্রাবক নিয়ে কোনো দ্রবের সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরি করতে যতটুকু দ্রবের প্রয়োজন হয় তাকেই ঐ দ্রাবকে ঐ দ্রবের দ্রবণীয়তা বলে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, ২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম পানি সর্বোচ্চ ৩৬ গ্রাম লবণকে দ্রবীভূত করতে পারে। অর্থাৎ এ তাপমাত্রায় পানিতে লবণের দ্রবণীয়তা হলো ৩৬। আবার ২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানিতে চিনির দ্রবণীয়তা হলো ২১১.৪। অর্থাৎ এ তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম পানি সর্বোচ্চ ২১১.৪ গ্রাম চিনি দ্রবীভূত করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!