উদ্দীপকে শুধু একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনার কথা আসায় তা 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার খন্ডচিত্র ধারণ করেছে।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে যে গণ আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল তার পটভূমি তুলে ধরেছেন। আলোচ্য কবিতাটি মূলত দেশপ্রেম, গণজাগরণ ও সংগ্রামী চেতনার কবিতা। জাতিগত শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এ দেশের সাধারণ মানুষ তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে ১৯৬৯ সালে। হাজার হাজার মানুষ সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জড়ো হয় ঢাকার রাজপথে। এ কবিতায় দেশকে ভালোবেসে সাধারণ মানুষের আত্মদান ও আত্মাহুতিকে কবি গভীর মমতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করা হয়েছে। এ দিন ভাষা আন্দোলনকারীদের উপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশে পুলিশের চালানো গুলিতে অনেকে শহিদ হন। কবির দৃষ্টিতে এই দিনের বৃষ্টি তাই বরকতেরই রক্তের প্রতীক।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় দেশের জন্য মানুষের আত্মদান ও আত্মাহুতির প্রেরণাকে কবি গভীর মমতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে মূর্ত করে তুলেছেন। এক্ষেত্রে তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রেরণা দ্বারা উজ্জীবিত। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারির রক্তঝরা দিনগুলোতে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এ দেশের সংগ্রামী মানুষদের গণ অভ্যুত্থানের মাহাত্ম্য তুলে ধরেছেন। শুধু তাই নয়, কবি এ আন্দোলনে শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং আত্মহুতি দেওয়া বীর জনতাকেও ভাষা শহিদ সালাম ও বরকতের প্রতীকে তাৎপর্যময় করে তুলেছেন। কিন্তু উদ্দীপকে কেবল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মহিমাই ব্যস্ত হয়েছে। ফলে উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে পারেনি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!