উদ্দীপকটি 'রোশেখ' কবিতার অংশবিশেষকে প্রতীকায়িত করে। মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রকৃতির শান্ত রূপ মাঝে মাঝে অশান্ত হয়ে ওঠে। তখন সে সবকিছুকে গ্রাস করতে চায়। সেই অশান্ত প্রকৃতির কবলে পড়ে গরিব মানুষ ও অসহায় প্রাণী।
উদ্দীপকের আলোচনায় প্রকৃতির বৈরী রূপ উপস্থাপিত। আকস্মিক বিপর্যয় তছনছ করে দেয় মানুষের সাজানো সংসার। ভেঙে চুরমার হয়ে যায় কত মানুষের স্বপ্নসৌধ। আকস্মিক বিশাল প্লাবন যখন ভয়াবহ বন্যার রূপ নিয়ে ঘর-দোর, ধন-সম্পদ, ফল-ফসল সব ভাসিয়ে নিয়ে যায় তখন মানুষের স্বাভাবিক জীবন হয়ে পড়ে বিপর্যস্ত। 'বোশেখ' কবিতায় কবি বলেছেন বৈশাখী মহাপ্রতাপশালী বাতাসে গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে যায়, চাষির ভিটে গুঁড়িয়ে যায়, গরিব চাষির ঘরের খুঁটি উড়িয়ে নেয়। এছাড়াও বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায়, নদীর পানি শূন্যে ছড়িয়ে দেয়, টুনটুনি-বাবুই পাখিদের ঘর উড়িয়ে নিয়ে যায়।
উদ্দীপকে প্রকৃতির বৈরী রূপের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এই বৈরিতায় ক্ষয়ক্ষতির রূপ বর্ণনা করা হয়েছে। উদ্দীপকের এ বিষয়টি 'বোশেখ' কবিতার অংশবিশেষ। 'বোশেখ' কবিতায়ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈশাখের বৈরী রূপ বর্ণনা করা হয়েছে। বৈশাখের এ বৈরী রূপ ছাড়াও আলোচ্য কবিতায় কবি বৈশাখকে আহ্বান জানিয়েছেন শোষণকারী ও অত্যাচারীকে ধ্বংস করার জন্য, যা উদ্দীপকে নেই। এসব দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'তিষ্ঠ' কথার অর্থ স্থির হও।
কবি পবনের কাছে মিনতি করেছেন যেন গরিব-দুঃখীদের দুর্দশার মাত্রা আর না বাড়ে।
কবি পবন অর্থাৎ বাতাসের কাছে মিনতি করেছেন স্থির হওয়ার জন্য। কারণ বৈশাখের মহাপ্রতাপশালী বাতাসে গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে যায়। এতে তার জীবিকা অর্জনও থমকে যায়। চাষির নড়বড়ে ঘরটি বৈশাখের ঝড়ের প্রতাপে গুঁড়িয়ে গেলে সে নিরাশ্রয় হয়ে পড়ে। এসব কারণে কবি গরিব-দুঃখীদের প্রতি সহমর্মী হয়ে পবনের কাছে স্থির হওয়ার জন্য মিনতি করেছেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত দরিদ্র শ্রেণির সঙ্গে রিলিফ কমিটির আচরণের মধ্যে 'বোশেখ' কবিতায় প্রকাশিত শ্রমজীবী মানুষের অসহায়ত্ব এবং তাদের ওপর শোষকদের নিষ্পেষণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
'আমাদের এ সমাজব্যবস্থা এমন এক ধারার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে যেখানে দরিদ্ররা সব জায়গায়ই বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের ওপর নিষ্পেষণ ও বঞ্চনার স্টিম রোলার চালানো হচ্ছে। মানুষ কিংবা প্রকৃতি- সবকিছুই তাদের বিরুদ্ধে। সমাজের ধনীরা গরিবের শ্রমে অর্জিত সম্পদ ভোগ করছে, তাদেরকে ন্যায্য পাওনা থেকেও বঞ্চিত করছে।
উদ্দীপকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের বঞ্চনার শিকার হওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি বন্যার্তদের ওপর রিলিফ কমিটির আচরণের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। তাদের বরাদ্দের চেয়ে কম ত্রাণ দেওয়ার প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর চালানো হয় নির্যাতন। অথচ ধনীদের বরাদ্দের অতিরিক্ত ত্রাণ পৌছে দেওয়া হয়। এ বিষয়টি 'বোশেখ' কবিতায়ও প্রতিফলিত হয়েছে। কালবৈশাখি ঝড় বয়ে গেলে দরিদ্র মানুষের বেশি ক্ষতি হয়। তাদের বহু কষ্টের ফসল, আশ্রয় ধ্বংস হয়। অথচ ধনীদের প্রাসাদ ঠিকই অক্ষত থাকে। উদ্দীপকের বিষয়টি কবিতার এই ভাবকেই প্রতিকায়িত করেছে।
"উদ্দীপকটি 'বোশেখ' কবিতার একটা খন্ডচিত্র মাত্র, পূর্ণরূপ নয়"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বর্তমান সমাজব্যবস্থায় ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য চরম পর্যায়ে পৌছেছে। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে দরিদ্র ও শ্রমজীবীরা শোষণের শিকার হচ্ছে। শোষকরা ছলে, বলে, কৌশলে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখছে। সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সবখানেই দরিদ্র মানুষের জীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করছে।
উদ্দীপকে দরিদ্র মানুষের অসহায়ত্ব ও শোষণের চিত্র উঠে এসেছে। বন্যার কারণে বাস্তুহারা অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ সমাজের প্রভাবশালীরা আত্মসাৎ করে গরিবদের বঞ্চিত করে ধনীদের কাছে পৌছে দেয়। দরিদ্র মানুষের এই দুর্দশা ও অসহায়ত্বের চিত্র 'বোশেখ' কবিতায়ও প্রকাশ পেয়েছে। তবে এ ভাবই কবিতার একমাত্র দিক নয়। এ দিকটি ছাড়াও কবিতায় নানাবিধ বিষয় ও ভাবের প্রকাশ ঘটেছে।
'বোশেখ' কবিতায় কবি বৈশাখের বিধ্বংসী ঝড়কে মহাপ্রতাপশালী আখ্যা দিয়ে তাকে দরিদ্র মানুষের সর্বনাশ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। তিনি হিংস্র থাবায় গরিবের বাসস্থান, দরিদ্র মাঝির পালের দড়ি, অসহায় পাখিদের বাসা ধ্বংস না করতে বলেছেন। যারা শ্রমজীবীদের শোষণ করে অট্টালিকা গড়ে তুলেছে সেই অট্টালিকা যেন কালবৈশাখি ঝড়ে গুঁড়িয়ে যায়। মূলত এ কবিতায় কবি বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন। কবিতার এসব বিষয় ও ভাব উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।
যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে বাতাস তাদের প্রাসাদের ইট খসাতে পারে না।
'বোশেখ' কবিতায় বৈশাখী বাতাস মহাপ্রতাপশালী।
'বোশেখ' কবিতায় কবি বলেছেন, বৈশাখী বাতাসে বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায়। এছাড়া কালবৈশাখি বাতাস গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে ফেলে। চাষির ভিটে গুঁড়িয়ে দেয়। টুনটুনিদের বেগুন পাতার বাসা ছিঁড়ে ফেলে। দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি উলটে ফেলে দেয়। বাবুই পাখির ঘর উড়িয়ে নিয়ে যায়। গরিব চাষির ঘর উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও রাখে বৈশাখী বাতাস। মূলত 'বোশেখ' কবিতায় কবি বৈশাখী বাতাসের ধ্বংসাত্মক রূপ তুলে ধরেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!