উদ্দীপকটি 'শ্রাবণে' কবিতার মূলভাবকে সম্পূর্ণ তুলে ধরতে পারেনি।
'শ্রাবণে' কবিতায় কবি বর্ষা প্রকৃতির এক অনবদ্য রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। গ্রীষ্মের দাবদাহে তেতে ওঠা প্রকৃতি যেন শ্রাবণের বৃষ্টিতে ভিজে প্রাণ ফিরে পায়। প্রকৃতির এই রূপ বদলের সঙ্গে মানবমনের সুখ-দুঃখও নিবিড়ভাবে জড়িত।
উদ্দীপকে ভরা বর্ষার থইথই পানিকে শ্রাবণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রাবণের অন্য নাম শাওন হওয়া প্রসঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও সেখানে শ্রাবণ প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য হিসেবে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো বাতাস এবং বর্ষাকালীন বিভিন্ন ফুল ফোটার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। আলোচ্য কবিতাটিতেও শ্রাবণের এমন রূপ ফুটে উঠেছে।
'শ্রাবণে' কবিতায় কবি শ্রাবণের চিরায়ত রূপটি উন্মোচন করেছেন। গ্রীষ্মের খরতাপে জর্জরিত প্রকৃতি শ্রাবণের বৃষ্টিতে ভিজে সজীব ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শ্রাবণের আগমনে রুক্ষ প্রকৃতি মুহূর্তেই জলে পূর্ণ হয়। শ্রাবণের এমন রূপের কথা উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে। এ ছাড়াও কবিতাটিতে ঋতুর পালাবদলের সাথে সাথে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং সুখ-দুঃখের পালাবদলের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে এ বিষয়ের উল্লেখ নেই। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটি 'শ্রাবণে' কবিতার মূলভাবকে সম্পূর্ণ তুলে ধরতে পারেনি।
Related Question
View Allপ্রাণখোলা বর্ষায় গাছপালা স্নান করে।
উন্মাদ শ্রাবণ' বলতে শ্রাবণ মাসে বৃষ্টির উন্মাদনাকে বোঝানো হয়েছে।
ষাঁড় ও শ্রাবণ- এই দুই মাস নিয়ে বর্ষাকাল। শ্রাবণ এলে বৃষ্টির প্রাবল্য বৃদ্ধি পায়। সারাদিন অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়তে থাকে। অতিবৃষ্টির মাদনায় মুখর হয়ে ওঠে পৃথিবী। তাই কবি শ্রাবণকে 'উন্মাদ শ্রাবণ' অভিহিত করেছেন।
প্রথম উদ্দীপকে 'শ্রাবণে' কবিতায় বর্ণিত বর্ষণমুখর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কটি ফুটে উঠেছে।
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে দগ্ধ পৃথিবীতে বর্ষা আসে নতুন রূপ নিয়ে। 'শ্রাবণে' কবিতায় বাংলার প্রকৃতিতে বর্ষার আগমনের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রকৃতি শ্রীহীন হয়ে পড়ে। অবিরাম বর্ষায় স্নান করে আবার তা সজীব ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। গ্রীষ্মের রোদের চিহ্ন ধুয়ে-মুছে প্রকৃতি এ সময় যেন নতুন রূপ ধারণ করে।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে বর্ষণমুখর প্রকৃতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। ঘন মেঘের আড়ালে হারিয়ে গেছে রোদ। পত্রপল্লব আর নানা রকম ফুলের সম্ভারে শোভিত হয়ে উঠেছে গাছপালা। 'শ্রাবণে' কবিতায়ও বর্ষা প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর চিত্র ফুটে উঠেছে।
দ্বিতীয় উদ্দীপকটির মূলভাব 'শ্রাবণে' কবিতার শেষ চরণে প্রতিফলিত হয়েছে।
বর্ষা একদিকে যেমন বৃষ্টির উন্মাদনা নিয়ে উপস্থিত হয় অন্যদিকে তেমনি মানুষের মনকেও তীব্রভাবে নাড়া দিয়ে যায়। এ সময় মানুষের সংবেদনশীল মন যেন জেগে ওঠে।
দ্বিতীয় উদ্দীপকে বর্ষাকালে গ্রামের নারীদের সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডের চিত্র লক্ষ করা যায়। বর্ষণমুখর দিনে নারীরা নকশিকাঁথা বোনে। নকশিকাঁথার প্রতিটি বুননে তারা তাদের মনের অব্যক্ত কথাগুলো ফুটিয়ে তোলে। বুকের ভেতর যত স্বপ্ন আছে সব যেন ভাষারূপ পেয়ে জেগে ওঠে মায়াবী সুতোর গাঁথুনিতে।
'শ্রাবণে' কবিতায় আমরা দেখি, ধরণির আশা-ভয়, সুখ-দুঃখ জেগে ওঠে অবিরাম বরষায়। মানুষের অন্তর্নিহিত সুখ-দুঃখকে যেন উসকে দেয় বর্ষার বারিধারা। তাই বলা যায়, দ্বিতীয় উদ্দীপকটি 'শ্রাবণে' কবিতার শেষ চরণে প্রতিফলিত হয়েছে। বর্ষায় মানুষের মনোজগতের উন্মীলন উদ্দীপকের ও 'শ্রাবণে' কবিতার শেষ চরণের মূল প্রতিপাদ্য।
'বারিধার' শব্দের অর্থ জলের ধারা।
একটানা বৃষ্টি বোঝাতে প্রদত্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
গ্রীষ্মের দাবদাহে জর্জরিত প্রকৃতি সজীব ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বৃষ্টির অবিরাম প্রবাহে রুক্ষ প্রকৃতি মুহূর্তেই জলে পূর্ণ হয়ে ওঠে। গণিতে 'নামতা' বলতে গুণ করার ধারাবাহিক তালিকা বোঝায়। আর ধারাপাত হলো অঙ্ক শেখার প্রাথমিক বই। কবিতায় বৃষ্টি ধারার পতনকে কবি ধারাপাত বলেছেন। বৃষ্টি পড়ার অবিরাম রিমঝিম শব্দ কবির কাছে অনেকটা শিশুদের নামতা পড়ার শব্দের মতো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
