উদ্দীপকে উল্লিখিত আবিদের দেশে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। কুরআন ও হাদিস ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূলভিত্তি। যে অর্থব্যবস্থা ইসলামের নিয়মনীতির আলোকে পরিচালিত হয় তাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলে। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় মানুষের জীবনের সামগ্রিক বিষয় আলোচনা করা হয়। আল্লাহপাক মানুষ সৃষ্টি করে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র, দ্রব্যসামগ্রী নিয়ামত হিসেবে প্রদান করেছেন। মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত এসব বস্তুসামগ্রী ও পরিবেশ-প্রকৃতি ব্যবহার করে ইসলামি শরিয়তের আলোকে অধিকতর সম্পদ সৃষ্টি ও ভোগ করবে- এটাই ইসলামের বিধান এবং ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূলকথা। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সম্পদের ব্যক্তিমালিকানা স্বীকৃত হলেও যাকাতভিত্তিক হওয়ায় শ্রেণিবৈষম্য ও শ্রমিক শোষণের সুযোগ থাকে না। এছাড়া ইসলামি অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন, বণ্টন, বিনিময় ও ভোগের ক্ষেত্রে হালালকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। যেকোনো হারাম দ্রব্যসামগ্রী পরিহার করার নির্দেশ ইসলামে দেওয়া হয়েছে। এই অর্থব্যবস্থা সুদ ও ঘুষের লেনদেনকে হারাম ঘোষণা করেছে। তবে সুদমুক্ত আমানত রাখা ও ঋণ গ্রহণ করার ব্যবস্থাও আছে। উৎপাদক ও ব্যবসায়ী এই ঋণ গ্রহণ করতে পারেন এবং ব্যবসায় থেকে প্রাপ্ত লাভ ঋণদানকারী ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে লভ্যাংশ হিসেবে পরিশোধ করতে পারেন। আর এই সার্বিক অংশটাই ইসলামিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে প্রতিনিধিত্ব করে।
Related Question
View Allসম্পদকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যে ব্যবস্থা বা কাঠামোর আওতায় উৎপাদনের উপাদানসমূহের মালিকানা নির্ধারিত হয় এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া উৎপাদিত সম্পদের বণ্টন ও ভোগ প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা জনগণের অর্থনৈতিক কার্যাবলি এবং অর্থনীতি বিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত কাঠামোর সমন্বয়ে গড়ে ওঠে।
পার্থের 'ক' দেশের অর্থব্যবস্থাটি হলো সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণসহ সকল সম্পদ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন। তাই রাষ্ট্রই শ্রমিকের মজুরি প্রদান করে এবং উৎপাদনের অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করে। এর ফলে ধনতন্ত্রের মতো পুঁজিপতি কর্তৃক শ্রমিককে বঞ্চিত করার সুযোগ থাকে না। উদ্দীপকে পার্থ 'ক' রাষ্ট্রের নাগরিক। তিনি যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন সেদেশে ব্যক্তিগত কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যায় না। পার্থের বাবা উক্ত 'ক' দেশে যে কারখানায় কাজ করতেন তার প্রাপ্য মজুরির একটি অংশ প্রয়োজন অনুসারে তাকে দেওয়া হতো। অতএব, পার্থের 'ক' দেশের অর্থব্যবস্থার ধরনটি হচ্ছে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। এখানে শ্রমিকের মজুরি প্রদানের মূলনীতি হলো 'প্রত্যেকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাবে এবং কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাবে।' এ ব্যবস্থায় বেকারত্ব থাকে না। কারণ রাষ্ট্র প্রত্যেকের সামর্থ্য ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করে দেয়। সকলের আয় এক নয়। কিন্তু কেউ উৎপাদনে তার অবদান অনুসারে প্রাপ্য আয় থেকে বঞ্চিত হয় না।
পার্থ 'ক' দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন যেখানে ব্যক্তিগত কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যায় না, যা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য এবং 'খ' দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমানু।
সাম্প্রতিককালে পার্থ 'খ' নামক দেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং সেখানে তিনি এক লাখ ডলার খরচ করে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। তারপর তিনি তার আয় দিয়ে আরও একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। অতএব, 'খ' নামক দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত।
নিচে এ দুটি অর্থব্যবস্থার পার্থক্য তুলে ধরা হলো-
ভিত্তি | ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা | সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা |
| ১. উৎপাদনের উপাদানসমূহের মালিকানা | ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ যেমন-ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন ব্যক্তিমালিকানাধীন। ব্যক্তি তার নিজস্ব সম্পদ স্বাধীনভাবে ভোগ ও হস্তান্তর করতে পারে। | সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণসহ সকল সম্পদ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন। এক্ষেত্রে সম্পদের কোনোরকম ব্যক্তিমালিকানা থাকে না। |
| ২. উদ্যোগ গ্রহণ | ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যক্তি এককভাবে বা গোষ্ঠীবদ্ধভাবে যেকোনো দ্রব্য বা সেবা উৎপাদনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। | সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের সকল উদ্যোগ সরকারিভাবে গৃহীত হয়। |
| ৩. ভোক্তার স্বাধীনতা | ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ভোগকারী কোন দ্রব্য কী পরিমাণে ক্রয় ও ভোগ করবে তার সিদ্ধান্ত নিজেই গ্রহণ করে। | সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ভোগকারীর নিজ ইচ্ছামতো দ্রব্যসামগ্রী ভোগের সুযোগ নেই। |
| ৪. শ্রমিক শোষণ | এ অর্থব্যবস্থায় শ্রমিকেরা প্রাপ্যের চেয়ে অনেক কম মজুরি পায়। তাই এখানে শ্রমিক শোষণ রয়েছে | এখানে মুনাফার মধ্যে পুরোটাই রাষ্ট্র বা সরকারের মালিকানায়। তাই শ্রমিক শোষণের প্রশ্নই ওঠে না। |
| ৫. নির্দেশনা | ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের যেকোনো ক্ষেত্রে ব্যক্তি নির্দেশনা কার্যকর হয়। অর্থাৎ উদ্যোক্তা নিজেই নানা বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করে থাকে। | সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি নির্দেশের কোনো ব্যবস্থাই নেই। এখানে উৎপাদনের যেকোনো বিষয়ে সায়কারিভাবে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। |
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, 'ক' ও 'খ' দেশের অর্থব্যবস্থা অর্থাৎ সমাজতান্ত্রিক ও ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান।
উৎপাদন কাজে ব্যবহারযোগ্য মানুষের শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতাকে শ্রম বলে।
জাতীয় সম্পদের প্রধানত ২টি উৎস। এর মধ্যে প্রথমটি হলো প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ। কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভিতরের ভূমি, ভূমির উপরিস্থিত এবং অভ্যন্তরস্থ যা কিছু আছে সবই প্রকৃতির দান। প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বনের গাছপালা, ফলমূল, প্রাণী ও পাখিকুল, নদনদী ও প্রাকৃতিক জলাশয়ের মৎস্য সম্পদ, অন্যান্য জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ, ভূমির অভ্যন্তরস্থ পানি ও সকল প্রকারের খনিজ পদার্থ সবই প্রকৃতি প্রদত্ত জাতীয় সম্পদ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!