উদ্দীপকের আবির কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী জমিতে প্রচুর জৈব সার ব্যবহার এবং ভারী সেচ প্রদান করে। কৃষক আবিরের জমি ক্ষারীয় প্রকৃতির হওয়ায় তা ধানের ফলন বাধাগ্রস্ত করে। এ সমস্যা সমাধানে আবির ভারী সেচ প্রদান করলে মাটির ক্ষারদ্রব্য ধুয়ে যায়, আর জৈব সার মাটির বাফার ক্ষমতা বাড়িয়ে ক্ষারত্ব হ্রাস করে।
মাটিতে সোডিয়ামের (Na) পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকলে পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণমুক্ত পানি দিয়ে জমিকে প্লাবিত করে দিলে সোডিয়াম উক্ত পানির সাথে দ্রবীভূত হয়ে মূলাঞ্চলের নিচে চলে যায়। এজন্য জমিতে যথাযথ নিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখতে হয়। এতে মাটির ক্ষারদ্রব্য ধুয়ে যায়। পরবর্তীকালে সাধারণ চাষাবাদের মাধ্যমে ক্ষারীয় জমিতে ফসল উৎপাদন করা যায়। মাটির বুনট হালকা হলে ভারী সেচ পদ্ধতি বেশ ফলপ্রসূ হয়। তবে সেচের পর পানি শুকিয়ে 'জো' অবস্থা আসার সাথে সাথে চাষ দিয়ে জমি তৈরি করে নিলে নিচের স্তরের সোডিয়াম (Na) আর কৈশিক পানির বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় উপরে উঠে আসতে পারে না। এছাড়াও জৈব সার ব্যবহার করে মাটিকে শোধনের মাধ্যমে মাটির ক্ষারত্ব দূর করা যায়। উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান সরবরাহের জৈবিক উৎসসমূহ জৈব সার হিসেবে পরিচিত। জমিতে জৈব সার যেমন- গোবর সার, কম্পোস্ট সার, বায়োফার্টিলাইজার, বায়োপেস্টিসাইড ইত্যাদি প্রয়োগ করলে সোডিয়াম আয়ন অপসারিত হয়ে মাটির ক্ষারত্ব দূর হয়। রাইজোবিয়াম, ট্রাইকোডার্মা, ফসফেট ব্যাকটেরিয়া, সালফার ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি বায়োফার্টিলাইজারের অন্তর্ভূক্ত। কৃত্রিমভাবে চাষযোগ্য এসব উপকারী অণুজীব সার হিসেবে মাটিতে প্রয়োগ করা হয় যা মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ করে। জৈব পদার্থ মাটির বাফার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যার ফলে মাটির ক্ষারত্ব কমে যায়। শিম জাতীয় ফসলের শিকড়ে মাটিস্থ এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া বাতাস হতে নাইট্রোজেন নিয়ে নডিউল তৈরি করে যা জমিতে ক্ষারীয় প্রভাব থাকলে তা দূরীভূত করে। ক্ষারীয় মাটিতে জৈব সার হিসেবে সবুজ সারের চাষ করলে তা উক্ত মাটির বুনট পরিবর্তনসহ মাটির গুণাবলি পুনরুদ্ধার করে ক্রমান্বয়ে ক্ষারত্ব কমায়।
অতএব, কৃষক আবির জমিতে ভারী সেচ প্রদান ও জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে ধানের অধিক ফলন প্রাপ্তির মাধ্যমে লাভবান হন।
Related Question
View Allযেসব ফসল সাধারণত বিস্তীর্ণ মাঠে বেড়াবিহীন অবস্থায় সমষ্টিগতভাবে পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ এবং প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়া হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে।
উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও তথ্য নিয়ে মতবিনিময় হয়।
কৃষি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের ফলে কৃষকদের জ্ঞান ও তথ্য আরো সমৃদ্ধ হয়। মতবিনিময়ের ফলে কৃষকদের জ্ঞান এবং কাজের স্পৃহা বাড়ে। এ ছাড়া হঠাৎ সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার প্রতিকার ব্যবস্থা জানা যায়। তাই কৃষিতে উঠোন বৈঠকের প্রয়োজন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আফসার আলীর জমির মাটি কাদাযুক্ত এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এজন্য বলা যায়, জমির মাটি এঁটেল প্রকৃতির।
নিচে এঁটেল মাটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
i. এঁটেল মাটি ভারী মাটি নামে অভিহিত।
ii. এ মাটিতে কমপক্ষে ৩৫% বা তার বেশি কর্দম বা এঁটেল কণা থাকে।
iii. এ মাটিতে সূক্ষ্ম রন্দ্রের সংখ্যা খুব বেশি, তাই এর পানি ধারণ ক্ষমতা খুব বেশি, কিন্তু নিষ্কাশন ক্ষমতা কম।
iv. এ মাটির বায়ু ও পানি চলাচল ক্ষমতা কম।
V. এঁটেল মাটি আঙুলে ঘষলে ট্যালকম পাউডারের মতো পিচ্ছিল মনে হয়।
vi. এ মাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সংযুক্তি (cohesion) খুব বেশি।
vii. আর্দ্র এঁটেল মাটি আঠালো ও চটচটে হয়, কিন্তু শুষ্ক অবস্থায় খুব শক্ত হয়। ফলে সহজে কর্ষণ করা যায় না।
viii. এ প্রকার মাটির ধনাত্মক আয়ন বিনিময় ক্ষমতা খুব বেশি। উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যাবলী থেকে এঁটেল মাটির প্রকৃতি জানা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট যা গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উচ্চ ফলনশীল এবং হাইব্রিড জাতের ধান উদ্ভাবন করে। এছাড়াও মৃত্তিকা, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, চাষাবাদ পদ্ধতি, পোকা-মাকড় ও রোগ দমন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি ও কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করে। এদের উদ্ভাবিত জাতগুলো তুলনামূলকভাবে রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। আবার এসকল জাতের ফলন স্থানীয় জাতের ফলনের তুলনায় অনেক বেশি। উদ্ভাবিত জাতের মধ্যে বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল, সুগন্ধি ও বিদেশে রপ্তানি উপযোগী জাতও রয়েছে। এসকল জাতসমূহ কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করে তোলার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে, রয়েছে প্রদর্শনী প্লট ও মডেল কৃষক। এছাড়াও কৃষি তথ্য সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পুস্তিকা, ম্যানুয়াল, প্রতিবেদন, জার্নাল প্রভৃতি প্রকাশ করে। এ প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য মাঠ দিবসের আয়োজন এবং কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এসকল কার্যক্রমের ফলে কৃষকগণ সহজেই কৃষি সংশ্লিষ্ট তথ্য ও জ্ঞান লাভ করতে পারে। ফলে কৃষক মাঠ পর্যায়ে এসব জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অল্প খরচে ফসল উৎপাদন করে লাভবান হয়। সর্বোপরি ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উল্লিখিত কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করে।
অভিজ্ঞ 'কৃষক হলো একজন স্থানীয় নেতা ও কৃষকদের পরামর্শদাতা যিনি নিজ উৎসাহে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন ও নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন।
কোনো মাটিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H') ও হাইড্রোক্সিল আয়নের (OH) পরিমাণ সমান থাকলে তাকে নিরপেক্ষ মাটি বলে। নিরপেক্ষ বা প্রশম মাটির অম্লমান ৭। এই ধরনের মাটিতে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সহজলভ্য থাকে বিধায় ফসল চাষে সর্বাধিক উপযোগী। নিরপেক্ষ মাটিতে জৈব পদার্থ সহজে বিয়োজিত হয়। নিরপেক্ষ মাটিতে বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!