যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিচালিত হয় তাকে পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা বলে।
সীমিত সম্পদ দ্বারা অসীম অভাবের মধ্যে কোন গুরুত্বপূর্ণ অভাব প্রথমে পূরণ করা হবে তা নির্ধারণ করাই হলো নির্বাচন।
একই সময়ে মানুষ অসংখ্য অভাবের সম্মুখীন হয়। সীমিত সম্পদের সাহায্যে এ অসীম অভাব পূরণ করতে হলে অভাবগুলোকে গুরুত্বের ভিভিতে নির্বাচন করতে হয়। তবে সম্পদ অসীম হলে এই নির্বাচন সমস্যা সৃষ্টি হতো না। সীমিত সম্পদের বিকল্প ব্যবহারযোগ্যতার কারণে 'পছন্দ' বা নির্বাচন করা হলে এর মাধ্যমে তৃপ্তি বা উপযোগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব।
উদ্দীপকে সুযোগ ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে।
একটি দ্রব্যের অতিরিক্ত এক একক উৎপাদন করতে গিয়ে অপর দ্রব্যের উৎপাদন যে পরিমাণে ছাড় দিতে হয় সে ছাড়ার পরিমাণই হচ্ছে সুযোগ ব্যয়। সমাজে প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিভিন্ন দ্রব্য ও সেবা উৎপাদিত হয়। কিন্তু এসব প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সেবার উৎপাদনের উপকরণ দুষ্প্রাপ্য। তাই মানুষ তার পছন্দের সবকিছু একসাথে উৎপাদন করতে পারে না। কিন্তু সম্পদের বিকল্প ব্যবহার করা যায়। একটি সম্পদ দ্বারা দুই বা ততোধিক দ্রব্য বা সেবা উৎপাদন করা সম্ভব।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কোনো ব্যক্তি তার জমিতে সব শ্রম ও মলধন পাট উৎপাদনে নিয়োগ করলে মোট উৎপাদন হয় OA পরিমাণ, কিন্তু ধানের উৎপাদন হয় শূন্য। এভাবে ধানের ক্ষেত্রেও কোনো ব্যক্তি সব শ্রম ও মূলধন নিয়োগ করলে OC পরিমাণ ধান উৎপাদন করতে পারে। কিন্তু পাটের উৎপাদন হয় শূন্য। কিন্তু সে যদি শ্রম ও মূলধন উভয় খাতে ব্যয় করে তবে OY, পরিমাণ পাট এবং OX, পরিমাণ ধান উৎপাদন করতে পারবে
চিত্রে একজন কৃষকের পক্ষে ৪ বিন্দুতে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। তবে একজন কৃষক D বিন্দুতে উৎপাদন করতে পারলেও তা সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার হয় না।
উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা হলো প্রযুক্তি দেওয়া সাপেক্ষে প্রাপ্ত সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে দুটি পণ্যের সম্ভাবনা সর্বাধিক উৎপাদন সংমিশ্রণের সঞ্চারপত্র। উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার প্রতিটি বিন্দুতে সীমিত সম্পদ দ্বারা দুইটি দ্রব্যের বিভিন্ন সংমিশ্রণ প্রকাশ পেলেও এ রেখার বাইরের কোনো বিন্দুতে উৎপাদন সম্ভব নয় বলে প্রকাশ করে। আবার উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার ভেতরের সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার হয় না। ফলে এ রেখার ভেতরে উপাদন করলে অপূর্ণ নিয়োগ ও বেকারত্ব দেখা দেবে।
উদ্দীপকে D বিন্দুতে উৎপাদন করা উচিত নয়। কারণ এখানে সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার হবে না। আবার E বিন্দুতে উৎপাদন করা সম্ভব নয়; কারণ এখানে সম্পদের ঘাটতি রয়েছে। চিত্রে AC উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা, যার ওপর B বিন্দু অবস্থিত। AC রেখার অভ্যন্তরে D বিন্দুটি অবস্থিত। কিন্তু এই D বিন্দুতে উৎপাদন করা যায় না। কারণ এই বিন্দুতে উৎপাদন পরিচালিত হলে সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব নয়। আবার AC রেখার বাইরে E একটি বিন্দু। E বিন্দুতে উৎপাদন সম্ভব নয়; কারণ এখানে সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
সুতরাং বলা যায়, একজন কৃষকের পক্ষে শুধু B বিন্দুতে পাট ও ধানম উৎপাদন করা সম্ভব ও লাভজনক কিন্তু D বিন্দুতে অলাভজনক এবং E বিন্দুতে উৎপাদন সম্ভব নয়।
Related Question
View Allমানুষের ক্রয়ক্ষমতার সাপেক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজন মেটাতে পারে এমন ধরনের পণ্য ও সেবা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা ইচ্ছাকে অভাব বলে।
বিদ্যমান প্রযুক্তি ও নির্দিষ্ট পরিমাণ উপকরণ দ্বারা উৎপাদিত দুটি দ্রব্যের সম্ভাব্য বিভিন্ন সংমিশ্রণ, যে রেখার বিভিন্ন বিন্দুতে নির্দেশ করা হয় তাকে উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (PPC) বলে।
মনে করি, একটি সমাজ তার সীমাবদ্ধ সম্পদের সাহায্যে ১ লক্ষ বই অথবা ১ কোটি কলম তৈরি করতে পারে। সমাজ ইচ্ছা করলে কলম উৎপাদন হ্রাস করে বই উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে। আবার একই পরিমাণ সম্পদের সাহায্যে বই ও কলমের বিভিন্ন সংমিশ্রণ উৎপাদন করতে পারে। এভাবে সীমিত সম্পদের সাহায্যে দুটি দ্রব্যের বিভিন্ন সংমিশ্রণ উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার (PPC) সাহায্যে দেখানো যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তিনটি দেশ A, C ও B-তে যথাক্রমে ধনতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক ও মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।
যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। অন্যদিকে, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা হলো এমন এক ধরনের অর্থব্যবস্থা যেখানে সকল অর্থনৈতিক কার্যক্রম কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। আর এই দুই অর্থব্যবস্থার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে মিশ্র অর্থব্যবস্থা যেখানে ব্যক্তি মালিকানার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সরকারি উদ্যোগে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, 'A' দেশে সবকিছু ব্যক্তি উদ্যোগে উৎপাদন ও বিক্রয় হয় ফলে দ্রব্যাদির দাম বেশি। অর্থাৎ সংজ্ঞানুসারে 'A' দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। পক্ষান্তরে, 'C' দেশে সকল সম্পদের মালিক হলো 'কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা সরকার'। এখানে সরকারের অধীনে সকল পণ্যসামগ্রী উৎপাদিত হয়। তাই বলা যায়, 'C' দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। অন্যদিকে 'B' দেশে লক্ষ করা যায়, সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদিত হয়। প্রয়োজনীয় খাতে সরকারি হস্তক্ষেপ লক্ষণীয়। সুতরাং 'B' দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
ধনতান্ত্রিক কিংবা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার তুলনায় জনগণের কল্যাণের জন্য মিশ্র অর্থব্যবস্থাই উত্তম। নিচে তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শুধু ব্যক্তি মালিকানা বিদ্যমান থাকায় উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টি হয়। আর সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শ্রেণিবৈষম্য না থাকলেও ভোক্তার স্বাধীনতা থাকে না এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার উদ্ভব হয়। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় উক্ত দুটি অর্থব্যবস্থার দোষগুলো পরিহার করে গুণগুলো গ্রহণ করা হয়। এজন্য মিশ্র অর্থব্যবস্থায় জনকল্যাণ সর্বাধিক গুরুত্ব পায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'A' দেশে সকল কিছু ব্যক্তি উদ্যোগে উৎপাদিত হওয়ায় ভোক্তাকে উচ্চ মূল্যে দ্রব্য বা সেবা ভোগ করতে হয়। অন্যদিকে উৎপাদনকারী অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে উৎপাদন পরিচালনা করে। এর ফলে জনকল্যাণ প্রাধান্য পায় না। এ অর্থব্যবস্থায় শ্রমিক শোষণ ও শ্রেণিবৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। আবার, 'C' দেশে এর বিপরীত অবস্থা পরিলক্ষিত হলেও ব্যক্তি স্বাধীনতা থাকে না। অর্থাৎ, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বার্থ বাদ দিয়ে সমাজের স্বার্থ বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে তা আদৌ সম্ভব নয়। এজন্য বিশ্বে কোথাও বিশুদ্ধ সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা দেখা যায় না।
আর 'B' দেশে সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানার পাশাপাশি কিছু কিছু কারখানা সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এই অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি উদ্যোগ স্বীকৃত বলে যেমন অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়, তেমনি সরকার জনকল্যাণের জন্য প্রয়োজনবোধে দামব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এর ফলে জনকল্যাণ সর্বাধিক হয়। তাই একটি দেশের জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে বলা যায়, 'A' ও 'C' দেশের অর্থব্যবস্থার তুলনায় 'B' দেশের অর্থব্যবস্থা তথা
উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা হচ্ছে এমন একটি রেখা যার বিভিন্ন বিন্দুতে সীমিত সম্পদ ও চলতি প্রযুক্তি সাপেক্ষে দুটো উৎপাদিত দ্রব্যের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন সংমিশ্রণ প্রকাশ পায়।
অভাবের তুলনায় সম্পদ সীমিত হওয়া অর্থনীতিতে সকল অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব হয় না।
অসীম অভাব পূরণের জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত। সৃষ্টির আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত সমাজের প্রতিটি মানুষ অভাবের সাথে সংগ্রাম করে আসছে। একটি অভাব পূরণ হলে আর একটি অভাব নতুনরূপে দেখা দেয়। মানুষ এসব নতুন অভাব সম্পদের সাহায্যে পূরণ করে। কিন্তু অসীম অভাব পূরণের জন্য প্রাপ্ত সম্পদের পরিমাণ সীমিত। সীমিত এ সম্পদ দিয়ে মানুষ তার অসংখ্য অভাবের সামান্যই মেটাতে পারে। এজন্য মানুষের পক্ষে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভবপর হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!