জনাব রায়হান তার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রায় ১৯০ বছর ইংরেজ শাসন ও শোষণ এবং ২৪ বছরের পাকিস্তানি শাসন ও শোষণের হাত থেকে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে 'বাংলাদেশ' নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি সময়ের পরিক্রমায় বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শিখেছে এবং অর্থনীতির বেশকিছু সূচক, যেমন- শিল্পের বিকাশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির উন্নয়ন, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি ইত্যাদি আমাদের আশাবাদী করে তুলেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আশা করি ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি শক্ত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত হবে।

উদ্দীপকের আলোকে শাসন ও শোষণের তিনটি উদাহরণ ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আলোকে ইংরেজ ও পাকিস্তানিদের শাসন ও শোষণের তিনটি উদাহরণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়। ইংরেজরা বিভিন্ন কূট-কৌশল অবলম্বন করে বাংলার শাসন ক্ষমতা দখল করে নেয়। ফলশ্রুতিতে ইংরেজরা দ্বৈত শাসন এবং চিরস্থায়ী শাসন ব্যবস্থার নামে বাংলার নিরীহ জনগণের উপর শোষণের খড়গ চালায়। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হলেও পাকিস্তানের বাঙালিদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বলি হতে হয়েছে।

⇨ দ্বৈত শাসন: ইংরেজ আমলের লর্ড ক্লাইভের দ্বৈত শাসনব্যবস্থা ছিল বাংলার অন্যতম শোষণ ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থা অনুযায়ী বাংলার নবাবী বাঙালিদের হাতে থাকলেও রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা ছিল ইংরেজদের হাতে। ইংরেজদের আরোপিত অতিরিক্ত করের বোঝার কারণে এদেশের অনেক জমি অনাবাদি থাকে এবং খাদ্যাভাব দেখা দেয়। ফলে দুর্ভিক্ষে অনেক লোক প্রাণ হারায়।

⇨ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত: এদেশে ইংরেজ শাসনব্যবস্থা পাকাপোক্ত করার জন্য লর্ড কর্ণওয়ালিশ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন। এ শাসন ব্যবস্থা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের পূর্বে জমির খাজনা পরিশোধ করতে হতো। এর ফলে বাংলার অনেক মুসলমান জমিদার তাদের জমিদারি হারায়।

⇨ পাকিস্তান যুগের অর্থনৈতিক বৈষম্য: পাকিস্তান সৃষ্টির পর পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর চক্রান্তে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ অর্থনৈতিক বৈষম্য ও শোষণের স্বীকার হয়। উৎপাদনে পূর্ব পাকিস্তান উদ্বৃত্ত এলাকা এবং পশ্চিম পাকিস্তান ঘাটতি এলাকা হলেও উন্নয়নের অধিকাংশ ব্যয় করা হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নের জন্য।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, বৃটিশ ও পাকিস্তানিরা এদেশকে সবদিক থেকে শাসন ও শোষণ করেছে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
6 months ago
83

Related Question

View All
উত্তরঃ

দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন দেশ হলো বাংলাদেশ। ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বাংলাদেশের। অবস্থান বিস্তৃত। এ দেশের মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। সাগরের অবস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণে হওয়ার কারণে এ দেশের অবস্থান প্রান্তীয়। বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম, পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মিয়ানমার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
6 months ago
162
উত্তরঃ

উদ্দীপকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। নিচে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের প্রকৃতি তুলে ধরা হলো-

দারিদ্র্য যেকোনো দেশের জন্যই অভিশাপ। সাধারণত স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে। সেই দেশগুলোর জনগণের আয় অনেক কম থাকার কারণে সেসব দেশে সঞ্চয়ের পরিমাণও কম হয়। একটি দেশে যখন সঞ্চয়ের পরিমাণ কম হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই দেশে বিনিয়োগ কম হবে। বিনিয়োগ যখন কম হয়, তখন সেই দেশের জনগণ বেকার থাকে। তাদের কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দেয়, ফলে নিয়োগ কম হয়। একটি দেশে নিয়োগ, কর্মসংস্থান কম থাকার অর্থ সে দেশের উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো অচল থাকে অথবা উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধও থাকতে পারে। ফলে উৎপাদন কম হয়। একটি দেশের উৎপাদন কম হলে আয় কম হবে, এটাই স্বাভাবিক। এভাবেই একটি দেশ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে।
অতএব বলা যায়, একটি দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
6 months ago
137
উত্তরঃ

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। অধিক জনসংখ্যা এ দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় ২৩.৫ ভাগ লোক বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে।

এ দেশেও তাই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিদ্যমান রয়েছে। এ দেশে অধিক জনসংখ্যার কারণে শ্রম সস্তা। এই সস্তা শ্রমের কারণে জনগণের আয় কম। আয় কম হওয়ার কারণে সঞ্চয় কম। ফলে বিনিয়োগ কম। তবে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে, যার ফলে দেশের অধিক জনসংখ্যার কিছু অংশের কর্মসংস্থান রয়েছে। তার পরও প্রায় ৩ কোটির উপরে বেকার জনগোষ্ঠী এ দেশে রয়েছে। ফলে এই নিয়োগ কম হওয়ায় আশানুরূপ উৎপাদন হচ্ছে না। আশানুরূপ উৎপাদন না হওয়ার কারণে জনগণের আয়ও কম হচ্ছে। এভাবেই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বাংলাদেশকে ঘিরে রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে। দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র যত দিন বাংলাদেশ থেকে দূর না হবে, তত দিন বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
6 months ago
117
উত্তরঃ

বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলার।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
6 months ago
133
উত্তরঃ

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান খাত কৃষি। এদেশের মোট শ্রম শক্তির ৪৫.১% কৃষির উপর নির্ভরশীল এবং প্রায় ৭৫% মানুষ কৃষির উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। ২০১৬-১৭অর্থবছরে দেশের জিডিপির ১৪.৭৯% আসে কৃষি থেকে। বাংলাদেশের শিল্পের কাঁচামালের বেশিরভাগই আসে কৃষি থেকে। তাই বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
6 months ago
191
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews