উদ্দীপক দ্বারা ইঙ্গিতকৃত বিষয় তথা লোকাচার ও লোকরীতির মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
লোকাচার মূলত গোষ্ঠীর অভিভাবক হিসেবে কাজ করে না। পক্ষান্তরে লোকরীতি মূলত গোষ্ঠীর অভিভাবকের কাজ করে থাকে। লোকাচার পালন সম্বন্ধে সমাজের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ করা যায় না। অপরপক্ষে লোকরীতি পালন সম্বন্ধে সমাজ অত্যন্ত কঠোর মনোভাব গ্রহণ করে থাকে। লোকাচার বলতে আচরণের গোষ্ঠীগত অভ্যাস ও প্রথাকে বোঝানো হয়। পক্ষান্তরে লোকরীতি বলতে আচরণের অবশ্য পালনীয় রীতি ও বিধিবদ্ধ প্রথাসমূহকে বোঝায়। লোকাচার মানব চরিত্র নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। অন্যদিকে লোকরীতি মানব চরিত্র নিয়ন্ত্রণে এক সামাজিক শক্তি হিসেবে কাজ করে। লোকাচার সাধারণত সমাজের মানুষের সমষ্টিগত কল্যাণের ওপর বিশেষ কোনো প্রভাব বিস্তার করে না। পক্ষান্তরে লোকরীতির মাধ্যমে সমাজের মানুষ তাদের আচরণকে সমষ্টিগত কল্যাণের দিক থেকে বিবেচনা করার প্রয়াস পায়। কোনো গোষ্ঠীর জীবনের প্রয়োজনে লোকাচারগুলো অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয় না। কিন্তু লোকরীতিকে গোষ্ঠীর জীবনে অপরিহার্য বলে মনে করা হয়।
উপরের পার্থক্যসমূহের আলোকে বলা যায় যে, লোকাচার ও লোকরীতির মধ্যে বিভিন্ন মাত্রাগত পার্থক্য বিদ্যমান থাকলেও উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্যতার দিকও পরিলক্ষিত হয়।
Related Question
View Allকমার্কসীয় তত্ত্বানুযায়ী শ্রেণির প্রকৃতি উৎপাদন পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল।
জনসাধারণের পেশা ভৌগোলিক প্রভাবে নির্ধারিত হয় এবং তা সমাজজীবনকে প্রভাবিত করে।
ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ পাট উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। শীতলক্ষ্যার উপকূলে ডেমরা অঞ্চলে তাঁত শিল্প গড়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো যে, শীতলক্ষ্যার পানির প্রভাবে এ অঞ্চলের আবহাওয়া তাঁত-সুতার নমনীয়তা বাড়িয়ে দেয়। ফলে তাঁতিদের সুতিবস্ত্র বয়নে সুবিধা হয়। বাংলাদেশের সিলেটে ও আসামে গড়ে ওঠেছে চা শিল্প। এই শিল্পের মাধ্যমেও মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে, আর এসব শিল্পের উৎপাদনে ভূমিকা রাখছে 'ভৌগোলিক পরিবেশ'।
উদ্দীপকের শ্রমিকদের আন্দোলন মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বের ইঙ্গিত বহন করে।
শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কার্ল মার্কস বলেন, প্রতিটি মানবসমাজ দুটি বিবদমান শ্রেণিতে বিভক্ত। একটি শ্রেণি হলো উৎপাদন উপায়ের মালিক এবং অন্যটি হলো উৎপাদন উপায়ের মালিকানা থেকে বঞ্চিত অর্থাৎ শ্রমিক শ্রেণি। ঠিক এমনিভাবে আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজকেও কার্ল মার্কস পুঁজিপতি ও সর্বহারা শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে পুঁজিপতি শ্রেণি কর্তৃক শ্রমিক শ্রেণিকে অত্যধিক শোষণের ফলে এ সমাজে শ্রেণিসংগ্রাম তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। ফলে শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে - দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
উদ্দীপকে দেখতে পাই, জমির আলী যে গার্মেন্টসে কাজ করেন সেখানে শ্রমিকদের মজুরি খুবই কম। তাই জমির আলী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনের ডাক দেন। জমির আলী ও শ্রমিকদের এই আন্দোলন কার্ল মার্কসের শ্রেণি সংগ্রাম তত্ত্বকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই বলা যায়, জমির আলী ও শ্রমিকদের আন্দোলন মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বকেই নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের জমির আলীর বক্তব্যটি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বাহন ধর্মকে ইঙ্গিত করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। ধর্মীয় বিধান মানুষকে সৎ, সত্যবাদী, কর্তব্যপরায়ণ, উদার ও পরোপকারী হওয়ার শিক্ষা দেয়। ফলে মানুষ ধর্মীয় প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অপরাধ ও অন্যায়মুক্ত জীবন গঠনে প্রয়াসী হয়।
ধর্ম মানুষকে নীতি আদর্শ মেনে চলতে একটি নির্দিষ্ট ধারায় পরিচালিত করে। কারণ পৃথিবীতে প্রচলিত প্রায় সব ধর্মেই ইহজগতে সৎকর্মের মাধ্যমে পরজগতে অনন্ত সুখের ধারণা দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে অসৎকর্মের শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। ফলে পরজগতে সুখের প্রত্যাশা ও শাস্তির ভয় মানুষকে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রিত আচরণ করতে অনুপ্রাণিত করে।
উদ্দীপকের জমির আলী শ্রমিকদের চুরি করা থেকে বিরত করে বলেন, 'আল্লাহ সব দেখছেন। আসেন আমরা চুরি না করে ন্যায্য মজুরির জন্য আন্দোলন করি।' তার এ বক্তব্য সামাজিক নিয়ন্ত্রণের বাহন ধর্মের ইঙ্গিতবহ। তাই এ কথা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের জমির আলীর বক্তব্যটি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বাহন ধর্মকে ইঙ্গিত করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। ধর্মীয় বিধান মানুষকে সৎ, সত্যবাদী, কর্তব্যপরায়ণ, উদার ও পরোপকারী হওয়ার শিক্ষা দেয়। ফলে মানুষ ধর্মীয় প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অপরাধ ও অন্যায়মুক্ত জীবন গঠনে প্রয়াসী হয়।
ধর্ম মানুষকে নীতি আদর্শ মেনে চলতে একটি নির্দিষ্ট ধারায় পরিচালিত করে। কারণ পৃথিবীতে প্রচলিত প্রায় সব ধর্মেই ইহজগতে সৎকর্মের মাধ্যমে পরজগতে অনন্ত সুখের ধারণা দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে অসৎকর্মের শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। ফলে পরজগতে সুখের প্রত্যাশা ও শাস্তির ভয় মানুষকে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রিত আচরণ করতে অনুপ্রাণিত করে।
উদ্দীপকের জমির আলী শ্রমিকদের চুরি করা থেকে বিরত করে বলেন, 'আল্লাহ সব দেখছেন। আসেন আমরা চুরি না করে ন্যায্য মজুরির জন্য আন্দোলন করি।' তার এ বক্তব্য সামাজিক নিয়ন্ত্রণের বাহন ধর্মের ইঙ্গিতবহ। তাই এ কথা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অপরাধ বিজ্ঞানের জনক এডউইন এইচ, সাদারল্যান্ড।
ক্রিয়াবাদের জনক ডুর্খেইম তার ক্রিয়াবাদের ব্যাখ্যায় সমাজকে জীবদেহের সাথে তুলনা করেন।
একটি জীব বা একজন ব্যক্তিমানুষের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থাকে এবং জীবদেহ বা ব্যক্তিমানুষকে সচল রাখার জন্য তার অঙ্গ- প্রত্যঙ্গগুলো বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো তাদের কর্ম সঠিকভাবে সম্পাদন করলেই ব্যক্তিমানুষ সচল থাকে। তেমনি সমাজেরও থাকে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা অংশ। সমাজ সচল থাকে তখনই যখন সমাজের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠানসমূহ ও ব্যক্তিবর্গ নিজ নিজ কর্ম ও দায়িত্ব পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!