উদ্দীপকের উপকরণগুলো হলো চুন, রোটেনন ও টিএসপি। মাছ চাষের জন্য পুকুর প্রস্তুতিতে এ উপাদানগুলোর প্রয়োগ পদ্ধতি ও গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো-
প্রয়োগ পদ্ধতি: পুকুর শুকানোর পরে তলায় চাষ দেওয়া হলে চাষের দিন চুন দিতে হয়। আর পানি থাকলে অ্যালুমিনিয়ামের বালতি বা ড্রামে চুন গোলার পর ঠাণ্ডা হলে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হয়। পুকুরে রোটেনন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মোট পরিমাণকে তিনভাগ, করতে হয়। একভাগ দিয়ে কাই তৈরি করে ছোট বল বানিয়ে পুকুরের বিভিন্ন স্থানে দিতে হয়। বাকি ২ভাগ পানিতে গুলিয়ে পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হয়। এরপর জাল টেনে পানি ওলটপালট করে দিতে হয়। চুন প্রয়োগের ৫-৭ দিন পরে টিএসপি সার প্রয়োগ করতে হয়। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে পুকুরে সার প্রয়োগ করা ভালো। সার পানিতে গুলে সমস্ত পুকুরে সমানভাবে ছিটিয়ে দিতে হয়।
গুরুত্ব: মাছ চাষের পুকুরে চুন দিলে তা মাটি ও পানির উর্বরতা বৃদ্ধি করে, পানির pH ঠিক রাখে, পানির ঘোলাত্ব কমিয়ে পানি পরিষ্কার করে। এছাড়া চুন মাছের রোগবালাই দূর করে এবং সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। পুকুর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে রাক্ষুসে মাছ ও অচাষযোগ্য মাছ দূর করতে রোটেনন ব্যবহারে কার্যকর ফল পাওয়া যায়। রোটেনন ব্যবহারে মৃত মাছ খাওয়াও যায়। সার প্রয়োগের ফলে পানিতে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি হয়। টিএসপি প্রয়োগে পুষ্টি উপাদান ফসফরাস পানিতে মিশে। এ পুষ্টি উপাদান ব্যবহার করে পানিতে ফাইটো ও জু প্লাংকটন উৎপন্ন হয় যা মাছের লাভজনক বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allগবাদিপশু যে সকল উপাদান খাদ্যরূপে গ্রহণ করে এবং পরিপাক, শোষণ ও বিপাকের মাধ্যমে দেহে শক্তি উৎপাদন করে তাকে গো-খাদ্য বলে।
যে খাদ্যে কম পরিমাণ আঁশ এবং বেশি পরিমাণে শক্তি পাওয়া যায় তাকে দানাজাতীয় খাদ্য বলে।
দুধাল বা মাংস উৎপাদনকারী গবাদিপশুর ক্ষেত্রে শুধু আঁশ জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। কারণ দানাজাতীয় খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থ থাকে যা গবাদিপশুর দুধ ও মাংসের উৎপাদন বাড়ায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কনক বড়ুয়া কাঁচা ঘাস শুকিয়ে হে তৈরির মাধ্যমে যথোপযুক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন।
তিনি হে তৈরির জন্য মে সঠিক পূর্ণতাপ্রাপ্ত গাছ (ফুল আসার আগে) কেটেছিলেন। কেননা সুগিত মানের হে তৈরির জন্য কম বয়সের গাছ বেশি উপযুক্ত। এরপর ঘাসগুলোকে সঠিকভাবে শুকিয়েছিলেন যাতে এটি মোল্ডমুক্ত ও অতিরিক্ত তাপমুক্ত অবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়। অতিরিক্ত সূর্যের আলো পরিহার করে ঘাসগুলোকে দ্রুত শুকিয়েছিলেন। ঘাসগুলোকে কেটে রৌদ্রে এমনভাবে উল্টাপাল্টা করে দিয়েছিলেন যেন এগুলোর পাতা ঝরে পড়ে না যায়। এরপর এগুলো শুষ্ক অবস্থায় (১৫-২০% আর্দ্রতায়) সংরক্ষণ করেছিলেন।
উল্লিখিত উপায়ে কনক বড়ুয়া কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ করেছিলেন।
কনক বড়ুয়া তার গবাদিপশুর সারাবছরের খাদ্য চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ করেন।
খরা মৌসুমে মাটিতে রসের পরিমাণ কম থাকায় ঘাসের উৎপাদন কমে আসে। ফলে গবাদিপশুকে শুকনো খড় জাতীয় খাদ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে খাদ্যের অভাবে কনক বড়ুয়ার গবাদিপশুর মাংস ও দুধের উৎপাদন কমে যায় এবং পশুগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। কনক বড়ুয়া তার চারণ ভূমিতে বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত অতিরিক্ত ঘাস হে তৈরির মাধ্যমে সংরক্ষণ করেছিলেন। এভাবে সবুজ ঘাস সংরক্ষণের মাধ্যমে সারাবছর গবাদিপশুর খাদ্য চাহিদা মেটানোর পাশাপাশির পশুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের চাহিদা মেটানো যায়। এতে করে গবাদিপশু পুষ্টিহীনতায় ভোগে না। মাংস ও দুধের উৎপাদনও হ্রাস পায় না। ফলে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। যারা পশু পালনের সাথে জড়িত তাদের সবার উচিত এভাবে বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত অতিরিক্ত ঘাস সাইলেজ বা হে তৈরির মাধ্যমে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। অর্থাৎ, কনক বড়ুয়ার কার্যক্রমটি সঠিক ও সুদূরপ্রসারি ছিল।
মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানিতে প্রতি লিটারে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন।
পানির পিএইচ কমে গেলে পুকুরে চুন প্রয়োগ করে পানির পিএইচ ঠিক করা হয়।
চুন পানির ঘোলাত্ব দূর করে পানি পরিষ্কার করে। সার প্রয়োগের আগে চুন প্রয়োগের মাধ্যমে সারের কার্যকারিতা বাড়ানো যায়। এভাবে চুন পানির উর্বরতা বাড়িয়ে পানির গুণগত মান বৃদ্ধি করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!