উদ্দীপকের উপাদানটি হলো রক্তরসে ছড়ানো বিভিন্ন রক্তকণিকা।
মানুষের দেহে তিন ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে। এগুলো হলো- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা। এসব রক্তকণিকা মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের কাজ সম্পাদন করে। লোহিত রক্তকণিকা দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে। নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড টিস্যু থেকে লোহিত কণিকা ফুসফুসে বহন করে। লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিন রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করে। আবার শ্বেত রক্তণিকা লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি গঠন করে এবং এই অ্যান্টিবডির দ্বারা দেহে প্রবেশকৃত রোগ জীবাণু ধ্বংস করে। মনোসাইট ও নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে। ইওসিনোফিল ও
বেসোফিল হিস্টামিন নামক পদার্থ নিঃসৃত করে দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে। বেসোফিল হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তবাহিকায় রক্তের জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। অণুচক্রিকা শরীরের কোনো ক্ষতস্থান হতে রক্তক্ষরণ হলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ফলে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। বিভিন্ন সংকোচনধর্মী পদার্থ ক্ষরণের মাধ্যমে রক্তবাহিকার সংকোচন ঘটিয়ে এ কণিকা রক্তপাত বন্ধে সাহায্য করে। রক্ত জালিকার ক্ষতিগ্রস্ত এন্ডোথেলিয়াল আবরণ পুনর্গঠনে অণুচক্রিকা অংশ নেয়।
রক্তকণিকাসমূহের উপরোক্ত কর্মকান্ডগুলো যথাযথভাবে সম্পাদনের ফলেই মানবদেহ সুস্থ থাকে। কিন্তু এসব রক্তকণিকার যেকোনোটির
অনুপস্থিতিতেই মানবদেহ অসুস্থ হয়ে পড়বে। দেহের অনেক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। কাজেই মানবদেহের সুস্থতার জন্য রক্তকণিকার উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
Related Question
View Allহৃদপিন্ডের সংকোচন উপসরনের ফলে হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনির মধ্য দিয়ে প্রবাহকালে ধমনি প্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে।
সিস্টোলিক রক্তচাপ হল হৃদযন্ত্র সংকোচনের (সিস্টোল) সময় ধমনীগুলিতে সৃষ্ট সর্বোচ্চ চাপ। যখন হৃদপিণ্ড সংকুচিত হয়ে রক্তকে ধমনীগুলির মধ্য দিয়ে পাম্প করে, তখন ধমনীর দেয়ালে যে চাপের সৃষ্টি হয় তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ বলা হয়। রক্তচাপ পরিমাপের সময় এটি উপরের সংখ্যা হিসাবে প্রকাশিত হয় (যেমন, 120/80 mmHg হলে 120 হলো সিস্টোলিক রক্তচাপ)। এটি হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ।
রাফিনের আব্বার উপসর্গগুলির ভিত্তিতে বলা যায় যে তিনি সম্ভবত ডায়াবেটিস (বহুমূত্র রোগ) রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
ব্যাখ্যা:
ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদী (ক্রনিক) রোগ যেখানে দেহে ইনসুলিন নামক হরমোনের কার্যকারিতা কমে যায় বা দেহ পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারে না। এর ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:
- ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রক্তে উচ্চ গ্লুকোজের মাত্রা ক্ষত নিরাময়ে বাধা সৃষ্টি করে, ফলে ক্ষত শুকাতে বেশি সময় লাগে।
- চামড়া শুকিয়ে যাওয়া: ডায়াবেটিসের কারণে শরীরের পানি ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়, ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
- সহজেই ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়া: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায় না, ফলে সহজেই ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভূত হয়।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন অপরিহার্য। ডাক্তার সাধারণত রোগীদের জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে থাকেন যাতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
■ রক্ত (Blood) কী ?
সাধারণত শরীরের কোন অংশে কেটে গেলে লাল রঙের যে তরল পদার্থ বের হয়ে আসে, তাই রক্ত।
▪︎রক্ত হচ্ছে প্লাজমা ও প্লাজমায় ভাসমান বিভিন্ন কোষীয় উপাদানে গঠিত জটিল তরল টিস্যু।
▪︎রক্ত (Blood) হল মানুষের দেহের এক প্রকার
তরল যোজক কলা (Liquid Connective Tissue)
যা কোষবহুল, বহু জৈব ও অজৈব পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত সামান্য লবণাক্ত, আঠালো, ক্ষারধর্মী লালবর্ণের ঘন তরল পদার্থ এবং হৃৎপিন্ড, ধমনী, শিরা ও কৈশিক জালিকার মধ্য দিয়ে নিয়মিত প্রবাহিত হয়ে দেহে অক্সিজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড ও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ পরিবাহিত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!