উদ্দীপকের কবির বৈশাখ আহ্বানের সঙ্গে 'বোশেখ' কবিতার কবির আহ্বানের উদ্দেশ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।-উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের কবির বৈশাখ আহ্বানের সঙ্গে 'বোশেখ' কবিতার কবির আহ্বানের উদ্দেশ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।- উক্তিটি যথার্থ।

বৈশাখের আগমন বলতেই নতুনের আগমনের কথা মনে হয়। আবার বৈশাখের রুদ্ররূপ ভয়ংকর হয়। সবাই বৈশাখের আগমন কামনা করে পুরানো সবকিছুকে দূর করে দেওয়ার জন্য। বৈশাখের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম কারও কাম্য নয়।

উদ্দীপকের কবি বৈশাখকে আহ্বান করেছেন পুরানো, জরা-জীর্ণ, শুষ্কতা সব দূর করতে। সব দুঃখ, ব্যথা, বেদনা ভুলে শান্তি পাঠ করতে। সেখানে বৈশাখের তীব্রতায় মানুষের জেগে ওঠার আহ্বান রয়েছে। 'বোশেখ' কবিতায় কবি লক্ষ করেছেন বৈশাখী বাতাস শুধু গরিব, দুঃখী, অসহায় মানুষের ওপর নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা দেখিয়ে থাকে। অথচ শ্রমিকের শ্রম শোষণ করে যারা দালান তৈরি করে তাদের একটা ইটও সে খসাতে পারে না। তাই কবি বৈশাখকে আহ্বান করেছেন- গরিবের নয়, যারা অন্যের শ্রম শোষণ করে দালান গড়ছে তাদের বাহাদুরি গুঁড়িয়ে ফেলার জন্য।

বোশেখ কবিতায় কবি বৈশাখের আগ্রাসী থাবার কথা যেমন বলেছেন তেমনই তার শিকার গরিব মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েছেন। তিনি বৈশাখকে গরিবের জন্য ক্ষতিকর না হয়ে ধনীর জন্য বিধ্বংসী হতে বলেছেন। উদ্দীপকেও কবি প্রকৃতিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য বৈশাখকে আহ্বান করেছেন। আর 'বোশেখ' কবিতার কবি অত্যাচারীদের পতনের জন্য বৈশাখকে আহ্বান করেছেন। এই বিবেচনায় উক্তিটি যথার্থ।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
107

যে বাতাসে বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায়

জেটের পাখা দুমড়ে শেষে আছাড় মারে

নদীর পানি শূন্যে তুলে দেয় ছড়িয়ে

নুইয়ে দেয় টেলিগ্রাফের থামগুলোকে।

 

সেই পবনের কাছে আমার এই মিনতি

তিষ্ঠ হাওয়া, তিষ্ঠ মহাপ্রতাপশালী,

গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে কী লাভ?

কী সুখ বলো গুঁড়িয়ে দিয়ে চাষির ভিটে?

 

বেগুন পাতার বাসা ছিঁড়ে টুনটুনিদের

উল্টে ফেলে দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি

হে দেবতা, বলো তোমার কী আনন্দ,

কী মজা পাও বাবুই পাখির ঘর উড়িয়ে?

 

রামায়ণে পড়েছি যার কীর্তিগাথা

সেই মহাবীর হনুমানের পিতা তুমি ?

কালিদাসের মেঘদূতে যার কথা আছে

তুমিই নাকি সেই দয়ালু মেঘের সাথী ?

 

তবে এমন নিঠুর কেন হলে বাতাস

উড়িয়ে নিলে গরিব চাষির ঘরের খুঁটি

কিন্তু যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে

তাদের কোনো ইট খসাতে পারলে নাতো। 

 

হায়রে কতো সুবিচারের গল্প শুনি,

তুমিই নাকি বাহন রাজা সোলেমানের

যার তলোয়ার অত্যাচারীর কাটতো মাথা

অহমিকার অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দিতো।

 

কবিদের এক মহান রাজা রবীন্দ্রনাথ

তোমার কাছে দাঁড়িয়েছিলেন করজোড়ে

যা পুরানো শুষ্ক মরা, অদরকারি

কালবোশেখের একটি ফুঁয়ে উড়িয়ে দিতে।

 

ধ্বংস যদি করবে তবে, শোনো তুফান

ধ্বংস করো বিভেদকারী পরগাছাদের

পরের শ্রমে গড়ছে যারা মস্ত দালান

বাড়তি তাদের বাহাদুরি গুঁড়িয়ে ফেলো।
 

Related Question

View All
উত্তরঃ

কবি পবনের কাছে মিনতি করেছেন যেন গরিব-দুঃখীদের দুর্দশার মাত্রা আর না বাড়ে।

কবি পবন অর্থাৎ বাতাসের কাছে মিনতি করেছেন স্থির হওয়ার জন্য। কারণ বৈশাখের মহাপ্রতাপশালী বাতাসে গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে যায়। এতে তার জীবিকা অর্জনও থমকে যায়। চাষির নড়বড়ে ঘরটি বৈশাখের ঝড়ের প্রতাপে গুঁড়িয়ে গেলে সে নিরাশ্রয় হয়ে পড়ে। এসব কারণে কবি গরিব-দুঃখীদের প্রতি সহমর্মী হয়ে পবনের কাছে স্থির হওয়ার জন্য মিনতি করেছেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
711
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত দরিদ্র শ্রেণির সঙ্গে রিলিফ কমিটির আচরণের মধ্যে 'বোশেখ' কবিতায় প্রকাশিত শ্রমজীবী মানুষের অসহায়ত্ব এবং তাদের ওপর শোষকদের নিষ্পেষণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

'আমাদের এ সমাজব্যবস্থা এমন এক ধারার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে যেখানে দরিদ্ররা সব জায়গায়ই বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের ওপর নিষ্পেষণ ও বঞ্চনার স্টিম রোলার চালানো হচ্ছে। মানুষ কিংবা প্রকৃতি- সবকিছুই তাদের বিরুদ্ধে। সমাজের ধনীরা গরিবের শ্রমে অর্জিত সম্পদ ভোগ করছে, তাদেরকে ন্যায্য পাওনা থেকেও বঞ্চিত করছে।

উদ্দীপকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের বঞ্চনার শিকার হওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি বন্যার্তদের ওপর রিলিফ কমিটির আচরণের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। তাদের বরাদ্দের চেয়ে কম ত্রাণ দেওয়ার প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর চালানো হয় নির্যাতন। অথচ ধনীদের বরাদ্দের অতিরিক্ত ত্রাণ পৌছে দেওয়া হয়। এ বিষয়টি 'বোশেখ' কবিতায়ও প্রতিফলিত হয়েছে। কালবৈশাখি ঝড় বয়ে গেলে দরিদ্র মানুষের বেশি ক্ষতি হয়। তাদের বহু কষ্টের ফসল, আশ্রয় ধ্বংস হয়। অথচ ধনীদের প্রাসাদ ঠিকই অক্ষত থাকে। উদ্দীপকের বিষয়টি কবিতার এই ভাবকেই প্রতিকায়িত করেছে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
259
উত্তরঃ

"উদ্দীপকটি 'বোশেখ' কবিতার একটা খন্ডচিত্র মাত্র, পূর্ণরূপ নয়"- মন্তব্যটি যথার্থ।

বর্তমান সমাজব্যবস্থায় ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য চরম পর্যায়ে পৌছেছে। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে দরিদ্র ও শ্রমজীবীরা শোষণের শিকার হচ্ছে। শোষকরা ছলে, বলে, কৌশলে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখছে। সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সবখানেই দরিদ্র মানুষের জীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করছে।

উদ্দীপকে দরিদ্র মানুষের অসহায়ত্ব ও শোষণের চিত্র উঠে এসেছে। বন্যার কারণে বাস্তুহারা অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ সমাজের প্রভাবশালীরা আত্মসাৎ করে গরিবদের বঞ্চিত করে ধনীদের কাছে পৌছে দেয়। দরিদ্র মানুষের এই দুর্দশা ও অসহায়ত্বের চিত্র 'বোশেখ' কবিতায়ও প্রকাশ পেয়েছে। তবে এ ভাবই কবিতার একমাত্র দিক নয়। এ দিকটি ছাড়াও কবিতায় নানাবিধ বিষয় ও ভাবের প্রকাশ ঘটেছে।

'বোশেখ' কবিতায় কবি বৈশাখের বিধ্বংসী ঝড়কে মহাপ্রতাপশালী আখ্যা দিয়ে তাকে দরিদ্র মানুষের সর্বনাশ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। তিনি হিংস্র থাবায় গরিবের বাসস্থান, দরিদ্র মাঝির পালের দড়ি, অসহায় পাখিদের বাসা ধ্বংস না করতে বলেছেন। যারা শ্রমজীবীদের শোষণ করে অট্টালিকা গড়ে তুলেছে সেই অট্টালিকা যেন কালবৈশাখি ঝড়ে গুঁড়িয়ে যায়। মূলত এ কবিতায় কবি বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন। কবিতার এসব বিষয় ও ভাব উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
202
উত্তরঃ

যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে বাতাস তাদের প্রাসাদের ইট খসাতে পারে না।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
339
উত্তরঃ

'বোশেখ' কবিতায় বৈশাখী বাতাস মহাপ্রতাপশালী।

'বোশেখ' কবিতায় কবি বলেছেন, বৈশাখী বাতাসে বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায়। এছাড়া কালবৈশাখি বাতাস গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে ফেলে। চাষির ভিটে গুঁড়িয়ে দেয়। টুনটুনিদের বেগুন পাতার বাসা ছিঁড়ে ফেলে। দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি উলটে ফেলে দেয়। বাবুই পাখির ঘর উড়িয়ে নিয়ে যায়। গরিব চাষির ঘর উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও রাখে বৈশাখী বাতাস। মূলত 'বোশেখ' কবিতায় কবি বৈশাখী বাতাসের ধ্বংসাত্মক রূপ তুলে ধরেছেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
327
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews