গীতিকার তৌহিদুল ইসলাম একজন বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। বই পড়ার প্রতি তার প্রবলআগ্রহ। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার নিজ বাড়িতে একটিগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন। আশে-পাশের মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ারজন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকেন। এ মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে 'প্রথমআলো' পত্রিকা তাঁকে জাতীয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক সম্মাননা প্রদান করেন। রংপুর বেতারেরআঞ্চলিক পরিচালক ড. হারুনুর রশিদ তাঁর গ্রন্থাগারে অনুদানস্বরূপ বিভিন্ন ধরনের বইদিয়েছেন। তাঁরই একজন স্বজন রহিম বলেন, "শুধু বই কিনে অর্থের অপচয় করারকোনো সার্থকতা নেই। বরং স্কুল কলেজের নির্ধারিত পাঠ্যবই পড়লেই আলোকিত সমাজগড়া সম্ভব।"

“উদ্দীপকের গীতিকার তৌহিদুল ইসলামের প্রচেষ্টাই 'বইপড়া' প্রবন্ধের মূলসুর”-বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতা)

Updated: 2 months ago
উত্তরঃ

‘বইপড়া’ প্রবন্ধটি মানবজীবনে পাঠাভ্যাস ও জ্ঞানচর্চার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। উদ্দীপকের গীতিকার তৌহিদুল ইসলাম তাঁর ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় একটি গ্রন্থাগার স্থাপন করে এবং মানুষের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে 'বইপড়া' প্রবন্ধের মূলসুরকেই মূর্ত করে তুলেছেন।

প্রমথ চৌধুরীর 'বইপড়া' প্রবন্ধে পরীক্ষাপাশের জন্য পড়াশোনার গণ্ডি পেরিয়ে জ্ঞানার্জন ও মনের বিকাশের জন্য অবাধ গ্রন্থপাঠের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকে তৌহিদুল ইসলাম একজন শিক্ষক হয়েও শুধু নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বই পড়ার প্রতি নিজের প্রবল আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে নিজ বাড়িতে একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছেন। এটি তাঁর উদার ও প্রগতিশীল মানসিকতার পরিচয়, যা 'বইপড়া' প্রবন্ধে কাঙ্ক্ষিত জ্ঞানচর্চার পরিবেশের অনুরূপ। তিনি আশেপাশের মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য যে আপ্রাণ চেষ্টা করেন, তা প্রবন্ধের 'বইপড়া'র মাধ্যমে মানব মনের মুক্তি সাধনের চেতনারই প্রতিফলন।

'বইপড়া' প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন যে, যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে স্বশিক্ষিত হওয়া আবশ্যক এবং এর জন্য দরকার অবাধ গ্রন্থপাঠের সুযোগ। এক্ষেত্রে তৌহিদুল ইসলামের গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা ও জ্ঞান বিতরণের প্রচেষ্টাটি প্রবন্ধের মূল ভাবকে সমর্থন করে। অন্যদিকে, তাঁর স্বজন রহিমের "শুধু বই কিনে অর্থের অপচয় করার কোনো সার্থকতা নেই। বরং স্কুল কলেজের নির্ধারিত পাঠ্যবই পড়লেই আলোকিত সমাজ গড়া সম্ভব" উক্তিটি 'বইপড়া' প্রবন্ধের মূল চেতনার সম্পূর্ণ বিরোধী। প্রমথ চৌধুরী দেখিয়েছেন যে, কেবল পুঁথিগত বিদ্যা বা পাশ করার জন্য বই পড়া মানুষের মনকে সতেজ ও সজীব রাখতে পারে না, বরং এতে মনের শক্তি কমে যায়। একমাত্র অবাধ বইপড়ার মাধ্যমেই মানুষ প্রজ্ঞাবান ও সত্যিকারের জ্ঞানী হয়ে ওঠে, যা তৌহিদুল ইসলামের কর্মের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

সুতরাং, উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, উদ্দীপকের তৌহিদুল ইসলাম কেবল পরীক্ষামুখী পাঠ্যপুস্তকনির্ভর শিক্ষার বাইরে গিয়ে বই পড়ার আনন্দ ও জ্ঞানার্জনের জন্য গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে যে মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তা 'বইপড়া' প্রবন্ধের মর্মবাণীকে ধারণ করে। তাঁর এই প্রচেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে আলোকিত হওয়ার পাশাপাশি সমাজকে আলোকিত করার যে আদর্শ, তাই 'বইপড়া' প্রবন্ধের মূল সুর।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
53

Related Question

View All
উত্তরঃ মৌলিক মানবিক চাহিদার দাবি রক্ষা না করলে মানুষের দেহ বাঁচে না।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
86
উত্তরঃ

‘সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত’—এই উক্তিটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, প্রকৃত শিক্ষা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ব্যক্তির নিজস্ব আগ্রহ, প্রচেষ্টা ও অনুসন্ধিৎসু মনের ফল। একজন ব্যক্তি তখনই সুশিক্ষিত হয়ে ওঠে যখন সে কেবল পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান নয়, বরং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বপ্রণোদিত হয়ে জ্ঞান অর্জন করে এবং সে জ্ঞানকে আত্মস্থ করে নিজের ও সমাজের উপকারে লাগাতে পারে।

প্রথাগত শিক্ষা মানুষের জ্ঞানের পথ উন্মুক্ত করে দিলেও প্রকৃত সুশিক্ষা অর্জনের জন্য ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। নিজের ইচ্ছায়, অনুসন্ধানের মাধ্যমে এবং জ্ঞান অর্জনের নিরন্তর সাধনার মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি সত্যিকারের জ্ঞানী বা সুশিক্ষিত হয়ে ওঠে। প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানকে নিজের মেধা ও মনন দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে যখন একজন ব্যক্তি আত্মোপলব্ধি করতে শেখে, তখনই সে স্বশিক্ষিত হয়ে সুশিক্ষার অধিকারী হয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
64
উত্তরঃ

উদ্দীপকের রহিমের মনোভাব 'বইপড়া' প্রবন্ধের সেই দিকটিকে ইঙ্গিত করে যেখানে পাঠ্যপুস্তক-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার সংকীর্ণতা এবং অতিরিক্ত বই পড়ার প্রতি অনীহা প্রকাশ পায়। প্রমথ চৌধুরী তাঁর প্রবন্ধে কেবল পাঠ্যবই পড়ে শিক্ষিত হওয়ার ধারণাকে সমালোচনামূলকভাবে তুলে ধরেছেন, যেখানে রহিম বই কিনে অর্থের অপচয় মনে করেন এবং কেবল পাঠ্যবই পড়াকেই যথেষ্ট মনে করেন।

প্রমথ চৌধুরীর 'বইপড়া' প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য হলো, মনের প্রসারতা ও প্রকৃত জ্ঞানার্জন কেবল পাঠ্যপুস্তক পড়ে সম্ভব নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন অপ্রধান বই পড়া। রহিম মনে করেন, শুধু স্কুল-কলেজের নির্ধারিত পাঠ্যবই পড়লেই আলোকিত সমাজ গড়া সম্ভব এবং বই কিনে অর্থের অপচয়ের কোনো সার্থকতা নেই। তার এই মনোভাব প্রবন্ধের সেই অংশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে শিক্ষাব্যবস্থায় আনন্দবিহীন এবং ফলসর্বস্ব পাঠ্যপুস্তক পড়ার প্রবণতার কথা বলা হয়েছে।

রহিমের এই মনোভাব বর্তমান সমাজের অনেক মানুষের চিন্তাভাবনারই প্রতিচ্ছবি, যেখানে বিদ্যাকে শুধুমাত্র পরীক্ষার বৈতরণী পার হওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়। এতে পঠিত জ্ঞানের গভীরতা বা মনের সার্বিক বিকাশ ব্যাহত হয়। প্রমথ চৌধুরী এই সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে গিয়ে জ্ঞানার্জনের জন্য অবাধ ও আনন্দের সঙ্গে বই পড়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন, যা রহিমের ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
57
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews