উত্তরঃ
উদ্দীপকের ঘানিম আল মিফতাহ তার মায়ের অসাধারণ সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণার কারণে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও জীবনে সফল হতে পেরেছে। অপরদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শুভা’ গল্পের বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী সুভার জীবনে এমন সমর্থন ও মমত্বের অভাবই তার গভীর মর্মবেদনার কারণ। প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সুভার প্রেক্ষাপটে ঘানিমের মায়ের মতো সহযোগিতার গুরুত্বকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে তুলে ধরেছে।
উদ্দীপকে আমরা দেখি, ঘানিম জন্ম থেকেই কোমরের নিচের অংশহীন। কিন্তু তার মা কোনো হতাশার শিকার না হয়ে বরং স্বামীকে নিয়ে পুত্রের ডান ও বাম পা হয়ে ওঠার অঙ্গীকার করেন। মায়ের অদম্য সাহস ও নিবিড় পরিচর্যা ঘানিমকে স্কুলের সহপাঠীদের কটু কথা সত্ত্বেও নিজেকে এক অতুলনীয় ব্যক্তিত্বে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। এই মায়ের সক্রিয় ও ইতিবাচক মানসিক সমর্থনই ঘানিমকে একজন সফল উদ্যোক্তা ও বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত অনুকরণীয় মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে, ‘শুভা’ গল্পের সুভা ছিল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তার বাবা-মা তাকে নিয়ে চিন্তিত হলেও, ঘানিমের মায়ের মতো করে তাকে বুঝার, তার ভেতরের জগতকে আবিষ্কার করার বা তাকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার মতো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেননি। বরং তারা সুভাকে একপ্রকার বোঝা মনে করতেন, যার ফলে সুভা নিজেকে সমাজের অযোগ্য ও বোঝা মনে করত এবং প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে একাকিত্বে ভুগত।
এই দুই চরিত্রের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ঘানিমের মায়ের মতো প্রজ্ঞা, সাহস, এবং সক্রিয় সহযোগিতা পেলে সুভার জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত। ঘানিমের মা যেমন তার পুত্রের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার প্রেরণা দিয়েছেন, তেমনি সুভার মা যদি তার নীরবতাকে উপলব্ধি করে তার অনুভূতি প্রকাশের ভিন্ন পথ খুঁজে দিতেন, তাকে সমাজের সামনে সাহসের সাথে তুলে ধরতেন এবং তার ভেতরের সৌন্দর্যকে চিনতে ও প্রকাশ করতে সাহায্য করতেন, তাহলে সুভার হৃদয়ের মর্মবেদনা অনেকটাই লাঘব হতো। সে হয়তো নিজের বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধকতাকে একটি সীমাবদ্ধতা হিসেবে না দেখে, অন্য কোনো উপায়ে নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করতে পারত এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে বাঁচতে শিখত। মায়ের এই ধরনের সমর্থন পেলে সুভা নিজেকে বোঝা না ভেবে, নিজের অনন্যতা নিয়ে বাঁচতে পারত এবং সমাজের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার নতুন সূত্র খুঁজে পেত।
অতএব, উদ্দীপকের ঘানিমের মায়ের মতো সহযোগিতা পেলে সুভা তার হৃদয়ের মর্মব্যথা ভুলে নতুনভাবে বাঁচার সূত্র দেখত— মন্তব্যটি যথার্থ। একটি শিশুর জীবনে, বিশেষ করে যে শিশু প্রতিবন্ধকতার শিকার, তার বাবা-মায়ের সক্রিয় সমর্থন, মানসিক জোর ও প্রজ্ঞা তাকে সমাজের সকল বাধা অতিক্রম করে সফল ও আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।