মৌল মানবিক চাহিদা ছয়টি। যথা- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও চিত্তবিনোদন।
শিক্ষা বলতে মানুষের সহজাত মানবীয় প্রতিভা ও অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা বিকাশের মাধ্যমকে বোঝায়।
শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তিকে পরিবর্তিত আর্থ-সামাজিক চাহিদা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য বিধানে সক্ষম করে তোলা সম্ভব হয়। এ কারণে শিক্ষা অন্যান্য মৌলিক চাহিদা থেকে আলাদা। শিক্ষার অভাবে মানুষের মধ্যে নিরক্ষরতা, অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়। শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত মানুষ নিজ অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারে না।
উদ্দীপকের ছবিটিতে মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মৌল মানবিক চাহিদা খাদ্যের অভাব পরিলক্ষিত হয়।
মৌল মানবিক চাহিদার মধ্যে প্রথম ও সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো খাদ্য। একজন মানুষের শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশ এবং কর্মশক্তি দানে পরিমিত ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করা আবশ্যক। এছাড়া যে জৈব উপাদান গ্রহণের মাধ্যমে জীবদেহের গঠন, ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন, অভ্যন্তরীণ ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ, তাপ ও শক্তি উৎপাদন, পেশি পরিচালনা ও রোগ-প্রতিরোধের মাধ্যমে দেহকে সুস্থ ও সবল রাখে তাকেই খাদ্য বলে। খাদ্যের উপাদান ছয়টি। যথা- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, লবণ ও পানি। এর অভাবে মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভোগে। তাই মানুষের শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের জন্য খাদ্যের এসকল উপাদানগুলো গ্রহণ করা জরুরি।
উদ্দীপকের ছবিতে অপুষ্টির শিকার একজন মানুষের চিত্র ফুটে উঠেছে। যা খাদ্যের অভাবে সৃষ্ট পুষ্টিহীনতাকেই নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ছবিতে মৌল মানবিক চাহিদা খাদ্যের অভাব রয়েছে।
বাংলাদেশে উক্ত মৌল মানবিক চাহিদা অর্থাৎ খাদ্যের চাহিদা পূরণ না হলে নানা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
সমাজে মানুষের স্বাভাবিকভাবে ও মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার জন্য তার মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করা অপরিহার্য। কিন্তু দারিদ্র্য, জনসংখ্যাধিক্য, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বেকারত্ব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রভৃতি কারণে অনেক সময় বাংলাদেশের জনগণ মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। ফলে পুষ্টিহীনতা, স্বাস্থ্যহীনতা, অপরাধ প্রবণতা, বস্তি সমস্যা, নিরক্ষরতার মতো বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের ছবিতে একজন কংঙ্কালসার মানুষের চিত্র দেখানো হয়েছে। যা মৌল মানবিক চাহিদা খাদ্য গ্রহণের অভাবজনিত লক্ষণকে নির্দেশ করে। একজন মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য পরিমিত খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য। এর অভাবে মানুষ স্বাস্থ্যহীনতায় ভোগে। বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে পারছে না বলেই তারা আজ পুষ্টিহীনতার শিকার। এছাড়া দেশের বেশির ভাগ লোক নিরক্ষর। নিরক্ষরতার কারণে তাদের পুষ্টিজ্ঞান সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। সেই সাথে বাসস্থান সংকটের কারণে অস্বাস্থ্যকর গৃহ ও বস্তিতে বসবাসের ফলে পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। দারিদ্র্যের কারণে রোগ-ব্যাধির উপযুক্ত চিকিৎসা সম্ভব হয় না। ফলে স্বাস্থ্যহীনতা ও অপুষ্টির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে শতকরা ৫০ জন শিশু পুষ্টিহীন এবং এ কারণে ২ লাখ শিশু মারা যায়। এছাড়া শতকরা ১৫জন শিশু ভিটামিন-এ এর অভাবে রাতকানা রোগে আক্রান্ত। পুষ্টিহীনতার জন্য ৬০ ভাগ মহিলা রক্তস্বল্পতায় ভোগে। বর্তমানে বাংলাদেশে পুষ্টিহীনতার পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আর এসকল সমস্যার মূলে রয়েছে অপূরিত মৌল মানবিক চাহিদা খাদ্য।
সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশে খাদ্যের মতো মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ না হলে উপরোল্লিখিত সমস্যা হতে পারে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allকোন কিছুর প্রয়োজন পূরণের বিশেষ তাগিদ অনুভব করা হলো চাহিদা।
চাহিদা হলো অবশ্য পূরণীয় প্রয়োজন। নিজের জীবন রক্ষার জন্য মানুষকে যেসব প্রয়োজন অবশ্যই পূরণ করতে হয় সেসবই চাহিদা।
মানুষের দৈহিক, মানসিক, আর্থিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রয়োজন চাহিদার মধ্যে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে, মানুষের চাহিদার কোন অন্ত নেই।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবে বস্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।
বস্ত্র মানবজীবনের জন্য অপরিহার্য মৌল মানবিক চাহিদা। এটি মানুষের লজ্জা নিবারণ করে। মানুষের ব্যক্তিত্ব এবং চরিত্রের বিকাশে বস্ত্রের গুরুত্ব অত্যধিক। মানবসভ্যতার প্রথম নির্দেশক হিসেবে বস্ত্রই মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দান করেছে। এটি সভ্যতা ও সংস্কৃতির পরিচায়ক। তাছাড়া এটিই মানুষকে শীত, তাপ, ধুলোবালি, রোগ-জীবাণু প্রভৃতি থেকে রক্ষা করে।
উদ্দীপকের হাসনা ও তার ছোট দুই ভাই-বোনের প্রয়োজনীয় শীতের পোশাক নেই। ফলে তারা শীতকালে ঠান্ডায় কষ্ট পায় এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। এ থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকে মৌল মানবিক চাহিদা বস্ত্রের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক কারণে বাংলাদেশের সব শ্রেণির মানুষের পক্ষে বস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক মানবিক চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে বক্তব্যটির যথার্থতা রয়েছে।
মৌল মানবিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্যের পরেই বস্ত্রের স্থান। বস্তু সভ্যতার সর্বপ্রথম নির্দেশক। কিন্তু এ খাতে আমাদের দেশের বার্ষিক গড় কাপড়ের চাহিদা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ বজ্রনীতি, বস্ত্রখাতের অনিয়ম, প্রতিকূল পরিবেশ, দুর্ঘটনা, উৎপাদন হ্রাস ইত্যাদিকে চিহ্নিত করা হয়। অনুমান করা হয়, মাথাপিছু বার্ষিক গড়ে ১০ মিটার কাপড়ের ব্যবহার জরুরি হলে ১৫ কোটি ৮৯ লাখ জনসংখ্যার জন্য ১৫৮.৯ কোটি মিটার কাপড়ের প্রয়োজন হবে। অথচ মে ২০১২ তে প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান পকেট বুক এর তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে মাথাপিছু বার্ষিক পুরাতন কাপড় প্রাপ্তি ০.০৩ মিটার এবং নতুন কাপড় ১৫.৭ মিটার। অর্থাৎ বাংলাদেশে বস্ত্রের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ পুরনো কাপড় বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের দরিদ্র জনগণ প্রয়োজনীয় বস্ত্রের চাহিদা পূরণ করতে পারেনা। এখনও গ্রামের গরিব কৃষক একটি লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরে এবং গ্রামের দরিদ্র নারী একটি মোটা কাপড় পড়ে বছর পার করে দেয়। বস্ত্রের অভাবে গ্রাম ও শহরের অসংখ্য দরিদ্র ও দুস্থ মানুষ শীত ও গ্রীষ্মকালে প্রতিকূল পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন করছে। যার চিত্র হাসনা ও তার পরিবারের মাধ্যমে উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
সামগ্রিক আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সব শ্রেণির মানুষের পক্ষে বস্ত্রের চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না- বক্তব্যটি সঠিক।
পৃথিবীতে বেঁচে থাকা এবং শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ঘটাতে হলে খাদ্যের প্রয়োজন। তাই মানবজীবনের সবচেয়ে প্রথম ও প্রয়োজনীয় চাহিদা হলো খাদ্য।
খাদ্য বলতে ঐসব বস্তু বা দ্রব্যকে বোঝায় যা শরীরে হজম হয় এবং শরীরের বৃদ্ধি ও কর্মশক্তি যোগানে সাহায্য করে। খাদ্য না খেলে মানুষের স্বাভাবিক জ্ঞান ও বুদ্ধি লোপ পায়। খাদ্য ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!