উদ্দীপকের প্রত্নসম্পদগুলো আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক ও বাহক, তাই এগুলো যথাযথ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
কোনো দেশ বা জাতির প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সে দেশ বা জাতির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস বা উপাদান হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশে যেসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায় তার মধ্যে কার্জন হল, পানাম নগর, সরদার বাড়ি উল্লেখযোগ্য। বাংলার তাঁত শিল্পের সুনাম বহুকালের। মসলিন জামদানি সেসময় থেকেই বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। যা আজও আমাদের ঐতিহ্যের সাথে আজও মিশে আছে। ঢাকায় প্রাচীন স্থাপত্যকীর্তির আরেকটি বিখ্যাত নিদর্শন হলো নওয়াবদের তৈরি প্রাসাদ আহসান মঞ্জিল। ইংরেজ আমলে তৈরি কার্জন হল স্থাপত্য শিল্পের এক উজ্জ্বল কীর্তি হিসেবে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে। সোনারগাঁয়ের পানাম নগরে উনিশ শতকের ধনী ব্যবসায়ীদের নির্মিত অনেক ইমারতের মধ্যে আজও ৫২টি ইমারত টিকে আছে। ১৯০১ সালে নির্মিত হয়েছে বড় দুটি প্রাসাদ নিয়ে সরদার বাড়ি। এসব প্রত্ন নিদর্শনের মধ্য দিয়ে সেকালের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, বিশ্বাস, সংস্কার, বুচি, দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। তাই প্রত্নসম্পদগুলো আমাদের যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
Related Question
View All'প্রত্ন' শব্দের অর্থ হলো পুরানো। প্রত্নসম্প বলতে পুরানো স্থাপত্য ও শিল্পকর্মা, মূর্তি বা ভাস্কর্য, অলঙ্কার, প্রাচীন আমলের মুদ্রা ইত্যাদিকে বোঝায়। এসব প্রত্ননিদর্শনের মধ্য দিয়ে সেকালের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, বিশ্বাস-সংস্কার, রুচি বা দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
ঢাকার মসজিদগুলোতে মোগল স্থাপত্যশৈলীর প্রাধান্য দেখা যায়। তবে এর সঙ্গে কিছুটা ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর মিশেলও রয়েছে। এসব মসজিদের নির্মাণশৈলী এবং কারুকাজ অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। এসব মসজিদ ঢাকার ঐতিহ্যের পরিচায়ক।
লালবাগ মসজিদ ও সিতারা বেগম মসজিদ মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। এগুলোর গঠনশৈলী চমৎকার এবং কারুকাজ অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। এই মসজিদগুলোতে মোগল শাসনামলের ঐতিহ্য ফুটে ওঠে।
শিয়াদের ইমামবাড়া এবং হোসেনি দালান শিয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। এখানে মহররমের সময় নানা ধর্মীয় কার্যক্রম পালিত হয়। ইমামবাড়া ঢাকার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রতীক। এগুলো ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ইংরেজ শাসনামলে এগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়।
ঢাকার প্রাচীন মন্দিরগুলোর মধ্যে ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রমনা কালীমন্দির বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঢাকেশ্বরী মন্দির অনেক পুরনো এবং এটি ঢাকার ঐতিহ্যের পরিচায়ক। রমনা কালীমন্দির ঔপনিবেশিক আমলে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই মন্দিরগুলো ঢাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঢাকার আর্মেনিয়ান গির্জা ১৭৮১ সালে আরমানিটোলায় নির্মিত হয়। এটি ঢাকার সবচেয়ে পুরানো গির্জা এবং আর্মেনীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্যের নিদর্শন। গির্জাটির স্থাপত্যশৈলী চমৎকার এবং এটি বর্তমানে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!