উদ্দীপকের ভাববস্তুর সাথে “আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় বর্ণিত কবির অনুভূতির সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।

Updated: 11 months ago
Add Explanation
401

আসমানের তারা সাক্ষী

সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই

নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী

সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী

পুবের পুকুর, তার ঝাকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টি

মাছরাঙা আমাকে চেনে

আমি কোনো অভ্যাগত নই

খোদার কসম আমি ভিনদেশি পথিক নই

আমি কোনো আগন্তুক নই ।

আমি কোনো আগন্তুক নই, আমি

ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে

এখানেই থাকি আর

এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা

সারা দেশে।

আমি কোনো আগন্তুক নই ৷

এই খর রৌদ্র জলজ বাতাস মেঘ ক্লান্ত বিকেলের

পাখিরা আমাকে চেনে

তারা জানে আমি কোনো অনাত্মীয় নই ।

কার্তিকের ধানের মঞ্জরী সাক্ষী

সাক্ষী তার চিরোল পাতার

টলমল শিশির – সাক্ষী জ্যোৎস্নার চাদরে ঢাকা

        নিশিন্দার ছায়া

অকাল বার্ধক্যে নত কদম আলী

তার ক্লান্ত চোখের আঁধার –

আমি চিনি, আমি তার চিরচেনা স্বজন একজন । আমি

জমিলার মা'র

শূন্য খা খা রান্নাঘর শুকনো থালা সব চিনি

সে আমাকে চেনে।

হাত রাখো বৈঠায় লাঙলে, দেখো

আমার হাতের স্পর্শ লেগে আছে কেমন গভীর । দেখো

মাটিতে আমার গন্ধ, আমার শরীরে

লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস।

আমাকে বিশ্বাস করো, আমি কোনো আগন্তুক নই ।

দু'পাশে ধানের খেত

       সরু পথ

সামনে ধু ধু নদীর কিনার

আমার অস্তিত্বে গাঁথা । আমি এই উধাও নদীর

মুগ্ধ এক অবোধ বালক ৷
 

Related Question

View All
উত্তরঃ

“জমিলার মা'র শূন্য খাঁ খাঁ রান্নাঘর শুকনো থালা সব চিনি”— এই উক্তিটি দ্বারা কবি চরম দারিদ্র্য, অভাব-অনটন এবং মানুষের মৌলিক চাহিদার অপ্রাপ্যতাকে বোঝাতে চেয়েছেন। এর মাধ্যমে একটি পরিবারের অসহায়ত্ব ও সমাজের বঞ্চনার করুণ চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যেখানে ক্ষুধা ও দরিদ্রতা মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তোলে।

এখানে 'শূন্য খাঁ খাঁ রান্নাঘর' ও 'শুকনো থালা' বলতে খাদ্যের অভাব এবং পরিবারের সদস্যদের অনাহারে থাকার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। 'সব চিনি' শব্দগুচ্ছটি গভীর হতাশা ও মেনে নেওয়ার ভঙ্গিকে প্রকাশ করে, যেখানে ক্ষুধার্ত শিশুরা খাবারের আশায় থাকে কিন্তু তা কখনোই পূরণ হয় না। এই চিত্রটি তৎকালীন বা বর্তমান সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য ও মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দেয় এবং সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রয়োজনীয়তার বার্তা বহন করে।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
958
উত্তরঃ কার্তিক

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি আহসান হাবীব কার্তিক মাসের উল্লেখ করেছেন। এই কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর নিবিড় ও আত্মিক সম্পর্ক তুলে ধরেছেন। কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে জন্মভূমি তাঁর কাছে কখনো অচেনা বা আগন্তুক নয়, বরং তাঁর সত্তার অংশ। কার্তিক মাসকে তিনি তাঁর গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্মৃতি জাগিয়ে তোলার জন্য ব্যবহার করেছেন, যা জন্মভূমির প্রতি তাঁর অবিচ্ছেদ্য ভালোবাসাকে প্রকাশ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
635
উত্তরঃ

কদম আলী চরম দারিদ্র্য, অপুষ্টি এবং অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রমের কারণে অকাল বার্ধক্যে নত। তার জীবনজুড়ে ছিল অভাব-অনটন আর টিকে থাকার কঠিন সংগ্রাম, যা তাকে অল্প বয়সেই জরাগ্রস্ত করে তুলেছে।

অভাবের তাড়নায় সুষম খাদ্যের অভাব, রোগের চিকিৎসা না পাওয়া এবং দিনরাত শারীরিক শ্রমের ধকল মানুষের দেহ ও মনকে দ্রুত নিস্তেজ করে দেয়। এর ফলে স্বাভাবিক সময়ের আগেই শরীর দুর্বল, শীর্ণ ও রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে, যা বাহ্যিকভাবে অকাল বার্ধক্য হিসেবে প্রতীয়মান হয় এবং একজন ব্যক্তিকে কর্মক্ষমতা হারানোর দিকে ঠেলে দেয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
1.3k
উত্তরঃ

‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার মূল সুর হলো জন্মভূমির প্রতি কবির অবিচ্ছেদ্য টান ও আত্মিক সম্পর্ক। কবি তার জন্মভূমিকে শুধুমাত্র একটি স্থান হিসেবে দেখেন না, বরং এর প্রতিটি ধূলিকণা, গাছপালা, নদীনালা, আকাশ-বাতাস এবং মানুষের সাথে নিজেকে একাত্ম মনে করেন। এই ভূমি তার অস্তিত্বের অংশ, যেখানে তিনি কোনো আগন্তুক নন, বরং এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত।

উদ্দীপকের সুমন বহু বছর পর তার গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসে এবং জন্মভূমির প্রতি তার গভীর টান ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে। গ্রামের লোকজনের উৎসুক দৃষ্টি, স্কুল বন্ধু ফরিদকে জড়িয়ে ধরা, তার ক্লান্ত চোখের চাহনিতে মর্মাহত হওয়া এবং বাড়ির আমগাছে টিয়া-শালিক দেখে রোমাঞ্চিত হওয়া – এ সবকিছুই সুমনের তার শেকড়ের প্রতি প্রবল আকর্ষণ ও একাত্মতার পরিচয় বহন করে। সে তার জন্মভূমির স্মৃতি ও অস্তিত্বের সাথে পুনরায় মিশে গিয়ে আনন্দিত হয়, যা তাকে নিজের আপন ভূমিতে ফিরে আসার অনুভূতি দেয়।

এই দিক থেকে, সুমনের ভাবনা 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির ভাবনার সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। উভয় ক্ষেত্রেই জন্মভূমির প্রতি এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক, মমত্ববোধ এবং নিজেকে জন্মস্থানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উপলব্ধি করার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। সুমন যেমন বহু বছর পর নিজ ভিটেতে ফিরে এসে তার জন্মভূমির প্রতিটি উপাদানের সাথে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করে, তেমনি কবিও তার জন্মভূমির সাথে নিজেকে অবিচ্ছিন্ন সত্তা হিসেবে ঘোষণা করেন। এই টানই তাদের উভয়কে জন্মভূমির সাথে যুক্ত করে আগন্তুক না হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করায়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
515
উত্তরঃ

‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার মূল সুর হলো জন্মভূমির সঙ্গে কবির এক আত্মিক ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক স্থাপন। উদ্দীপকে মামুনের জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করা কবিতার আংশিক ভাবনার প্রতিনিধিত্ব করলেও কবির ভাবনার সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটায় না।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন ঢাকায় বসবাস করে এবং ব্যস্ততার কারণে তার গ্রামের বাড়ি ফেরা হয়ে ওঠে না। সে কল্পনায় জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করে, কিন্তু শহুরে চাকচিক্যকে সে জীবনের অনুষঙ্গ করে নিয়েছে। অর্থাৎ, মামুনের মনে জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা থাকলেও কর্মব্যস্ততা ও শহুরে জীবনের প্রতি আসক্তির কারণে সে তার জন্মভূমিতে ফিরে যেতে পারছে না বা তার সঙ্গে সক্রিয় সম্পর্ক স্থাপন করতে পারছে না। তার টানটা কল্পনার জগতেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবতায় এর প্রকাশ নেই।

আহসান হাবীব রচিত ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতায় কবি তার জন্মভূমির সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কের এক দৃঢ় ও অবিচল ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি তার অস্তিত্বের প্রতিটি ধূলিকণা, প্রতিটি স্মৃতির সঙ্গে জন্মভূমির এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন অনুভব করেন। মাটি, জল, গাছপালা, মানুষ – সবকিছুই তার একান্ত আপন। কবি নিজেকে কখনো জন্মভূমির কাছে আগন্তুক বা অচেনা মনে করেন না, বরং এর প্রতিটি অংশকে নিজের সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখেন। তার এই টান শুধু কল্পনায় নয়, বরং বাস্তব অনুভূতিতে প্রোথিত, যেখানে জন্মভূমি তার পরিচয় ও সত্তার কেন্দ্রে অবস্থান করে। মামুনের এই অনুভূতি আন্তরিক হলেও তা কল্পনার জগতেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং তার শহুরে অগ্রাধিকার দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, যা কবির জন্মভূমির প্রতি সক্রিয় ও অবিচল দাবির সরাসরি বিপরীত।

এ কারণে, উদ্দীপকের মামুন জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করলেও তা ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার কবির ভাবনার সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না। কারণ কবির টান শুধু একটি আবেগ বা কল্পনা নয়, বরং জন্মভূমির সাথে তার অস্তিত্বের এক গভীর, বাস্তব ও অবিচ্ছেদ্য একাত্মতা, যা মামুন তার শহুরে জীবনের কারণে বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি। মামুনের পরিস্থিতি একটি আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে, যেখানে কবির ভাবনা জন্মভূমির প্রতি এক অনস্বীকার্য অধিকারবোধকে প্রকাশ করে। তাই বলা যায়, মামুনের অনুভব কবির ভাবনার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র, তার সম্পূর্ণতার প্রতীক নয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
430
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews