"উদ্দীপকের মমতা 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের সম্পূর্ণ বিপরীত মানসিকতা প্রকাশ করে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষ পৃথিবীতে চিরদিন বেঁচে থাকে না। তবে মহৎ কর্মের মাধ্যমে মানুষ পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকে। কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষ মৃত্যুকে জয় করে। আত্মস্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের জন্য জীবন উৎসর্গ করাই মহৎ কর্মের লক্ষণ।
'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবর পিতৃস্নেহের মধ্য দিয়ে অমরত্ব লাভ করেছেন। সন্তানম্নেহের কাছে তাঁর নিজ জীবন তুচ্ছ হয়ে গেছে। পুত্রের মঙ্গল ও সুস্থ জীবনের জন্য বাদশা বাবর নিজ প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। নিজের সর্বশ্রেষ্ঠ ধন নিজ জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন রক্ষা করেছেন। তাঁর পিতৃস্নেহের ক্লাছে মরণের পরাজয় ঘটেছে। নিঃস্বার্থ একজন পিতার মহৎ হৃদয়ের পরিচয় দিয়েছেন তিনি। সন্তানস্নেহের কাছে পৃথিবীর সবকিছু হয়ে পড়েছে মূল্যহীন। অন্যদিকে উদ্দীপকের মমতা আত্মস্বার্থে মগ্ন হয়ে বান্ধবীকে বিপদের মুখে ছেড়ে দিয়ে নিজের জীবন বাঁচায়। নিজের জীবন বাঁচানোই তার কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছে, যা তার স্বার্থপর মানসিকতারই প্রকাশ।
উদ্দীপকের মমতা নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করেছে। মহৎকর্মের মধ্য দিয়ে নিজেকে জয় করতে পারেনি। তার চিন্তা-চেতনায় স্বার্থপরতা ফুটে উঠেছে। আর 'জীবন বিনিময়' কবিতায় নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন রক্ষা করে বাদশা বাবর আত্মস্বার্থ ত্যাগের এক মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের বিষয়টি মমতার সম্পূর্ণ বিপরীত মানসিকতা প্রকাশ করে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'জীবন বিনিময়' কবিতায় প্রত্যেক মানুষের নিজের জীবনকে 'সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন' বলা হয়েছে।
কবি 'জীবন বিনিময়' কবিতায় নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলেছেন হুমায়ুনের রোগমুক্তির উপায় নেই এমন ভাব প্রকাশ পাওয়ায়।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় বাবরপুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। রাজ্যের যত চিকিৎসক আছেন সবাই আসার পরও হুমায়ুনের রোগমুক্তির কোনো উপায় হয় না। একসময় বাবর যখন রাগান্বিত হয়ে চিকিৎসকদের বলেন, রোগ থেকে বাদশাজাদার মুক্তি মিলবে কি না, তখন রোগ থেকে মুক্তি সম্ভব নয় ভেবে চিকিৎসকরা নীরব থাকেন। এ কারণেই নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলা হয়েছে।
উৎপলকে সরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে উদ্দীপকের পিতার মাঝে 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের যে পরিচয় মেলে তা হলো পুত্রের জন্য পিতার আত্মত্যাগ।
সন্তানের প্রতি পিতার স্নেহের তুলনা হয় না। পিতা হলেন সন্তানের জীবনের প্রধান ছায়া। পিতা সন্তানের সুখের জন্য হাজারো কষ্ট সহ্য করেন। সন্তানকে ভালো রাখতে পিতার চেষ্টার শেষ নেই।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় পিতৃস্নেহের মহৎ দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে। পিতার স্নেহ-বাৎসল্যের কাছে মৃত্যুর পরাজয় ঘটেছে। মোগল সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়। রাজ্যের কোনো চিকিৎসক তার রোগমুক্তির উপায় বের করতে পারেন না। শেষে যখন এক দরবেশ বাবরকে শ্রেষ্ঠ ধন কোরবানি দিতে বলেন তখন তিনি নিজের প্রাণই দিয়ে দেন। সন্তানকে ভালো রাখার জন্য এমন আত্মত্যাগ উদ্দীপকের উৎপলের পিতার মধ্যেও দেখা যায়। যখন তারা ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন তখন উৎপলকে সরিয়ে তার পিত্য ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত হন। এভাবে উদ্দীপকের পিতার মাঝে 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের আত্মত্যাগের পরিচয় মেলে।
"ভাবগত ঐক্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'জীবন বিনিময়' কবিতার ঘটনাপ্রবাহের সমার্থক নয়"- মন্তব্যটি যথার্থ।
জগতে পিতা ও সন্তানের সম্পর্ক চিরন্তন। সন্তানের সুখের জন্য অনেক পিতা নিজ জীবন পর্যন্ত দিয়ে দেন। আবার সন্তানও পিতাকে অনেক শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে। তারা একে অপরের ঢালস্বরূপ।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় পিতৃস্নেহের এক মহৎ দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে। পিতার স্নেহ-বাৎসল্যের কাছে মৃত্যুর পরাজয় ঘটেছে। কবিতায় মোগল সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। বিজ্ঞ চিকিৎসকেরা তার রোগমুক্তির কোনো উপায় বের করতে পারেন না। তারপর এক দরবেশ যখন বাবরকে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ধন কোরবানি করতে বলেন তখন বাবর উপলব্ধি করেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ধন হলো নিজের প্রাণ। তিনি বিধাতার কাছে নিজের প্রাণের বিনিময়ে অসুস্থ পুত্রের প্রাণভিক্ষা চান। উদ্দীপকেও পুত্রের প্রতি পিতার ভালোবাসার দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে। তবে 'জীবন বিনিময়' কবিতার ঘটনাপ্রবাহ অনেক বেশি হৃদয়স্পর্শী।
উদ্দীপক ও কবিতা উভয় জায়গাতেই পিতার অপত্যস্নেহ প্রকাশ পেয়েছে। তবে আলোচ্য কবিতায় পিতার প্রাণদানের বিনিময়ে পুত্রের প্রাণরক্ষা অনেক বেশি মর্মস্পর্শী। উদ্দীপকে এমন কিছুর ইঙ্গিত নেই। উদ্দীপকে পিতা ও পুত্র দুজন দুজনের ঢালস্বরূপ। তাই বলা যায়, ভাবগত ঐক্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'জীরন বিনিময়' কবিতার ঘটনাপ্রবাহের সমার্থক নয়।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় রোগ হলো বাদশাজাদা হুমায়ুনের।
"জীবন-প্রদীপ নিভিয়া আসিছে অন্তরবির প্রায়"- কথাটি দ্বারা কবি বোঝাতে চেয়েছেন, বাদশাজাদা হুমায়ুনের জীবন অন্তপ্রায় সূর্যের মতো শেষ হয়ে যাচ্ছে।
সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। রাজ্যের যত বিজ্ঞ হাকিম, কবিরাজ, দরবেশ দিন-রাত তার চিকিৎসায় ব্যস্ত। সেবা-যত্নের কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু বাদশাজাদার কঠিন রোগ কিছুতেই সারে না। যত দিন যাচ্ছে ততই দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে। হুমায়ুনের জীবন-প্রদীপ অস্তপ্রায় সূর্যের মতো নিভে যেতে বসেছে। দিনের শেষে সূর্য যেমন পশ্চিম দিগন্তে হারিয়ে যায় তেমনই বাদশাজাদা হুমায়ুনের জীবনও শেষ হয়ে যাচ্ছে- কবি প্রশ্নোক্ত কথাটির মধ্য দিয়ে এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!