উদ্দীপকে মাশফিরের এ মানসিকতা আমাদের লোকঐতিহ্য সংরক্ষণে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
লোকশিল্প যেকোনো দেশের জন্যই ঐতিহ্য ও গৌরবের বিষয়। কারণ লোকশিল্প মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। মানুষ তার প্রয়োজনীয় জিনিস খুব সহজে পেতে চায় এবং তা নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে চায়। এ ক্ষেত্রে লোকশিল্প তাদের প্রয়োজন মেটাতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সভ্যতার অগ্রযাত্রায় নগরসভ্যতার প্রভাবে লোকশিল্প তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।
উদ্দীপকে লোকশিল্পের প্রতি মাশফির ও তার বন্ধুর অনুরাগ ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। মাশফির ঈদে তার বন্ধুকে মাটির তৈরি শৌখিন সামগ্রী কিনে উপহার দিয়েছে। সেই উপহার পেয়ে বন্ধুটিও খুব খুশি হয়েছে। মাশফিরও মনে করে সবাই যদি তার মতো লোকশিল্পের দিকে এগিয়ে আসে তাহলে এদেশের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ লোকশিল্পের প্রসার ও ঐতিহ্য রক্ষা পাবে। উদ্দীপকের মাশফিরের এই মনোভাব 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধে প্রতিফলিত লেখকের মনোভাবের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। লেখক এ প্রবন্ধে লোকশিল্প সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে বলেছেন। তিনি লোকশিল্পের ভিতর দিয়ে হৃদয়-মনের প্রকাশের মাধ্যমে বিদেশিদের হৃদয়ে সাড়া জাগানোর কথা বলেছেন।
'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধে সুরুচিপূর্ণ লোকশিল্প প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিয়ে, সুপরিকল্পিত উপায়ে তা বাস্তবায়ন করে দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের মাশফিরের মানসিকতা এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে। লোকশিল্প সামগ্রীর প্রতি আগ্রহ বাড়লে এর সঙ্গে জড়িতদের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানও হবে। এই দিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মাশফিরের এ মানসিকতা আমাদের লোকঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
Related Question
View Allখুলনা এলাকার 'মাদুর' সকলের কাছে পরিচিত।
'ঢাকাই মসলিনের কদর ছিল দুনিয়া জুড়ে' বলতে ঢাকাই মসলিনের জনপ্রিয়তার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
একসময় ঢাকা শহরের অদূরে ডেমরা এলাকার তাঁতিদের দ্বারা ঢাকাই মসলিন তৈরি হতো। মসলিন তৎকালীন মোগল বাদশাহদের বিলাসের বস্তু ছিল। এ কাপড়টি অতি সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে বোনা হতো বলে ছোট্ট একটি আংটির ভিতর দিয়ে অনায়াসে কয়েকশ গজ মসলিন কাপড় প্রবেশ করানো সম্ভব ছিল। কারিগরি দক্ষতা নয়, কাপড় বোনার জন্য শিল্পীমন থাকা প্রয়োজন।
স্বামীর মৃত্যুর পর রহিমার কাজটি 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধের 'নকশিকাঁথা'র প্রতিনিধিত্ব করে।
আমাদের লোকশিল্পের একটি অন্যতম উপাদান হলো নকশিকাঁথা। নকশিকাঁথা একদিকে যেমন আমাদের ঐতিহ্যের পরিচয় দেয় অন্যদিকে তেমনই অনেক মানুষের জীবিকার উপায় হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে রহিমা স্বামী মারা যাওয়ার পর উপায়ান্তর না দেখে নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজ শুরু করে। সে নকশি তোলা কাঁথার মধ্যে নিজের জীবনের সুখ-দুঃখের স্মৃতি, নানা রকম ফুল ও নকশার মধ্যে দিয়ে সাজিয়ে তোলে। একটি বেসরকারি সংগঠনের মাধ্যমে সেগুলো বিদেশে পাঠানোর সুযোগ পেয়ে সে অনেক টাকা আয় করে। 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধটিতে যা বলা হয়েছে তা হলো- বর্ষাকালে যখন চারদিকে পানি থৈ থৈ করে, ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া যায় না, এমন মৌসুমে নকশিকাঁথা সেলাই করা হতো। মেয়েরা সংসারে কাজ শেষ করে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সেরে পাটি বিছিয়ে পানের বাটাটি পাশে নিয়ে পা মেলে বসতেন এ বিচিত্র নকশা তোলা কাঁথা সেলাইয়ের জন্য।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রহিমার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ এবং হাতে-কলমে কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখা প্রয়োজন। তা হলে নিজের উন্নতির পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন হয়।
আলোচ্য প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আমাদের লোকশিল্প শুধু আমাদের বিলাসিতা বা শৌখিনতার জন্যই নয়। বিশ্বের বহু উন্নত দেশের কাছে এ শিল্প সমাদৃত। অতীতে মোগল বাদশাহরা এ ধরনের শিল্পকে সাদরে গ্রহণ করতেন। বর্তমানেও বহু উন্নত জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ আমাদের লোকশিল্প অনেক মূল্য দিয়ে কিনে নিচ্ছে। 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধের এদিক বিবেচনায় উদ্দীপকের রহিমা একজন লোকশিল্প সংরক্ষণ ও উন্নয়নের প্রতিনিধি। রহিমার মতো হাজারো নারী এ শিল্পের সাথে জড়িত থেকে বিদেশি মুদ্রা নিয়ে আসছে দেশে। তারা দেশের অর্থনীতিকে শক্তি পার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধে শিল্পী কামরুল হাসান নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার এবং দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য যেসব কুটিরশিল্পের কথা বলেছেন নকশিকাঁথা সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। উদ্দীপকের রহিমা ছোটবেলা থেকেই বাঁশ-বেত দিয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করত। আচমকা স্বামী মারা গেলে নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজই তার সংসারে আয় করার সুযোগ করে দিয়েছে। তাই বলা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রহিমার অব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিল্পগুণ বিচারে আমাদের কুটিরশিল্প লোকশিল্পের মধ্যে পড়ে।
বর্ষাকাল নকশিকাঁথা তৈরির উপযুক্ত সময়। কারণ এ সময় বৃষ্টি থাকায় ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া যায় না এবং কৃষকবধূরা অবসর থাকে।
নকশিকাঁথা লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ লোকশিল্প। এক সময় বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে এ নকশিকাঁথা তৈরির রেওয়াজ ছিল। বর্ষাকালে যখন চারদিকে পানি থৈ থৈ করে, ঘর থেকে বের হওয়া যায় না, এমন মৌসুমই ছিল নকশিকাঁথা সেলাইয়ের উপযুক্ত সময়। মেয়েরা সংসারের কাজ শেষ করে পাটি বিছিয়ে পানের বাটাটি পাশে নিয়ে পা মেলে বসতেন, মনের মতো করে নকশিকাঁথা সেলাই করতেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!



