উদ্দীপকের যুদ্ধের সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ষোড়শ শতাব্দীতে সংঘটিত ত্রিশ বছর ব্যাপী যুদ্ধে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ জড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রাণহানি ও. সম্পদহানি ঘটে। বহুলোক পঙ্গুত্ব বরণ করে। অনেক শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমও অত্যন্ত ব্যয়বহুল। পাঠ্যবই হতে আমরা জানতে পারি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল অপরিমেয়। শুধু জীবন ও সম্পদের দিক দিয়ে বিচার করলে দেখা যায় বিগত দুইশ বছরে ইউরোপে বিভিন্ন যুদ্ধবিগ্রহে যত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার চেয়ে বহুগুণে ক্ষতি হয়েছে | প্রথম বিশ্বযুদ্ধে। এ যুদ্ধে প্রায় ১ কোটি সৈন্য মারা যায় এবং ২ কোটি সৈন্য বিভিন্ন মাত্রায় আহত হয় ও পঙ্গুত্ব বরণ করে। শুধু জার্মানির ২০ লক্ষ সৈনিক বন্দী হয়েছিল। ইংল্যান্ড এ যুদ্ধে তার ৭ লক্ষ ৪৩ হাজার নাগরিককে হারায়। ১৬ লক্ষ ৯৩ হাজার সৈন্য আহত হয়। | অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যুদ্ধরত দেশগুলো ব্যাপক ধ্বংসের শিকার হয়। ! শিল্প সমৃদ্ধ ইংল্যান্ডের জাতীয় সম্পদের প্রায় ৩ ভাগের এক ভাগ বিনষ্ট হয়। ফ্রান্সের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য ৬ থেকে ৭ গুণ বেড়ে যায়। যুদ্ধের পর কৃষি উৎপাদনকে সচল করার জন্য ফ্রান্সে একটি পশুও জীবিত ছিল না। প্রকৃতপক্ষে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ যুদ্ধোন্মাদ দেশগুলোতে ব্যাপক মানব বিপর্যয় ডেকে আনে। মহামারী, অপুষ্টি, খাদ্যাভাব প্রভৃতি কারণে যুদ্ধরত দেশগুলোর জনগণ অবর্ণনীয় দুর্দশায় নিপতিত হয়। বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো যুদ্ধের কারণে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ইউরোপ ও এশিয়ার যুদ্ধরত দেশগুলোর অবকাঠামো, রাস্তাঘাট, বীজ-কালভার্ট সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করে দেয়। শুধুমাত্র বেলজিয়ামেই জার্মান বাহিনী ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ ভবন বিধ্বস্ত করে এবং সংলগ্ন সকল কিছু পুড়িয়ে ভস্ম করে দেয়। বিশ্বের ৩৪টি দেশের মানুষের মনোবৈকল্য দেখা দেয় যা পরবর্তীতে অসংখ্য সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করে। সুতরাং এটি সুস্পষ্ট যে, উদ্দীপকের যুদ্ধের সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।
Related Question
View Allসম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়।
'লিজিয়ন অব অনার' হচ্ছে এক ধরনের উপাধি, যা ১৮০২ সালের ১৯ মে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট প্রবর্তন করেন। এটি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মাননা। লিজিয়ন অব অনার পাঁচ ভাগে বিভক্ত। যথা- ১. নাইট, ২. অফিসার, ৩. কমান্ডার, ৪. গ্র্যান্ড অফিসার ও ৫. গ্র্যান্ড ক্রস
উদ্দীপকের ঘটনাটি আমার পাঠ্যপুস্তকের ভার্সাই সন্ধির সাথে সংশ্লিষ্ট।
সারায়েভো হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয় এবং প্রায় পুরো বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তিনটি মহাদেশের ৩৪টি দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। চার বছরের অধিককাল স্থায়ী এ যুদ্ধে জার্মানি পরাজিত হলে বিজয়ী বিশ্বশক্তি জোট ১৯১৯ সালে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে জার্মানিকে একটি চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করে। সন্ধি স্বাক্ষরের পূর্বে ভার্সাই সন্ধির খসড়া জার্মানিকে দেওয়া হয়নি। তাই পরবর্তীতে জার্মানিরা এ সন্ধিকে চাপিয়ে দেওয়া সন্ধি বলে অভিহিত করে এবং প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে আড়পাড়া ও জামতৈল গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং তা দ্রুত অন্যান্য গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসে একতরফাভাবে আড়পাড়াকে দায়ী করে এবং তার ওপর ক্ষয়ক্ষতির বোঝা চাপিয়ে দেয়, যা ভার্সাই সন্ধির ঘটনাকে ইঙ্গিত করে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ভার্সাই সন্ধির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
উক্ত ঘটনার অর্থাৎ ভার্সাই সন্ধির প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী-উক্তিটি যথার্থ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের ফলে মিত্রশক্তি ১৯১৯ সালের ২৮ জুন জার্মানির কাঁধে ভার্সাই সন্ধি চাপিয়ে দেয়। এ সন্ধিতে প্রথম। বিশ্বযুদ্ধের যাবতীয় ক্ষতিপূরণ জার্মানিকে দিতে বাধ্য করা হয়।। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে জার্মানির নিকট থেকে ১৩২ বিলিয়ন স্বর্ণমুদ্রা আদায় করা হয়। জার্মানির সৈন্য সংখ্যা এক লাখে সীমিত করা হয়। যুদ্ধের সরঞ্জাম উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি নিষিদ্ধ করা
হয়। রাইন নদীর ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সকল জার্মান দূর্গ। সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। সন্ধি অনুযায়ী জার্মানি তার আলসাস
লোরেন ও খনিসমৃদ্ধ সার অঞ্চল ১৫ বছরের জন্য ফ্রান্সকে ছেড়ে দেয়। জার্মানি ভার্সাই সন্ধির কঠোরতায় ন্যুব্জ হয়ে পড়েছি জার্মানবাসী ভেতরে ভেতরে ফুসছিল এ সন্ধির নাগপাশ থেকে মুরি পাওয়ার জন্য। এ সময় উগ্র জাতীয়তাবাদী হিটলাটের আবির্ভাব ঘটে হিটলার ভার্সাই সন্ধির নিষ্ঠুরতা থেকে জার্মানবাসীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য এবং জার্মানির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য মিত্রশক্তির বিরূদ্দে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবেই ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয় এবং বিশ্ব আবার বিপর্যয়ের মুখে পতিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ভার্সাই সন্ধির ক্ষতিকর প্রভাবই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ হলো সারায়েভো হত্যাকান্ড।
উনবিংশ শতাব্দীর শেষে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মান দার্শনিক, পণ্ডিত ও ঐতিহাসিকগণ এ কথা প্রচার করতে থাকেন যে জার্মানগণ হচ্ছে বিশুদ্ধ আর্য এবং বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি। ক্রমে এ জাতীয়তাবাদী ধারণা ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, রাশিয়া প্রভৃতি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। জার্মান জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য অস্ত্রের ভাষা প্রয়োগ করে। ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার জাতিগত বিদ্বেষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ অবস্থাকে উগ্র জাতীয়তাবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!