উদ্দীপকের রাকিবকে বাবুর চরিত্রের সার্থক প্রতিনিধি বলা যায় কি? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

না, উদ্দীপকের রাকিবকে বাবুর চরিত্রের সার্থক প্রতিনিধি বলা যায় না। কেননা বাবুর চরিত্রের সব গুণ রাকিবের মাঝে প্রতিভাত হয়নি।

ত্যাগের মধ্য দিয়েই মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন মানুষের পরিচয় প্রকাশ পায়। পরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারলেই মানুষ মহৎ হয়ে ওঠে। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষের পরিচয় যথার্থ হয়।

উদ্দীপকের রাকিব একজন মহৎপ্রাণ মানুষ। সৎভাই আনিস তাকে বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে জাল উইল করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। সব জানায় পরও তিনি ভাইকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে আনেন। অন্যদিকে 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতার সম্রাট বাবুর একজন সাহসী, বীর, উদার, মানবিক ও ক্ষমাশীল একজন মহৎ মানুষ। তার কাছে রাজ্যের চেয়ে প্রজা বড়। তিনি প্রজাদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার জন্য ছদ্মবেশে দিল্লির পথে পথে ঘুরে বেড়ান। একদিন নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে মত্ত হাতির কবল থেকে এক মেথর শিশুকে উদ্ধার করেন। তাকে হত্যা করতে আসা রণবীর চৌহানকে ক্ষমা করে উদারতার ও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। উদ্দীপকের রাকিবের আচরণে বাবুরের মানবিক ও মহৎ গুণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে মাত্র। সেখানে অন্যান্য গুণ অনুপস্থিত।

'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতার সম্রাট বাবুর জ্ঞানী, বীর, সাহসী, মহৎ, উদার, মানবিক ও ক্ষমাশীল ধীরস্থির ব্যক্তি। অন্যদিকে উদ্দীপকের রাকিব চরিত্রে শুধু মহানুভবতা ও ক্ষমাশীলতা প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে অন্যান্য গুণের প্রকাশ না থাকায় রাকিবকে বাবুর চরিত্রের সার্থক প্রতিনিধি বলা যায় না।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
79

পানিপথে হত। দখল করিয়া দিল্লির শাহিগদি, 

          দেখিল বাবুর এ-জয় তাঁহার ফাঁকি, 

ভারত যাদের তাদেরি জিনিতে এখনো রয়েছে বাকি।

      গর্জিয়া উঠিল সংগ্রাম সিং, ‘জিনেছ মুসলমান,

          জয়ী বলিব না এ দেহে রহিতে প্রাণ ।

               লয়ে লুণ্ঠিত ধন

দেশে ফিরে যাও, নতুবা মুঘল, রাজপুতে দাও রণ।'

               খানুয়ার প্রান্তরে

সেই সিংহেরো পতন হইল বীর বাবুরের করে।

এ বিজয় তার স্বপ্ন-অতীত, যেন বা দৈব বলে

সারা উত্তর ভারত আসিল বিজয়ীর করতলে।

কবরে শায়িত কৃতঘ্ন দৌলত,          

          বাবুরের আর নাই কোনো প্রতিরোধ।

দস্যুর মতো তুষ্ট না হয়ে লুণ্ঠিত সম্পদে,

জাঁকিয়া বসেছে মুঘল সিংহ দিল্লির মসনদে। 

মাটির দখলই খাঁটি জয় নয় বুঝেছে বিজয়ী বীর,

বিজিতের হৃদি দখল করিবে এখন করেছে স্থির।

            প্রজারঞ্জনে বাবুর দিয়াছে মন,

হিন্দুর-হৃদি জিনিবার লাগি করিতেছে সুশাসন,

            ধরিয়া ছদ্মবেশ

ঘুরি পথে পথে খুঁজিয়ে প্রজার কোথায় দুঃখ ক্লেশ।

চিতোরের এক তরুণ যোদ্ধা রণবীর চৌহান

             করিতেছে আজি বাবুরের সন্ধান,

কুর্তার তলে কৃপাণ লুকায়ে ঘুরিছে সে পথে পথে

         দেখা যদি তার পায় আজি কোনো মতে

                    লইবে তাহার প্রাণ,

শোণিতে তাহার ক্ষালিত করিবে চিতোরের অপমান। 

                    দাঁড়ায়ে যুবক দিল্লির পথ-পাশে

লক্ষ করিছে জনতার মাঝে কেবা যায় কেবা আসে।

             হেন কালে এক মত্ত হস্তী ছুটিল পথের পরে

                   পথ ছাড়ি সবে পলাইয়া গেল ডরে। 

                         সকলেই গেল সরি

কেবল একটি শিশু রাজপথে রহিল ধুলায় পড়ি।

                       হাতির পায়ের চাপে

'গেল গেল' বলি হায় হায় করি পথিকেরা ভয়ে কাঁপে।

                      ‘কুড়াইয়া আন ওরে’ 

সকলেই বলে অথচ কেহ না আগায় সাহস করে। 

সহসা একটি বিদেশি পুরুষ ভিড় ঠেলে যায় ছুটে, 

‘কর কী কর কী” বলিয়া জনতা চিৎকার করি উঠে।

       করি-শুণ্ডের ঘর্ষণ দেহে সহি

পথের শিশুরে কুড়ায়ে বক্ষে বহি

       ফিরিয়া আসিল বীর।

চারি পাশে তার জমিল লোকের ভিড়।

বলিয়া উঠিল এক জন, 'আরে এ যে মেথরের ছেলে,

ইহার জন্য বে-আকুফ তুমি তাজা প্রাণ দিতে গেলে?

          খুদার দয়ায় পেয়েছ নিজের জান,

    ফেলে দিয়ে ওরে এখন করগে স্নান।'

    শিশুর জননী ছেলে ফিরে পেয়ে বুকে

            বক্ষে চাপিয়া চুমু দেয় তার মুখে।

বিদেশি পুরুষে রাজপুত বীর চিনিল নিকটে এসে,

এ যে বাদশাহ স্বয়ং বাবুর পর্যটকের বেশে।

          ভাবিতে লাগিল, 'হরিতে ইহারই প্রাণ

          পথে পথে আমি করিতেছি সন্ধান?

          বাবুরের পায়ে পড়ি সে তখন লুটে 

কহিল সঁপিয়া গুপ্ত কৃপাণ বাবুরের করপুটে,” 

‘জাঁহাপনা, এই ছুরিখানা দিয়ে আপনার প্রাণবধ 

করিতে আসিয়া একি দেখিলাম! ভারতের রাজপদ 

          সাজে আপনারে, অন্য কারেও নয়। 

বীরভোগ্যা এ বসুধা এ কথা সবাই কয়,

           ভারত-ভূমির যোগ্য পালক যেবা,

তাহারে ছাড়িয়া, এ ভূমি অন্য কাহারে করিবে সেবা?

            কেটেছে আমার প্রতিহিংসার অন্ধ মোহের ঘোর,

                              সঁপিনু জীবন, করুন এখন দণ্ডবিধান মোর।'
            রাজপথ হতে উঠায়ে যুবকটিরে

                                  কহিল বাবুর ধীরে,

‘বড়ই কঠিন জীবন দেওয়া যে জীবন নেওয়ার চেয়ে; 

জান না কি ভাই? ধন্য হলাম আজিকে তোমারে পেয়ে

                         আজি হতে মোর শরীর রক্ষী হও; 

প্রাণ-রক্ষকই হইলে আমার, প্রাণের ঘাতক নও।'

Related Question

View All
উত্তরঃ

রণবীর চৌহান হলেন স্বদেশপ্রেমিক রাজপুত যুবক।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
559
উত্তরঃ

প্রশ্নোক্ত কথাটি সম্রাট বাবুর রণবীরর চৌহানকে বলেছেন।

'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় ডারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবুরের মহৎ আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়েছে। রাজপুত-বীর তরুণ রণবীর চৌহান বাবুরকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে রাজপথে ঘুরছিল। এমন সময় বাবুর নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে মত্ত হাতির কবল থেকে রাজপথে পড়ে থাকা একটি মেথর শিশুকে উদ্ধার করেন। রণবীর চৌহান বাবুরের এমন মহানুভবতা দেখে বিস্মিত ও মুগ্ধ হয়। সে বাবুরের পায়ে পড়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি পেতে চায়। তখন বাবুর রণবীর চৌহানকে বলেন, কাউকে শাস্তি দেওয়া সহজ কিন্তু ক্ষমা করে জীবন দান দেওয়া কঠিন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
386
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত বড় মিয়ার আচরণে 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় ফুটে ওঠা দিকটি হলো- সম্রাট বাবুবের মানবিক মূল্যবোধ ও মহানুভবতা।

পৃথিবীতে একমাত্র মানুষই একে অন্যের বিপদে-আপদে এগিয়ে এসে মানবিকতার পরিচয় দেয়। কোনো কোনো সময় নিজের জীবন দিয়ে হলেও অন্যের মঙ্গল সাধন করে। কারণ তারা বিশ্বাস করে মানুষ মানুষের জন্য।

উদ্দীপকে বড় মিয়া নামের এক যুবক নিজের জীবন দিয়ে একটি ডুবন্ত শিশুর জীবন বাঁচান। বন্যায় প্রচণ্ড স্রোতের টানে নৌকা উল্টে ডুবে যাওয়া একটি শিশু উদ্ধার করতে জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন বড় মিয়া। অল্পক্ষণের মধ্যেই শিশুটিকে নিয়ে তিনি পাড়ে ওঠেন। তিনি তখন প্রচন্ড ক্লান্ত। তার দেহ নেতিয়ে পড়ে। ডাক্তার এসে পরীক্ষার পর জানা গেল, তিনি আর বেঁচে নেই। তিনি তার জীবন উৎসর্গ করেছেন একটি মানবশিশুকে বাঁচাতে গিয়ে। উদ্দীপকে তার যে মানবতাবোধের পরিচয় পাওয়া যায় তা 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় বাবুরের মানবিক মূল্যবোধ ও মহানুভবতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ বাবুর নিজে সীমাহীন কষ্ট সহ্য করে প্রজাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। একদিন মত্ত হাতির সামনে থেকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাতির শুঁড়ের ঘঁষা সহ্য করে একটি মেথর শিশুকে উদ্ধার করেছেন। তাকে হত্যা করতে রণবীর চৌহান রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছে জেনেও তাকে ক্ষমা করেছেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
223
উত্তরঃ

উদ্দীপকটিতে 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতার একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটলেও সমভাব ধারণ করে না- মন্তব‍্যটি যথার্থ।

সাম্যবাদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষই সমান। ধনী-দরিদ্রের যে বৈষম্য আমাদের সমাজে বিদ্যমান তা মানুষের সুখ-শান্তির অন্তরায়। 'মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য'- এই সত্যকে সামনে রেখে মানুষ কাজ করলে পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ করবে।

উদ্দীপকে দুর্ঘটনা কবলিত একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে গিয়ে বড় মিয়া নামের এক মহানুভব যুবকের জীবন বিসর্জনের কথা বলা হয়েছে। এই ব্যক্তির মানবতাবোধ 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতার বাবুরের মানবতাবোধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে বাবুর যেভাবে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং রাজ্যবিস্তারে যুদ্ধ পরিচালনায় সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, সে ধরনের ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই।
'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় কবি দুটি দিক তুলে ধরেছেন। এক বাবুরের যুদ্ধবিগ্রহ, রাজ্য জয় ও রাজ্য বিস্তার এবং দুই রাজ্যের প্রজাদের মন জয় করার জন্য তাদের প্রতি মহানুভবতা ও সেবা প্রদান। এ দুটির মধ্যে প্রথম বিষয়টি উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। উদ্দীপকটি কেবল দ্বিতীয় বিষয়টিকে নির্দেশ করেছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
221
উত্তরঃ

সঁপিনু জীবন, করুন এখন দণ্ডবিধান মোর। - রাজপুত বীর রনবীর চৌহান সম্রাট বাবুরের মহানুভবতার পরিচয় পেয়ে উক্তিটি করেছে।

রাজপুত বীর রণবীর চৌহান প্রতিশোধ নেবার জন্য সম্রাট বাবুরকে হত্যা করার সুযোগ খোঁজেন। একদিন দেখেন বাবুর মত্ত হাতির কবল থেকে এক মেথর শিশুকে বাঁচান আপন জীবন বিপন্ন করে। তার মহানুভবতার পরিচয় পেয়ে রণবীর বাবুরের কাছে তার উদ্দেশ্যের কথা স্বীকার করে ক্ষমা চান। এই প্রসঙ্গেই তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
410
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews