উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষ বাক্যটি হলো- বৃদ্ধ অকেজো রোগীকে সুস্থ থাকার জন্য এক ধরনের মেশিনের সাহায্যে রক্ত পরিশোধন করতে হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
বৃদ্ধ সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হবার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে 'ডায়ালাইসিস মেশিনের' সাহায্যে রক্ত পরিশোধিত করা হয়। এ মেশিনটির ডায়ালাইসিস টিউবটির এক প্রান্ত রোগীর হাতের কব্জির ধমনির সাথে ও অন্য প্রান্ত ঐ হাতের কব্জির শিরার সাথে সংযোজন করা হয়। ধমনি থেকে টিউবের মধ্য দিয়ে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করানো হয়। এর প্রাচীর আংশিক বৈষম্যভেদ্য হওয়ায় ইউরিয়া, ইউরিক এসিড ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে। পরিশোধিত রক্ত রোগীর দেহের শিরার মধ্য দিয়ে দেহের ভিতর পুনরায় প্রবেশ করে। ডায়ালাইসিস টিউবটি এমন একটি তরলের মধ্যে ডুবানো থাকে যার গঠন রক্তের প্লাজমার অনুরূপ হয়। এভাবে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ বাইরে নিষ্কাশিত হয়।
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, রক্ত পরিশোধনে বৃদ্ধ অকার্যকর হলে রোগীকে সুস্থ রাখতে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে কৃত্রিমভাবে রক্ত পরিশোধন করতে হয়।
Related Question
View Allবৃক্কের ভেতরের গাঢ় কালচে রঙের অংশই হলো মেডুলা।
নেফ্রনের বোম্যান্স ক্যাপসুলের ভেতর একগুচ্ছ কৈশিক জালিকা দিয়ে তৈরি অঙ্গই হলো গ্লোমেরুলাস। রেনাল ধমনি থেকে সৃষ্ট অ্যাফারেন্ট আর্টারিওল ক্যাপসুলের ভেতর ঢুকে প্রায় ৫০টি কৈশিক নালিকা তৈরি করে। এগুলো আবার বিভক্ত হয়ে সূক্ষ্ম রক্তজালিকার সৃষ্টি করে। গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে পরিসুত তরল উৎপন্ন করে।
চিত্র-A হলো মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ রেচন অঙ্গ-'বৃদ্ধ'। রেচন মানবদেহের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দেহে বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য বা বিষাক্ত পদার্থগুলো বাইরে নিষ্কাশিত হয়। বিপাক ক্রিয়ায় আমাদের দেহে যে সকল বর্জ্য বা বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয় তা হলো- ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, লবণ, ক্রিয়েটিনিন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, অ্যামাইনো এসিড ইত্যাদি। এগুলো রক্তের সাথে মিশে থাকে। বৃক্কের কার্যকরী একককে বলা হয় নেফ্রন। নেফ্রনের বোম্যান্স ক্যাপসুলের ভেতর থাকে এক গুচ্ছ কৈশিক জালিকা দিয়ে তৈরি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ গ্লোমেরুলাস। গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে। বিপাক ক্রিয়ায় সৃষ্ট বর্জ্য বা বিষাক্ত পদার্থসহ রক্ত যখন গ্লোমেরুলাসে আসে তখন রক্ত থেকে সক্রিয় ছাঁকন পদ্ধতিতে বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থগুলো বোম্যান্স ক্যাপসুলের গহ্বরে প্রবেশ করে। ফলে রক্ত পরিশোধিত হয়। বর্জ্য বা বিষাক্ত পদার্থগুলো পরবর্তীতে মূত্রের সঙ্গে বাইরে বের হয়ে আসে। যেহেতু চিত্র-৭ এর অর্থাৎ বৃক্কের গ্লোমেরুলাস মূলত ছাঁকন পদ্ধতিতে রক্ত থেকে বর্জ্য বা দূষিত পদার্থগুলোকে অপসারণ করে তাই একে (চিত্র-A) ছাঁকনির সাথে তুলনা করা হয়।
চিত্র-A হলো বৃক্ক। অঙ্গটি অর্থাৎ বৃক্ক বিকল হলে একমাত্র প্রতিস্থাপনের মাধ্যমেই এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওযা সম্ভব। যখন কোনো ব্যক্তির বৃক্ক বিকল হয়ে পড়ে তখন কোন সুস্থ ব্যক্তির বৃদ্ধ তার দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়। তখন একে বৃক্ক সংযোজন বলে। বৃক্ক সংযোজন দুভাবে করা যায়, কোনো নিকট আত্মীয়ের বৃদ্ধ একজন রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করে এটি করা যায়। তবে নিকট আত্মীয় বলতে বাবা, মা, ভাই, বোন, মামা, খালাকে বোঝায়। আবার মৃত ব্যক্তির বৃক্ক নিয়ে রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। মৃত ব্যক্তি বলতে 'ব্রেন ডেথ' বোঝায়। তাছাড়া মরণোত্তর চক্ষুদানের মতো মরনোত্তর বৃক্কদানের মাধ্যমে একজন বৃক্ক বিকল বা অকেজো রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভবপর হতে পারে। সমগ্র পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ বৃত্ত অকেজো রোগী বৃক্ক সংযোজনের মাধ্যমে সুস্থ জীবন যাপন করছে। বৃক্ক প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে টিস্যু ম্যাচ করে নেওয়া আবশ্যক। পিতামাতা, ভাইবোন ও নিকট আত্মীয়ের বৃক্কের টিস্যু ম্যাচ হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, একারণে পিতা মাতা, ভাইবোন বা নিকট আত্মীয়ের বৃদ্ধ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বিকল বৃক্কের প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ঝুঁকির হার অনেক কম থাকে।
বৃক্ক সম্পূর্ণ বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধিত করার নামই হলো ডায়ালাইসিস।
মূত্রের উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৯০ ভাগই পানি। এছাড়া মূত্রের অন্যান্য উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, বিভিন্ন ধরনের লবণ এবং ইউরোক্রোম নামক রঞ্জক পদার্থ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
