উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার মূলভাবের পার্থক্য রয়েছে- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রকৃতির প্রতি প্রেম নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য। কারণ প্রকৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের, অস্তিত্ব। তাই প্রকৃতি মানুষের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে প্রকৃতির ফুল ও লতা-পাতার সৌন্দর্যের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। ফুল ফুটে কুটিরটাকে জড়িয়ে রাখে, তাঁর অরূপ রূপের বর্ণনা উদ্দীপকে পাওয়া যায়। 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায়ও প্রকৃতির নানা রকম সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। কবি প্রকৃতির এই বিচিত্র সৌন্দর্যের কাছে যেতে চান। মিশে যেতে চান প্রকৃতিতে। কবি প্রকৃতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে আনন্দ অনুভব করেন। সেই আনন্দ কবিকে সৃষ্টির প্রেরণা জোগায়। তাঁর ছড়া-কবিতার খাতা ভরে ওঠে। এ বিষয়গুলো উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।
উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক ও সৃষ্টির প্রেরণাদানে প্রকৃতির অবদানের দিকটির কথা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি, যা আলোচ্য কবিতার মূল বিষয়। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allআমার পঠিত 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় রক্তজবার ঝোপের কাছে আজ কাব্য হবে।
করি আল মাহমুদের দৃষ্টিতে প্রকৃতির সাথে মানুষের পরম আত্মীয়তার সম্পর্ক বিদ্যমান।
'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় কবির নিসর্গপ্রেম গভীর মমত্বের সঙ্গে ফুটে উঠেছে। কবি প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের কাছে যেতে চান, তাদের সঙ্গে মিশে যেতে চান। কবির দৃষ্টিতে প্রকৃতি যেন মানুষের পরম আত্মীয়।
কবিতাংশ দুটিতে পল্লি-প্রকৃতির বিচিত্র রূপ ফুটে উঠেছে।
প্রকৃতির বিচিত্র রূপ পরিলক্ষিত হয় এই পৃথিবীতে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষ আত্মীয়তার সম্পর্ক অনুভব করে। প্রকৃতি নানাভাবে মানুষের মনকে প্রভাবিত করে।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে কবি পরম মমতায় পল্লি-প্রকৃতির রূপ বর্ণনা করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে লালদিঘির পাড় ঘেঁষেই পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে। তার একটু সামনে এগুলেই থোকায় থোকায় জোনাক পোকা দেখা যায়। আর দিঘির কালো জল যেন কলকলিয়ে কবির সঙ্গে কথা বলে। উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের কবিতাংশেও পল্লি-প্রকৃতির রূপ ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যায় বাঁশবাগান, তার মাঝখান দিয়ে আধখানা চাঁদ ঝুলে রয়েছে। ঝোপঝাড়ে জোনাকিরা আলো জ্বেলে ঘুরে বেড়ায়।
'কবিতাংশ দুটিতে কবিদ্বয়ের নিসর্গ-প্রেম ফুটে উঠেছে'-উক্তিটি যথার্থ।
প্রকৃতির আশ্রয়ে মানুষ বেড়ে ওঠে। প্রকৃতি নানাভাবে মানুষকে সাহায্য করে। কখনো আনন্দের কখনো দুঃখের সাথি হয় প্রকৃতি। আবার নতুন কোনো কাজের উৎসাহও মানুষ প্রকৃতির কাছ থেকে পেয়ে থাকে।
উদ্দীপকের প্রথম কবিতাংশে কবি পল্লি-প্রকৃতির বিচিত্র রূপ সযত্নে বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতির প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকেই কবি প্রকৃতির - রূপ উপস্থাপন করেছেন। লালদিঘির পাড়ে পাহাড়, জোনাক পোকার দল, দিঘির কালো জলের শব্দ- সবকিছু প্রকাশেই কবির নিসর্গপ্রেম ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় কবিতাংশেও কবি' নিসর্গের বর্ণনা দিয়েছেন। বাঁশবাগান, চাঁদ, জোনাক পোকার আলো জ্বেলে ঘুরে বেড়ানো এগুলো কবির নিসর্গপ্রেমকেই প্রকাশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশ দুটিতে কবিদ্বয়ের নিসর্গপ্রেম ফুটে উঠেছে। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
কবি 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় নিসর্গপ্রেম বলতে প্রকৃতির প্রতি তাঁর মমত্ব ও প্রেমের কথা বুঝিয়েছেন।
বাংলাদেশের লোকজ জীবন ও পল্লিপ্রকৃতি আল মাহমুদের কবিতার প্রাণ। পল্লির স্নিগ্ধ-শ্যামল রূপ তাঁর কবিতায় সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। কবি প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের কাছে যেতে চান, তাদের সঙ্গে মিশে যেতে চান। 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় কবির এই নিসর্গপ্রেমের প্রগাঢ় পরিচয় পাওয়া যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!