অন্যায়-অনাচারের অন্ধকার থেকে মানবসমাজকে মুক্তি দানের আহ্বানের বিষয়টি উদ্দীপকের সঙ্গে 'সুচেতনা' কবিতার সাদৃশ্য নির্মাণ করেছে।
'সুচেতনা' কবিতায় কবি সুচেতনা নামক এক মহান অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, পৃথিবীব্যাপ্ত গভীর অসুখ বা বিপর্যয় থেকে মুক্তির পথই শুভচেতনা। ইতিবাচক ও চেতনার আলো প্রজ্বালনের মাধ্যমেই সব বিপর্যয় থেকে পৃথিবী ও মানুষের মুক্তি ঘটবে।
উদ্দীপকে মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মহিমান্বিত জীবনসত্য তুলে ধরা হয়েছে। সমগ্র আরব দেশ যখন পাপ ও অজ্ঞানতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল তখন মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.) সাম্য অকৃত্রিম ভ্রাতৃত্ব এবং বিশ্বমানবতার ভিত্তিতে যে এক উন্নত ও আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের চেষ্টা করেছেন সমাজব্যবস্থার প্রবর্তন করেন পৃথিবীর ইতিহাসে তার কোনো নজির নেই। মানুষে মানুষে সব প্রকার অসাম্য ও ভেদাভেদ দূরীভূত করে মানবতার অত্যুজ্জ্বল আদর্শে সমাজ বন্ধন সুদৃঢ় করেন। তাঁর অদম্য সাহস ও মনোবল সব অনাচার এর মূলোচ্ছেদ করে অধঃপতিত আরবকে আলোর পথ দেখায়। অন্যদিকে 'সুচেতনা' কবিতায়ও কবি শুভচেতনাবোধের জাগরণের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিপরীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। হিংসার বিপরীতে প্রেম, প্রীতি ও ভালোবাসা ছড়াতে চেয়েছেন। তাই বলা যায়, সব অনাচারের বিরুদ্ধে শুভচিন্তা ও শান্তির বার্তা ছড়ানোর দিক থেকে উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ
Related Question
View All'সুচেতনা' কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে।
পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন'- উক্তিটিতে কবির সমসাময়িক পৃথিবীতে বিরাজমান ধ্বংসোম্মুখ অবস্থার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
মানবপ্রেমী কবি তাঁর সমকালীন পৃথিবীতে মানুষে মানুষে বিরাজমান অসহিষ্ণুতার ভয়ংকর রূপ প্রত্যক্ষ করেছেন। অগণিত প্রাণহানি, রক্তপাতের ঘটনা তাঁকে মর্মাহত করেছে। এই ধ্বংসাত্মক রূপকে তিনি পৃথিবীর 'গভীর গভীরতর অসুখ' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন; যার পরিসমাপ্তিই কবির একমাত্র প্রত্যাশা।
উদ্দীপকটিতে 'সুচেতনা' কবিতায় বর্ণিত পৃথিবীতে বিদ্যমান অশুভ চেতনার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'সুচেতনা' কবিতাটিতে কবি অশুভ চেতনার স্থলে শুভ চেতনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। কবি প্রত্যক্ষ করেছেন পৃথিবীতে অন্ধকার তথা অশুভ শক্তির ভয়ংকর বিস্তার। স্বার্থের দ্বন্দ্বে মানুষ লিপ্ত, ভালোবাসার পরিণামে পৌছাতে স্বীকার করতে হয় বহু আত্মত্যাগ। পৃথিবীব্যাপ্ত এ গভীর অসুখ বা বিপর্যয় থেকে মানুষের মুক্তি প্রয়োজন। আর একমাত্র শুভচেতনার আলো প্রজ্বালনের মাধ্যমেই তা সম্ভব।
উদ্দীপকের কবিতাংশে পৃথিবীব্যাপী অশুভ শক্তির প্রতাপ পরিলক্ষিত হয়। সমাজের সর্বস্তরে অযোগ্য দুশ্চরিত্র লোকেরাই সর্বেসর্বা। পক্ষান্তরে জ্ঞানী-গুণীরা অবহেলিত। পৃথিবীর বৈষম্যময় সমাজব্যবস্থাই মূলত এর জন্য দায়ী। 'সুচেতনা' কবিতার বিষয়বস্তুতেও আমরা পৃথিবীতে এমন অশুভ শক্তির বিস্তার লক্ষ করি। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কবিতায় বর্ণিত পৃথিবীতে বিদ্যমান অশুভ চেতনার দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে
উদ্দীপকে কেবল পৃথিবীব্যাপী অশুভ শক্তির বিস্তারের বিষয়টি উঠে এলেও 'সুচেতনা' কবিতার আশাবাদের দিকটি উন্মোচিত হয়নি।
'সুচেতনা' কবিতাটিতে কবি তাঁর প্রার্থিত, আরাধ্য এক চেতনানিহিত বিশ্বাসকে শিল্পিত করেছেন। যে চেতনা পৃথিবীতে বিরাজিত সকল অন্যায়, অনিয়ম, যুদ্ধ, মৃত্যুসহ যাবতীয় গভীরতর ব্যাধিকে অতিক্রম করে সুস্থ ইহলৌকিক পৃথিবীর মানুষকে জীবন্ময় করে রাখবে। কবির মতে, জীবন্মুক্তির এই চেতনাগত সত্যই পৃথিবীতে ক্রমমুক্তির আলোকে প্রজ্বালিত রাখবে, মানবসমাজের অগ্রযাত্রাকে নিশ্চিত করবে। ইতিবাচক এ আলো প্রজ্বালনের মাধ্যমেই সকল অশুভ শক্তি থেকে পৃথিবী ও মানুষের মুক্তি ঘটবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
উদ্দীপকে, পৃথিবীতে এক অদ্ভুত আঁধারের বিস্তার দেখানো হয়েছে। যে আঁধারে অযোগ্যরাই যোগ্যতর হিসেবে মর্যাদা লাভ করে আর যোগ্য ব্যক্তিরা হয় অবমূল্যায়িত। পৃথিবী যেন আজ অযোগ্য মানুষদের পরামর্শ ও নেতৃত্বেই চলছে। যোগ্য, জ্ঞানী, মহৎ মানুষদের মর্যাদা আজ নেই। উদ্দীপকের মতো সামাজিক সংকটের প্রতিচ্ছবি 'সুচেতনা' কবিতায়ও বিদ্যমান। তবে কবিতায় এ সংকট উত্তরণে মুক্তির পথের দিশারও অনুসন্ধান করা হয়েছে।
উদ্দীপক ও 'সুচেতনা' কবিতার বিষয়বস্তু পর্যালোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে কেবল পৃথিবীতে বিরাজমান অশুভ শক্তির প্রভাবের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে, যা 'সুচেতনা' কবিতার একটি মাত্র দিক। 'সুচেতনা' কবিতায় এ বিষয়টি ছাড়া আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়ের সমাবেশ ঘটেছে। অশুভ শক্তির স্থলে শুভশক্তির বা শুভ চেতনার বিজয় কবিতাটিতে তাৎপর্যপূর্ণ রূপ লাভ করেছে। ইতিবাচক এ চেতনার মাধ্যমেই সকল বিপর্যয় থেকে পৃথিবী ও মানুষের মুক্তি ঘটবে- এমন আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকটিতে 'সুচেতনা' কবিতার সমগ্র দিক উন্মোচিত হয়নি।" উক্তিটি যথার্থ।
কবি জীবনানন্দ দাশের মায়ের নাম কুসুমকুমারী দাশ
কবির সুচেতনা মূলত শুভচেতনা বা শুভবোধের স্মারক।
সুচেতনা মূলত কবির এক ধরনের চেতনাজাত বিশ্বাস, যা সমস্ত নেতিবাচকতা ধ্বংস করে এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটায়। কবির দৃষ্টিতে এটি তাঁর চেতনাগত সত্য। সংগত কারণেই পৃথিবীর নানা অভিঘাতে বা রক্তপাতের ঘটনায় এর কোনো পরিবর্তন হয় না। এ সত্যই শেষ পর্যন্ত আমাদের এক আলোয় ভরা, সুখী ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবীর স্বপ্ন দেখায়। তবে এই চেতনা দূরবর্তী এক দ্বীপের মতোই অধরা। এর বিস্তার সর্বত্র হলেও সব জায়গায় এটি উপস্থিত নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!