ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ছিল ভয়াবহতম। এ যুদ্ধের ক্ষত বিশ্ব এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে। জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি এর জীবন্ত উদাহরণ।
১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় এবং ১৯৪৫ সালে ব্যাপক ধ্বংসলীলার মধ্য দিয়ে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। উদ্দীপকে 'ক' দেশ ও তার মিত্রদের পরাজয় বলতে জার্মানি, জাপান ও ইতালির পরাজয়কে বোঝানো হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের ফলে ইতিহাস থেকে ঘৃণ্য নাৎসি দলের বিলুপ্তি ঘটে। অন্যদিকে ইতালিতেও মুসোলিনীর ফ্যাসিজমের সমাধি হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য দুটি অপ্রচলিত আদালত বসে। জার্মানির নুরেমবার্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়। নুরেমবার্গ আদালতে জার্মানির যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয় এবং মোট ২১ জনের মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। আটককৃত অবস্থায় ২ জন আত্মহত্যা করে এবং বাকি ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। একই সাথে নাৎসি সংগঠন ও রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ছিল অবর্ণনীয়। জার্মানি-ফ্রান্স, রাশিয়া ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহর ও শিল্পকারখানা ধ্বংস করেছিল। জাপান যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাটি পার্ল হারবার উড়িয়ে দিলে আমেরিকা এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে আণবিক বোমা ফেলে ব্যাপক ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। এ ক্ষত জাপানের মানুষ এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা আজও পৃথিবীবাসীকে শিহরিত করে তোলে। হিটলারের নাৎসিবাদ ও মুসোলিনীর ফ্যাসিজমই এ যুদ্ধের জন্য দায়ী ছিল।
Related Question
View Allদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানি ও ইতালির মধ্যে পরস্পর সহযোগিতাভিত্তিক যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে অক্ষশক্তি চুক্তি নামে পরিচিত। মূলত এটি ছিল কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তি। তবে কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তি হলেও এটিকে মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে সামরিক জোটও বলা যেতে পারে। ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের দুর্বলতা ও তাদের পারস্পরিক দুর্বলতার সুযোগে সাম্যবাদের বিরুদ্ধে ১৯৩৬ সালে জার্মানি ও জাপান কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। পরবর্তী বছর ১৯৩৭ সালে ইতালি এ চুক্তিতে যোগ দেয়। এর ফলেই রোম-বার্লিন-টোকিও উদ্ভব হয়। এ চুক্তি ইউরোপে নতুন শক্তিসাম্য গড়ে তোলে।
উদ্দীপকে আমার পাঠ্যবইয়ের বেনিতো মুসোলিনীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ফ্যাসিবাদের জনক বেনিতো মুসোলিনী ১৮৮৩ সালে ইতালির রোমানিয়া প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন কর্মকার। শিক্ষা শেষে স্কুলশিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। সামরিক প্রশিক্ষণ এড়াতে তিনি সুইজারল্যান্ডে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি সমাজতান্ত্রিক মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সমাজতন্ত্রী দলে যোগ দিয়ে বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। ১৯১২ সালে সমাজতন্ত্রী দলের মুখপত্র 'আভান্তি' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ১৯১৯ সালে 'এক সম্মেলনে ফ্যাসিস্ট দল গঠন করেন। ফ্যাসিবাদ ছিল ইতালির সামাজিক অবক্ষয়ের যুগের একটি রাজনৈতিক ব্যাভিচার। গণতন্ত্রের ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদকে ফ্যাসিবাদীরা ঘৃণা করত।
উদ্দীপকে 'X' নামক ব্যক্তি পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের দেশে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা পেশা নিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করলেও শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। গণতন্ত্রের পরিবর্তে বল প্রয়োগে ক্ষমতা গ্রহণের পক্ষে তার মত ছিল।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'X'-দ্বারা আমার পাঠ্যবইয়ের বেনিতো মুসোলিনীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উক্ত ব্যক্তির অর্থাৎ বেনিতো মুসোলিনীর পররাষ্ট্র নীতি ছিল সম্প্রসারণবাদ।
মুসোলিনীর' পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য ছিল সম্প্রসারণবাদ। ক্ষমতা গ্রহণ করে তিনি ঘোষণা করেন, "আমি যুদ্ধ ভালোবাসি, যুদ্ধ করা আমার সহজাত প্রবণতা।" এ উপলক্ষে তিনি ইতালির পদাতিক, নৌ, বিমান বাহিনীকে ঢেলে সাজান। অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধের মানসিকতা প্রস্তুত করেন। তিনি যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে ভার্সাই সন্ধির প্রতারণার প্রতিশোধ নিতে মনস্থ করেন। তিনি বুঝেছিলেন যে, । ইতালির সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষাকে সফল করে তুলতে হলে ফ্রান্স, ব্রিটেন, রাশিয়া, জার্মানি ইত্যাদি শক্তিকে পরস্পরের বিরুদ্ধে নিয়োজিত করতে হবে। এজন্য তিনি ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে জার্মানির বিরুদ্ধে নিয়োজিত করেন এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিকে সম্মিলিতভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিয়োজিত করে ইতালির প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করার কৌশল অবলম্বন করেন। মুসোলিনী তার এসব কৌশল প্রয়োগ করে বেশকিছু উপনিবেশ পুনরুদ্ধারে সফল হন। ১৯২৩ সালে গ্রিসের কফুদ্বীপ গ্রিসকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে তা ফেরত নিতে হয়। এতে নিজ দেশে মুসোলিনীর ভাবমূর্তি বেড়ে যায়। প্রতিবেশী দেশগুলোতে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানকে নানাভাবে সহযোগিতা প্রদান করেন। ১৯৩৬ সালে, স্পেনে জেনারেল ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটলে মুসোলিনী ফ্রাঙ্কোকে সমর্থন করেন। মুসোলিনী নিজ শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য জার্মানির হিটলারের সাথে মৈত্রী বন্ধনে আবন্ধ হন।
পরিশেষে বলা যায়, মুসোলিনীর পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের মাধ্যমে ইতালির সম্প্রসারণ ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতালিকে সামরিকভাবে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদন করা।
জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু মার্কিন জনগণ মিত্রপক্ষের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। মার্কিন সরকার ১৯৪১ সালের মার্চ মাসে 'Lend-Lease Act' আইন পাস করে মিত্রশক্তিকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে জার্মান ডুবোজাহাজগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ডুবিয়ে দিতে শুরু করলে মার্কিন নৌবাহিনীও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অতঃপর ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর অক্ষশক্তির সদস্য জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'পার্ল হারবার' আক্রমণ করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি যোগদান করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!