উদ্দীপকে ঢাকা শহরের উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপগুলো সমগ্র বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো হচ্ছে।
বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে নানা কর্মসূচি গ্রহণে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিকায়নের ছোঁয়া লেগেছে। অন্যদিকে ২০১৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে এ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে। শিল্পের উন্নয়নে পরামর্শ, শিল্পঋণ, ট্যাক্স হলিডে, ইপিজেড প্রতিষ্ঠা ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদানে সরকারের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। ফলে মোট দেশজ উৎপাদনে এ খাতের অবদান ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশের মাথাপিছু আয় ১৬০২ মার্কিন ডলার, যা অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। একটি দেশের মূলধন গঠনে ২৫% সঞ্চয় আবশ্যক। মূলধন গঠনের হার বৃদ্ধিতে জনগণের ভোগ প্রবণতা হ্রাস ও সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। শিক্ষা মানুষকে সচেতন করে, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করে। এ কারণে শিক্ষার প্রসারে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি, কারিগরি শিক্ষা, নারীশিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষার প্রসারে সরকার ভূমিকা গ্রহণ করেছে। দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে এ দেশের অর্থনীতি নিমজ্জিত। এ চক্র থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, একটি বাড়ি একটি খামার, টেস্ট রিলিফ ইত্যাদি কর্মসূচি গৃহীত হচ্ছে। সরকার অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ ও রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্যকে অনুকূলে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ লক্ষ্যে সরকার রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল গঠন, বাজার অনুসন্ধান, ব্যাংক সার্ভিস চার্জ ও ফি-এর পার্থক্য নিরসন, ঋণ বৃদ্ধি, শুদ্ধ বন্ড/ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধা, সফটওয়্যার ফার্মের জন্য রিটেনশন কোটা, কৃষিক্ষেত্রে ভর্তুকি ও সেবাখাতের উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
অতএব বলা যায়, ঢাকা শহরের উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ শুধু ঢাকার জন্য নয়, সমগ্র বাংলাদেশের জন্য।
Related Question
View Allবাংলাদেশে ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন দেশ হলো বাংলাদেশ। ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বাংলাদেশের। অবস্থান বিস্তৃত। এ দেশের মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। সাগরের অবস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণে হওয়ার কারণে এ দেশের অবস্থান প্রান্তীয়। বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম, পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মিয়ানমার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।
উদ্দীপকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। নিচে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের প্রকৃতি তুলে ধরা হলো-
দারিদ্র্য যেকোনো দেশের জন্যই অভিশাপ। সাধারণত স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে। সেই দেশগুলোর জনগণের আয় অনেক কম থাকার কারণে সেসব দেশে সঞ্চয়ের পরিমাণও কম হয়। একটি দেশে যখন সঞ্চয়ের পরিমাণ কম হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই দেশে বিনিয়োগ কম হবে। বিনিয়োগ যখন কম হয়, তখন সেই দেশের জনগণ বেকার থাকে। তাদের কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দেয়, ফলে নিয়োগ কম হয়। একটি দেশে নিয়োগ, কর্মসংস্থান কম থাকার অর্থ সে দেশের উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো অচল থাকে অথবা উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধও থাকতে পারে। ফলে উৎপাদন কম হয়। একটি দেশের উৎপাদন কম হলে আয় কম হবে, এটাই স্বাভাবিক। এভাবেই একটি দেশ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে।
অতএব বলা যায়, একটি দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। অধিক জনসংখ্যা এ দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় ২৩.৫ ভাগ লোক বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে।
এ দেশেও তাই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিদ্যমান রয়েছে। এ দেশে অধিক জনসংখ্যার কারণে শ্রম সস্তা। এই সস্তা শ্রমের কারণে জনগণের আয় কম। আয় কম হওয়ার কারণে সঞ্চয় কম। ফলে বিনিয়োগ কম। তবে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে, যার ফলে দেশের অধিক জনসংখ্যার কিছু অংশের কর্মসংস্থান রয়েছে। তার পরও প্রায় ৩ কোটির উপরে বেকার জনগোষ্ঠী এ দেশে রয়েছে। ফলে এই নিয়োগ কম হওয়ায় আশানুরূপ উৎপাদন হচ্ছে না। আশানুরূপ উৎপাদন না হওয়ার কারণে জনগণের আয়ও কম হচ্ছে। এভাবেই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বাংলাদেশকে ঘিরে রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে। দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র যত দিন বাংলাদেশ থেকে দূর না হবে, তত দিন বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না।
বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান খাত কৃষি। এদেশের মোট শ্রম শক্তির ৪৫.১% কৃষির উপর নির্ভরশীল এবং প্রায় ৭৫% মানুষ কৃষির উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। ২০১৬-১৭অর্থবছরে দেশের জিডিপির ১৪.৭৯% আসে কৃষি থেকে। বাংলাদেশের শিল্পের কাঁচামালের বেশিরভাগই আসে কৃষি থেকে। তাই বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!