উদ্দীপকের সাথে অনুমানের সাদৃশ্য বিদ্যমান। অনুমানকেও প্রাথমিক অবস্থায় দুভাবে এরপর বিভিন্নভাগে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। অনুমান প্রধানত দুই প্রকার। যথা: অবরোহ অনুমান ও আরোহ অনুমান।
অবরোহ অনুমান : যে ধরনের অনুমান প্রক্রিয়ায় একটি সার্বিক বিষয়ের অন্তর্গত অংশবিশেষ সম্পর্কে অনুমান করা হয় তাকে অবরোহ অনুমান বলে। অবরোহ অনুমান আবার এ দু ধরনের হয়ে থাকে। যথা :
১. অমাধ্যম অবরোহ অনুমান : যে অবরোহ অনুমানে একটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়, তাকে 'অমাধ্যম অবরোহ অনুমান' বলে।
২ . মাধ্যম অবরোহ অনুমান: যে অবরোহ অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়, তাকে 'মাধ্যম অবরোহ অনুমান' বলে। এ অনুমান আবার দুই প্রকার। যথা: শুদ্ধ অনুমান ও মিশ্র অনুমান।
i. শুদ্ধ অনুমান: যে মাধ্যম অবরোহ অনুমানে একই সম্বন্ধ বিশিষ্ট বাক্যের সমন্বয়ে যুক্তি গঠিত হয়, তাকে শুদ্ধ অনুমান বলে, যা নিরপেক্ষ, প্রাকল্পিক ও বৈকল্পিক- এ তিন ধরনের হয়ে থাকে।
ii. মিশ্র সহানুমান: যে মাধ্যম অবরোহ অনুমানে বিভিন্ন সম্বন্ধবিশিষ্ট বাক্যের সমন্বয়ে যুক্তি গঠিত হয় তাকে মিশ্র অনুমান বলে, যা প্রাকল্পিক নিরপেক্ষ, বৈকল্পিক নিরপেক্ষ ও দ্বিকল্প- এ তিন ধরনের হয়।
আরোহ অনুমান: যে ধরনের অনুমান প্রক্রিয়ায় কিছু বিশেষ ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে একটি সার্বিক সত্যে উত্তরণ ঘটে তাকে আরোহ অনুমান বলে। আরোহ অনুমানের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আরোহাত্মক উল্লম্ফন, যার ভিত্তিতে একে প্রকৃত ও অপ্রকৃত- এ দু'ভাগে ভাগ করা হয়।
১ . প্রকৃত আরোহ : এরূপ অনুমানে আরোহাত্মক উল্লম্ফন উপস্থিত থাকে। প্রকৃত আরোহ অনুমানকে বৈজ্ঞানিক, অবৈজ্ঞানিক ও সাদৃশ্যমূলক- এ তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
২. অপ্রকৃত আরোহ : এরূপ অনুমানে আরোহাত্মক উল্লম্ফন উপস্থিত। থাকে না। এ জাতীয় অনুমান পূর্ণাঙ্গ, ঘটনা সংযোজন ও যুক্তিসাম্যমূলক- এ তিন ধরনের হয়।
Related Question
View Allঅমাধ্যম অনুমান হলো যে অবরোহ অনুমানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি সরাসরি অনুমিত হয় বা নিঃসৃত হয়।
মাধ্যম অনুমান হলো পরোক্ষ অনুমান। যে অবরোহ অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি নিঃসৃত হয় বা অনুমিত হয় তাকে 'মাধ্যম অনুমান' বলে। মাধ্যম অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থাকা বাধ্যতামূলক। কারণ মাধ্যম অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, একটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় না। যেমন-
A – সকল মানুষ হয় মরণশীল।
A – রহিম হয় একজন মানুষ।
A - রহিম হয় মরণশীল।
উদ্দীপকে মিজান সাহেবের বক্তব্য আরোহ অনুমানমূলক। আরোহ অনুমান অনুযায়ী অনুমান প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। যেমন-
মতিন হয় দানশীল ব্যক্তি এবং ধনী।
মজিদ হয় দানশীল ব্যক্তি এবং ধনী।
মাখন হয় দানশীল ব্যক্তি এবং ধনী।
সকল ধনী ব্যক্তি দানশীল।
মিজান সাহেব বাস্তবে কিছু মানুষকে দেখেছে যে তারা ধনী এবং দানশীল। সুতরাং তিনি সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে সকল ধনী ব্যক্তি হয় দানশীল। এখানে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যগুলোর চেয়ে বেশি ব্যাপক হয়েছে। আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে কিছু লোক এর দানশীল ও ধনীর দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে সিদ্ধান্তটি প্রমাণ করা যথেষ্ট নয়। এ কারণে আরোহ অনুমান এর সিদ্ধান্ত সব সময় সম্ভাব্য হয়।
সুতরাং উদ্দীপকে মিজান সাহেবের বক্তব্যটি একটি আরোহ অনুমান। যার সিদ্ধান্ত সবসময় সম্ভাব্য হয়। কারণ আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত বা অনুমিত হয় না, সিদ্ধান্তে আশ্রয়বাক্য থেকে নতুন তথ্য প্রকাশ করে।
উদ্দীপকে যে যুক্তিটি দেওয়া আছে তা হলো-
সকল জ্ঞানী হয় ধনী।
সকল কবি হয় ধনী।
সকল কবি হয় জ্ঞানী।
এই যুক্তিটি একটি অবরোহমূলক যুক্তি। এই দৃষ্টান্তে আশ্রয়বাক্য রয়েছে দুটি। আর আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। তাই এটি অবরোহ অনুমান। যে অনুমানে এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে 'অবরোহ অনুমান' বলে। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের চেয়ে কম ব্যাপক বা সমান ব্যাপক হতে হবে। উপরোক্ত অনুমানে সমান ব্যাপক সিদ্ধান্ত হয়েছে। উদ্দীপকের উক্ত যুক্তিটি বৈধ। কারণ আশ্রয়বাক্য হতে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। তবে যুক্তির আশ্রয় বাক্যগুলোর সত্যতা থেকে সিদ্ধান্তের সত্যতা যদি যাচাই করতে যাই তবে তা মিথ্যা। কারণ 'সকল জ্ঞানী হয় ধনী' আশ্রয়বাক্যটি বস্তুগত মিথ্যা এবং 'সকল কবি হয় ধনী' আশ্রয়বাক্যটি বস্তুগতভাবে মিথ্যা। সকল জ্ঞানী ধনী • নাও হতে পারে, আবার, সকল কবি ধনী নয়। তাই উভয় আশ্রয়বাক্য বস্তুগতভাবে মিথ্যা। সুতরাং সিদ্ধান্তে তথ্য 'সকল কবি হয় জ্ঞানী' বস্তুগতভাবে মিথ্যা। আশ্রয়বাক্য বস্তুগত মিথ্যা হলে সিদ্ধান্ত বস্তুগতভাবে মিথ্যা।
উদ্দীপকের যুক্তিটির আশ্রয়বাক্য, সিদ্ধান্ত বস্তুগতভাবে সত্য মিথ্যার উপর যুক্তির বৈধতা-অবৈধতা নির্ভর করে না। তাই এখানে আশ্রয় বাক্য ও সিদ্ধান্ত বস্তুগতভাবে মিথ্যা হলেও যুক্তিটি বৈধ। কারণ আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হলে যুক্তিটি বৈধ হয়। আর উক্ত যুক্তির আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। সুতরাং, যুক্তিটি বৈধ।
যে অবরোহ অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয় সেটিই হলো 'মাধ্যম অনুমান'।
যে অনুমান প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্তটি এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় এবং যার সিদ্ধান্তটি কখনোই আশ্রয়বাক্যের চেয়ে ব্যাপক হতে পারে না, তবে অনেক ক্ষেত্রে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত সমব্যাপক হয় সেটিই হলো 'অবরোহ অনুমান'। যেমন-
সকল মানুষ হয় মরণশীল।
রহিম হয় একজন মানুষ।
রহিম হয় মরণশীল।
উপরের দৃষ্টান্তে সিদ্ধান্তটি দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের চেয়ে কম ব্যাপক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!