"উদ্দীপকের স্টিভ জবস-ই কামিনী রায়ের কাঙ্ক্ষিত মানুষ।" -মন্তব্যটি যথার্থ।
জগতে মহৎ কাজ করে আদর্শ স্থাপন করতে চাইলে, নিন্দুকের নিন্দা, সমালোচনার ভয় উপেক্ষা করে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। মানুষের সমালোচনার ভয়ে নিজের সংকল্প, নিজের স্বপ্ন লুকিয়ে রাখা উচিত নয়। সব ধরনের বাধা উপেক্ষা করে লক্ষ্য স্থির রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
উদ্দীপকে লোকনিন্দা ও সমালোচনাকে উপেক্ষা করে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া একজন সফল মানুষের কথা বলা হয়েছে। এই সফল মানুষ 'অ্যাপল' কোম্পানির মালিক স্টিভ জবস। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ না করেও কেবল চেষ্টা এবং কর্ম দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন। তাঁর বন্ধু-বান্ধব এবং তাঁর পরিবার তাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। তাদের আচরণে তিনি মর্মাহত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াননি। সবার নেতিবাচক মন্তব্যকে উপেক্ষা করে তিনি এগিয়ে গেছেন। উদ্দীপকের এই স্টিভ জবসের মতো ব্যক্তিই কবি কামিনী রায় তার 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতায় প্রত্যাশা করেছেন। এ কবিতায় তিনি মানুষকে নিন্দুকের নিন্দাকে পিছনে ফেলে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে বলেছেন।
'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতায় কবি কামিনী রায় লোকলজ্জা ভয় উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যেতে বলেছেন। যাঁরা সমাজে অবদান রাখতে চান তাঁদের দ্বিধা করলে চলবে না। উদ্দীপকের স্টিভ জবসের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায়, যে স্টিভ জবসই কামিনী রায়ের কাঙ্ক্ষিত মানুষ।
Related Question
View All'প্রশমিতে' শব্দটির অর্থ উপশম ঘটাতে।
"সংশয়ে সংকল্প সদা টলে" বলতে কবি বুঝিয়েছেন কোনো কাজ সম্পর্কে সন্দেহ থাকলে সেই কাজের সংকল্প বা ইচ্ছা নষ্ট হয়।
মনের ভেতরে সংশয় কাজ করলে কোনো ইচ্ছা বা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করা যায় না। কাজ করতে গিয়ে লজ্জার মুখে পড়তে হয় কিনা এ চিন্তা করলে মনের মধ্যে সংশয় দানা বাঁধে। তখন আর কাজটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। মন স্থির না থাকায় সব সময় দ্বিধা কাজ করে।
উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্য 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার চতুর্থ স্তবকের বিপরীত ভাব ধারণ করেছে।
ভালো কাজ করতে আগ্রহী মানুষের কাজ কীভাবে প্রতিহত করা যায় নিন্দুকেরা সে চেস্টায় নিয়োজিত থাকে। তারা মানুষের হৃদয়ের শুভচিন্তা ও কল্যাণধর্মী কর্মকান্ডের বিরোধিতা করে এবং কৌশলে সেগুলো নষ্ট করে দেয়।
উদ্দীপকের প্রথম স্তবকে কবি পরোপকারী মনোভাবসম্পন্ন নিঃস্বার্থ ব্যক্তির কথা বলেছেন। যে লোকটির মানসিকতা 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার চতুর্থ স্তবকের বিপরীত চেতনা প্রকাশ করে। কারণ আলোচ্য রচনার চতুর্থ স্তবকে মানব কল্যাণে কাজ করতে ইচ্ছা পোষণকারীদের সমালোচনার ভয়ে কাজ না করে নিজেদের গুটিয়ে রাখার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে, এক শ্রেণির মানুষ মানুষের দুঃখে প্রাণ কাঁদলেও তারা চোখ শুকনো রাখে। ভাবে সহানুভূতি প্রকাশ করলে লোকে কী বলবে। অন্যদিকে উদ্দীপকের প্রথম অংশে বলা হয়েছে পৃথিবীতে কেউ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে আসেনি। সকলে সকলের জন্য। মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত মর্যাদা, প্রাপ্তি ও সার্থকতা নিহিত আছে বলে কবি মনে করেছেন। কারণ পৃথিবীতে একে অন্যের কল্যাণ সাধনের মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ লাভ হয়; শুধু নিজেকে নিয়ে বিব্রত থাকায় কোনো আনন্দ নেই।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের নিন্দুক ও 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার নিন্দুকের প্রভাব এক নয়।
জগতের বহু কল্যাণকর শুভচিন্তা আমাদের হৃদয়ে উদয় হয়। অথচ পেছনে কে কী বলে সেই দিক বিবেচনায় আমরা তা ফলপ্রসূ করতে পারি না। ফলে মনের সেই শুভ চিন্তাগুলো সমালোচনার ভয়ে মনেই মরে যায়। বাস্তব জগতে প্রকাশ করে কাজে লাগিয়ে জগতের কল্যাণ সাধন করা আর হয়ে ওঠে না।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে এবং 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতা উভয় জায়গায় নিন্দুকের কথা প্রকাশ পেয়েছে। তবে উভয় জায়গার নিন্দুক ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব বিস্তার করেছে। উদ্দীপকের নিন্দুক নিন্দা করে ভুল ধরিয়ে দেয়। আর কবিতার যে নিন্দুকের কথা বলা হয়েছে সে সৎচিন্তা, সংকল্প ও মানব কল্যাণের সমস্ত চেষ্টা ও কাজের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। তাদের ভয়ে মানুষ মনের ভাব-ভাবনা ও ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে জগতের কল্যাণ সাধনে ব্রতী হতে পারি না।
উদ্দীপকের নিন্দুককে কবি ভালোবাসতে বলেছেন। কারণ তারা জগতের অহিতকর চিন্তাকে সমালোচনা করে হিতকল্পের উপযোগী করতে সহায়তা করে। তাদের সমালোচনায় একজন তাঁর ভুল সংশোধন করে পরিপূর্ণতা অর্জন করতে পারে। আর 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার নিন্দুক ভুল সংশোধন নয়, মানুষের শুভবোধ ও বুদ্ধির বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে জগতে কল্যাণ সাধনকে ব্যাহত করে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের নিন্দুক ও আলোচ্য কবিতার নিন্দুকের প্রভাব এক নয়।
ম্রিয়মাণ শব্দের অর্থ- কাতর বা বিষাদগ্রস্ত।
'শক্তি মরে ভীতির কবলে, পাছে লোকে কিছু বলে'- বলতে কবি কোনো কাজ করার জন্য উদ্যোগী হয়েও অন্যের সমালোচনার ভয়ে সেই ইচ্ছাশক্তির বিনষ্ট হওয়াকে বুঝিয়েছেন।
অনেক আছে যারা অকারণে ভয় পায়। অন্যের সমালোচনার ভয়ে বিভিন্ন কাজ থেকে পিছিয়ে আসে। সেই ভয় পাওয়ার ফলে তারা অনেক সহজ ও কল্যাণকর কাজও করতে পারে না। কারণ কাজ করার আগ্রহ তাতে কমে যায়। ফলে তার ইচ্ছাশক্তি ও সামর্থ্যও বিনষ্ট হয়। এ কথা ভেবেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!