উদ্দীপকের ২য় অনুচ্ছেদে মধ্যযুগের স্থাপত্য ও চিত্রকলার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
মধ্যযুগে মুসলমান শাসকগণ স্থাপত্যকর্মে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এ সময়ের শাসকগণ নিজেদের রাজ্যজয় ও শাসনকালকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে অনেক প্রাসাদ, মসজিদ, কবর, দরগাহ ইত্যাদি নির্মাণ করেছিলেন। মসজিদ নির্মাণকে মুসলমান শাসকগণ অতিশয় পুণ্যের কাজ বলে বিবেচনা করতেন। সুলতানি আমলের স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে এখনও অনেক স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। গৌড়ের আদিনা মসজিদ, বড় সোনা মসজিদ, ছোট সোনা মসজিদ, কদম রসুল, দাখিল দরওয়াজা, পান্ডুয়ার এক লাখি মসজিদ, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ, ঢাকার বাবা আদমের মসজিদ, লালবাগের শাহি মসজিদ, হোসেনী দালান ইত্যাদি মধ্যযুগের নির্মাণশৈলীর পরিচয় বহন করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আমজাদ সাহেব ও তার ভাই একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, যার নির্মাণশৈলী এমন কারুকার্যমণ্ডিত ছিল যে, বহুদুর থেকেও লোকে মসজিদটি দেখতে আসে। উদ্দীপকের এ মসজিদ মধ্যযুগের স্থাপত্যকর্ম ও চিত্রকলার প্রতিচ্ছবিকেই তুলে ধরে।
Related Question
View Allকবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারত বাংলায় অনুবাদ করেন।
বাংলার মাটিতে কৃষিজাত দ্রব্যের প্রাচুর্য ছিল। বাংলার কৃষিভূমি অস্বাভাবিক উর্বর হওয়ায় এখানে ধান, গম, পাট, আদা, পিঁয়াজ, তেল, সরিষা, পান, সুপারি, রেশম, ডাল, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হতো। ফলে উদ্বৃত্ত বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হতো। এর ফলে বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটেছিল।
রেজা সাহেবের বাড়ির খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে বাংলার সুলতানি আমলের মিল রয়েছে।
সুলতানি আমলে বাংলার অভিজাতরা ভোজনবিলাসী ছিলেন। তাদের খাদ্য তালিকায় ছিল মাছ, মাংস, শাক, সবজি, দুধ, দধি, ঘৃত, ক্ষীর ইত্যাদি। এছাড়াও তাদের খাদ্য তালিকায় আচারের নামও পাওয়া যায়। এসব খাবারের পাশাপাশি কাবাব, রেজালা, কোর্মা আর ঘিয়ে রান্না করা যাবতীয় মুখরোচক খাবার জায়গা করে নেয়। খাদ্য হিসেবে রুটির কথাও পাওয়া যায়। খিচুড়ি ছিল তখনকার সমাজের প্রধান খাদ্য।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি যে, রেজা সাহেব গত সপ্তাহে তার মেয়ের জন্মদিনে পোলাও, কাবাব, রেজালা ও মিষ্টির আয়োজন করেন। এ খাবারগুলোর সাথে বাংলার সুলতানি আমলের খাওয়া-দাওয়ার মিল বিদ্যমান।
রেজা সাহেবের অর্থনৈতিক অবস্থা সুলতানি আমলের চেয়ে সমৃদ্ধ ছিল না বলে আমি মনে করি।
সুলতানি আমলে বাংলায় অনেক কৃষিপণ্য উৎপন্ন হতো। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ধান, গম, পাট, রেশম, হলুদ, শশা, পিঁয়াজ, তুলা, আদা, জোয়ার, তিল, পান, সুপারি, আম, কাঁঠাল, কলা ইত্যাদি। ফলে উদ্বৃত্ত দ্রব্য বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হতো। এছাড়াও বস্ত্রশিল্পে বাংলার অগ্রগতি ছিল সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। এখানকার নির্মিত বস্ত্রগুলো গুণ ও মানের বিচারে যথেষ্ট উন্নত ছিল বিধায় বিদেশে এগুলোর প্রচুর চাহিদা ছিল। এদেশের মসলিন কাপড়ের প্রচুর চাহিদা ছিল ইউরোপের বাজারে।
এছাড়া সুলতানি আমলে বাংলার রপ্তানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, সুতি কাপড়, রেশমি বস্ত্র, চিনি, গুড়, আদা, লঙ্কা, লবণ, নানা প্রকার মসলা, আফিম, ঔষধ ইত্যাদি। বাংলায় আমদানি করা হতো স্বর্ণ, রৌপ্য ও মূল্যবান পাথর। ফলে রপ্তানি বেশি হওয়ার কারণে বাংলার অর্থনৈতিক প্রাচুর্য বজায় ছিল সুলতানি আমলে।
উদ্দীপকের রেজা সাহেবের আমদানি ও রপ্তানি দ্রব্যের পরিমাণ খুবই স্বল্প। তাই একথা বলা যায় যে, রেজা সাহেবের অর্থনৈতিক অবস্থার চেয়ে সুলতানি আমলের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও সমৃদ্ধ ছিল।
সুবাদার শায়েস্তা খান হোসেনী দালান নির্মাণ করেন।
বাংলার বহু স্থানে আজও মুঘল শাসকদের শিল্প প্রীতির নিদর্শন রয়েছে। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় বহু সংখ্যক মসজিদ, সমাধি ভবন, স্মৃতিসৌধ, মাজার, দুর্গ, স্তম্ভ ও তোরণ নির্মিত হয়েছিল। ফলে স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য মধ্য যুগকে মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!