বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জনাৰ 'ক' অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল অনবদ্য। বাঙালি জাতির নেতৃত্বের প্রধান আসনে যার ভূমিকা ছিল অনন্য তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বুঝেছিলেন, স্বাভাবিক পথে পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না বরং আন্দোলনের মাধ্যমেই তা আদায় করে নিতে হবে। তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে ২ ও ৩ মার্চ হরতাল এবং ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভার কর্মসূচি দেন। যথাসময়ে হরতাল কর্মসূচি পালিত হয়। হরতালের সময় পুলিশ গুলি চালালে সাধারণ মানুষ আরও বিক্ষুব্ধ হয়। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। বঙ্গবন্ধু ধাপে ধাপে আন্দোলন এগিয়ে নিতে থাকেন। তিনি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। অবশেষে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এই ভাষণে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল প্রেরণা পাওয়া যায়। মূলত স্বাধীনতা যুদ্ধের সবুজ সংকেত ছিল এই ভাষণ। অনেকের মতে, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণই হলো স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। তিনি অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই মূলত পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক প্রশাসন চলতে থাকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মান্য করে। এভাবেই শুরু হয়ে যায় স্বাধীনতা সংগ্রাম, যার মূল ভূমিকায় ছিলেন বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
অতএব উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল অসামান্য।
Related Question
View All'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' বই-এর লেখক ড. এ. কে. নাজমুল করিম।
বিবাহ বিহীন পরিবার গঠন দিবালোকে স্বপ্ন দেখার মতো। এমন কোনো পরিবারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি যারা বিবাহ বহির্ভূত পরিবার গঠন করেছে। এজন্য পরিবারের ভিত্তি বলা হয় বিবাহকে। যখন একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোক একত্রে বৈধভাবে বসবাস করে তখন তাকে পরিবার বলে। এ সংজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পরিবার গঠনের পূর্বশর্ত বিবাহ।
উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালিদের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বশ্যতা স্বীকার করানোর জন্য পাকিস্তানিরা উঠে পড়ে লাগে। ১৯৪৭ সালেই উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব আসলে বুদ্ধিজীবীরা নানা রচনার মাধ্যমে তার প্রতিবাদ জানান। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় বলেন, "উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।" বাংলার নির্ভীক ছাত্রসমাজ সাথে সাথে এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। তারপর ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন ঢাকার এক জনসভায় আবারও ঘোষণা করেন, "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।" এ ঘোষণা শোনা মাত্রই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ভাষা আন্দোলনের গতিকে তীব্রতর করতে গঠিত হয় 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'। তীব্র আন্দোলন চলার এক পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্ররা মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ বাহিনী গুলি করলে বরকত, জব্বার, রফিক প্রমুখ শহিদ হন।
উদ্দীপকের আইদান প্রভাত ফেরীতে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে বাবাকে জিজ্ঞেস করে, আমরা শহিদ মিনারে কেন ফুল দেই? বাবা বলেন, এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য ছাত্রজনতা বুকের রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়েছিল। তাদের স্মরণে আমরা শহিদ মিনারে ফুল দেই। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আইদানের বাবার বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের দিবসটি অর্থাৎ শহীদ দিবসের মতোই স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ইত্যাদি বাংলাদেশের নগর সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
বাঙালির বিভিন্ন দিবস পালনকে সাংস্কৃতিক অথবা আর্থ-সামাজিক যেভাবেই বিবেচনা করি না কেন, তার গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না। গ্রামীণ ও নগর সংস্কৃতিতে এসব দিবস পালনের অনুষ্ঠানে ভিন্নতা দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবেই গ্রামীণ সংস্কৃতি অপেক্ষা নগর সংস্কৃতিতে যেকোনো দিবস ঘটা করে পালন করা হয়। যেমন ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। এ দিনটি উপলক্ষে নগরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড হাতে নেওয়া হয়। যেমন- আনন্দ র্যালি বের করা, বিভিন্ন সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, ইত্যাদি করা হয়। এসব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবসময়ই নগরবাসীকে অনুপ্রেরণা যোগায়। এ কারণে নগর সমাজের মানুষ জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দিবসের অনুষ্ঠানে আগ্রহ সহকারে অংশগ্রহণ করে। এছাড়া এ জাতীয় অনুষ্ঠান নগর সমাজের শিশুরা খুব কাছে থেকে উপভোগ করে বলে তাদের মধ্যে গভীর দেশপ্রেম দানা বাঁধতে থাকে। ফলে দেশের প্রতি তাদের মনে গভীর ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, এসব দিবস উদযাপন নগর সমাজের সব শ্রেণি ও পর্যায়ের মানুষের মধ্যে এক ধরনের জাতীয়তাবাদী চেতনা তৈরি করে।
উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, বাঙালির বিভিন্ন দিবস উদযাপন নগর সংস্কৃতি বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
সংস্কৃতি জাতির পরিচয় বহন করে।
সাঁওতালরা মূলত এ দেশে আসে কৃষি মজুর হয়ে, জমি পরিষ্কার করে চাষাবাদ করার জন্য, রেললাইন বসাতে এবং চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে। ধারণা করা হয়, বর্তমান সাঁওতালদের পূর্বপুরুষরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার রাজ্য ও অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চল থেকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে এসে এখানকার পার্বত্য এলাকা ও আশপাশের বন-জঙ্গলে ও পতিত জমিতে বসতি স্থাপন করে। পরে তারা এসব বন-জঙ্গল পরিষ্কার করে পতিত জমিকে চাষযোগ্য করে তোলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!