যে আসনে অবস্থানকালে আসন অভ্যাসকারীর পায়ের অবস্থান গরুর মুখের মতো হয়, তাকে গোমুখাসন বলে।
নিত্যকর্মের দ্বারা শুভকর্মের ফল সর্বদাই প্রত্যক্ষ করা যায়। প্রত্যেক শুভকর্ম করার জন্য একটা সময় নির্ধারিত হয়ে যায়। নিত্যকর্মকর্তাদের ঘরবাড়ি পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন, শুদ্ধ ও পবিত্র থাকে। ভোরে ঘুম ভাঙতেই ব্রাহ্মমুহূর্তে শুভ সংকল্প করে মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে শ্রদ্ধা-ভক্তি সহকারে ঈশ্বরকে ডাকলে আলস্য দূর হয় এবং সমস্ত দিন সুন্দরভাবে কেটে যায়।
উদ্দীপক-১ অনুযায়ী সত্যম 'ভুজঙ্গাসন' অনুশীলন করে। ভুজঙ্গাসন
অনুশীলনের নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন আছে। শরীরের সমস্ত মাংসপেশিকে শিথিল করে দুটো পা-জোড়া ও লম্বা করে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়তে হবে। পায়ের আঙ্গুলগুলো মাটির সাথে লেগে থাকবে। হাঁটু, উরু ও গোড়ালি সোজা থাকবে। দুই হাত কনুইয়ের কাছ থেকে ভেঙে দুই হাতের তালু উপুড় করে পাঁজরের কাছে দুপাশে মাটিতে রাখতে হবে। এরপর হাতের ওপর অল্প ভর দিয়ে চিবুক উপরে তুলে ঘাড় পিছন দিকে নিতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে পা থেকে নাভি পর্যন্ত শরীরের নিচের অংশ ভূমিসংলগ্ন রেখে দেহের উপরের অংশ হাতের ওপর বেশি জোর না দিয়ে বুক ও কোমরের ওপর জোর দিয়ে উপরে তুলতে হবে। এ অবস্থায় সমস্ত শরীর শিথিল করে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। এরপর আস্তে আস্তে পেট, বুক, ঘাড় ও চিবুক নামিয়ে ভূমিসংলগ্ন করতে হবে এবং ৩০ সেকেন্ড চিৎ হয়ে শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এ আসন অভ্যাসকালে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। এভাবে ভুজঙ্গাসন অনুশীলন করতে হবে। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সত্যম দুই পা জোড়া করে, সোজা উপুড় হয়ে শুয়ে অনেকটা বিষধর প্রাণীর ফণার মতো করে ভুজঙ্গাসনটি অনুশীলন করে।
উদ্দীপক-২ এ উল্লিখিত আসনটি হচ্ছে বজ্রাসন। এ আসনটি অনুশীলনের প্রভাব অপরিসীম।
যোগশাস্ত্রমতে বজ্রাসন অভ্যাসে দেহের নিম্নভাগের স্নায়ুপেশি বজ্রের মতো কঠিন, মজবুত ও সুদৃঢ় হয়। এটি খাওয়ার পরে করা একমাত্র আসন। হাঁটু ও গোড়ালির গাঁটের বাতজনিত ব্যথা দূর হয়, সায়টিকা সারে। পায়ের পেশি ও স্নায়ুজাল সতেজ ও সক্রিয় হয়। অক্ষুধা ও অনিদ্রা দূর হয়। মনের চঞ্চলতা দূর হয়। স্বাস্থ্য সুন্দর ও লাবণ্যময় হয়। পরিপূর্ণ আহারের পর এ আসনটি ৫ থেকে ১৫ মিনিট অভ্যাস করলে খাদ্যবস্তু সহজে হজম হয় এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়।
বজ্রাসনে বসে চুল আঁচড়ালে সহজে চুল পাকে না বা পড়ে না।
Related Question
View Allগোমুখাসন অনুশীলনে অসমান কাঁধ সমান হয়।
বিনম্রতার প্রতীক হচ্ছে নমস্কার। প্রতিদিন গুরুজনকে নমস্কার করলে তাঁদের প্রতি কখনো খারাপ ব্যবহার, অসম্মান বা অমর্যাদা করার সাহস হয় না। যেখানে শ্রদ্ধাভক্তি ও সম্মানের ভাব থাকে সেখানেই বিনম্রতার সৃষ্টি হয়। সেজন্য পিতামাতা, বিদ্বান, বয়োবৃদ্ধ ও গুরুজনদেরকে নিত্য নমস্কার করতে হবে।
উদ্দীপকে প্রাপ্তী খাওয়ার পরে বজ্রাসন অনুশীলন করছে। কেননা এটিই একমাত্র আসন যা খাওয়ার পর অনুশীলন করা যায়। বজ্রাসন অনুশীলনে হাঁটু ভেঙে পা দুটো পিছন থেকে মুড়ে নিতম্বের নিচে এমনভাবে রাখতে হবে যেন গোড়ালি দুটো বাইরের দিকে বেরিয়ে থাকে এবং পায়ের পাতা নিতম্বের সঙ্গে লেগে থাকে। এ অবস্থায় দু-পায়ের বুড়ো আঙুল পরস্পরের সঙ্গে লেগে থাকবে এবং কোমর, গ্রীবা এবং মাথা সোজা হয়ে থাকবে। দুই হাঁটু পরস্পরের সঙ্গে লেগে থাকবে। হাতের কনুই না ভেঙে ডান হাত থাকবে ডান হাঁটুর উপর পাতা এবং বাঁ হাত থাকবে বাঁ হাঁটুর উপর পাতা। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এভাবে ৩০ সেকেন্ড বসতে হবে। তারপর ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে ৩/৪ বার আসনটি অভ্যাস করতে হবে। এভাবেই প্রাপ্তী তার আসনটি অনুশীলন করে থাকে।
স্বপ্নার অনুশীলনকৃত আসনটি হলো ভুজঙ্গাসন। নিচে এ আসনের প্রভাব তুলে ধরা হলো- ১. মেরুদণ্ড নমনীয় হয়; ২. বাঁকা মেরুদণ্ড সোজা ও সরল হয়; ৩. মেরুদণ্ডের বাত সারে; ৪. পিঠের ও কোমরের পেশি মজবুত হয়, কোমরে ব্যথা হতে পারে না; ৫. স্নায়ুমণ্ডলী সতেজ হয়; ৬. শরীরের নিস্তেজ ভাব দূর হয় ও নতুন শক্তি জন্মায়; ৭. হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস সবল হয়। ৮. বুকের গঠন সুন্দর হয় এবং দেহের লাবণ্য বৃদ্ধি পায়; ৯. যকৃৎ ও প্লীহার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, হজমশক্তি বাড়ে; ১০. অজীর্ণ, অম্বল, অক্ষুধা, গ্যাস্ট্রিক, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগে সুফল পাওয়া যায়; ১১. যারা কোলকুঁজো তাদের বিশের উপকার হয়।
ভুজঙ্গাসন অনুসরণ ও অনুশীলনে স্বপ্নার কোলকুঁজো ভাব ও বাতের ব্যথা সেরে যাবে বলে আশা করা যায়। এর পাশাপাশি তার অশান্ত মন শান্ত হয় ও তার আত্মশক্তি বৃদ্ধি পায়।
যে আসন অনুশীলনকালে আসন অনুশীলনকারীকে ফণাতোলা ভুজঙ্গ বা সাপের মতো দেখায় তাকে ভুজঙ্গাসন বলে।
সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়'- কথাটি দ্বারা বোঝায় সময়ের কাজ সময়ে করার প্রয়োজনীয়তাকে। নিত্যকর্ম অনুশীলন করার মাধ্যমে মানুষের মাঝে সুঅভ্যাস গড়ে ওঠে। যারা নিত্যকর্ম যথাসময়ে সম্পাদন করতে পারেন তারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন না সময়মতো কোনো কাজ না করে অসময়ে করতে গেলে নানা ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। এ বিষয়টি বুঝাতেই প্রশ্নের কথাটি বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
