উদ্দীপকে আদনান সামাজিক বিজ্ঞানের অন্তর্গত সমাজকর্ম বিষয়ে অধ্যয়ন করছে।
সমাজকর্ম হলো সমস্যা সমাধানের আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সেবামূলক একটি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে সমাজের মানুষের সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে তাদেরকে সমাজের আদর্শ ও মূল্যবোধ অনুযায়ী গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। এটি বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্বতন্ত্র পেশা হিসেবে স্বীকৃত।
উদ্দীপকে আদনানের অধ্যয়নরত বিষয়টির বৈশিষ্ট্য হিসেবে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, ব্যবহারিক দক্ষতা ও সুনির্দিষ্ট মূল্যবোধভিত্তিক পেশার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই পেশার মাধ্যমে সামাজিক সমস্যার বিজ্ঞানসম্মত সমাধান করা হয়। এ থেকে বোঝা যায়, বিষয়টি সমাজকর্ম। কারণ সমাজকর্মের প্রকৃতি ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য উক্ত বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়। সামাজিক বিজ্ঞানের একটি শাখা হিসেবে সমাজকর্মে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ রয়েছে। সেই সাথে অর্জিত জ্ঞান দক্ষতা ও নৈপুণ্যের সাথে বাস্তবে ব্যবহারের ক্ষেত্রও রয়েছে। আর এই ক্ষেত্রই হলো উদ্দীপকে উল্লিখিত সামাজিক সমস্যা। তাই একটি পূর্ণাঙ্গ পেশা হিসেবে সমাজকর্ম মূল্যবোধ ও ব্যবহারিক নীতিমালার সমন্বয় ঘটিয়ে সমাজের নানা সমস্যার বিজ্ঞানসম্মত ও কার্যকর সমাধান করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি সমাজকর্মকেই নির্দেশ করে।
Related Question
View Allসমাজ হলো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের এক জটিল রূপ, যেখানে মানুষ পরস্পর সংঘবদ্ধভাবে বসবাস করার সুযোগ লাভকরে।
সমাজ পরিবর্তনশীল হওয়ায় সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা দেয়।
সমাজে বসবাসকারী সদস্যদের মধ্যে সর্বদা সামাজিক সম্পর্ক বিদ্যমান। সমাজ পরিবর্তনশীল হওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের ওপর এর প্রভাব পড়ে। গতিশীল সমাজের সাথে সাথে সামাজিক সম্পর্কও দ্রুত পরিবর্তিত হয়। যার সাথে মানুষ সামঞ্জস্য বিধানে ব্যর্থ হয়।
উদ্দীপকের বর্ণনায় সমাজকর্মের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত রয়েছে।
সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সামাজিক ভূমিকা পালনের জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরের জনগণকে সক্রিয় ও সক্ষম করে তোলা এবং অনুকূল সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করা। উদ্দীপকে বর্ণিত গবেষণাকর্মীদের কাজে এ উদ্দেশ্যের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের ভোলা জেলার ঢালচর অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একদল সমাজকর্মী কাজ করছে। তারা ঐ অঞ্চলের মানুষকে নিজস্ব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সক্ষম করে তোলে। তাদের এ কাজে সমাজকর্মের চারটি লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। এগুলো হলো- জনগণের সমস্যা সমাধানে উপযোজন ক্ষমতার উন্নয়ন; সম্পদ, সেবা, ও সুযোগের সাথে মানুষের সংযোগ ঘটানো; মানুষের হৃতক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও কার্যকর ভূমিকা পালনে তাদেরকে সক্ষম করে তোলা এবং ব্যক্তিগতও সামাজিক সম্পদের সর্বোচ্চ সমাবেশ ঘটানো। উদ্দীপকের গবেষণাকর্মীদের কাজে সমাজকর্মের উল্লিখিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যগুলোই খুঁজে পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের বৃহত্তর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের মাত্র চারটি প্রতিফলিত হওয়ায় বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনায় সমাজকর্মের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।
সমাজকর্ম একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর সাহায্যকারী পেশা। সমাজ থেকে যেকোনো ধরনের অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি দূরীকরণে এটি পরিকল্পিত উপায়ে প্রচেষ্টা চালায় এবং গঠনমূলক পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। সমাজের সার্বিক কল্যাণ সাধনের এ বৃহত্তর কাজটি করতে সমাজকর্ম সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন উপাদানের সহায়তা নেয়। উদ্দীপকে সমাজকর্মের বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের কিছু উপায়ের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
সমাজ পরিবর্তনশীল। আর এ পরিবর্তনশীল প্রকৃতির সাথে খাপ খাওয়াতে মানুষের প্রচেষ্টা সর্বাগ্রে থাকে। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাও নেহায়েত কম নয়। সমাজকর্ম অনেক সময় উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও জনগণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এবং সামাজিক নীতির বিকাশ সাধনের প্রচেষ্টা চালায়। ব্যক্তি, দল বা সমষ্টিকে স্বাবলম্বী করে তুলতে সমাজকর্ম তাদের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ তথা সচেতনতা সৃষ্টি করে। এই সচেতনতাবোধই তাদেরকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে কার্যকর মানবীয় সেবা ত্বরান্বিত করতে সমাজকর্ম নেতৃত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে সামাজিক কাজে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। সেই সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। দেশের প্রচলিত সমাজসেবামূলক কার্যক্রমগুলোর উন্নয়ন, সামাজিক কার্যক্রম জোরদার করা, সামাজিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা সমাজকর্মের অন্যতম লক্ষ্য। মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করে মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব থেকে মুক্তি দেওয়াও সমাজকর্মের লক্ষ্য।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের উল্লিখিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। তাই বলা যায় উদ্দীপকটি সমাজকর্মের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সামগ্রিক রূপ নয়।
IFSW-এর পূর্ণরূপ- International Federation of Social Workers.
শিল্পবিপ্লব পরবর্তী আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে।
সামাজিক পরিবর্তনের ফলে সমাজে বসবাসরত মানুষের সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা দেয়। স্বাভাবিকভাবেই, সামাজিক সম্পর্কের এ গতিশীল পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য বিধানে মানুষ ব্যর্থ হয়। ফলে সমাজে সৃষ্টি হয় নানা ধরনের অসংগতি ও সমস্যা। এসব অসংগতি দূরীকরণ এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশের সাথে মানুষকে সামঞ্জস্য বিধানে সক্ষম করে তোলার জন্যই সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!