উদ্দীপকে আলোচ্য 'ক' এবং 'খ' দেশের জনসংখ্যার মধ্যে 'খ' দেশের জনসংখ্যাটিতে কাম্য জনসংখ্যা রয়েছে। নিচে তা
যুক্তিসহকারে আলোচনা করা হলো-
কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বে জনসংখ্যা সমস্যা বিচার হয় জাতীয় আয় ও মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে। এ তত্ত্ব অনুসারে যে জনসংখ্যা সর্বোচ্চ পরিমাণে মাথাপিছু আয় আহরণ করতে সহায়ক তাই কাম্য জনসংখ্যা। এছাড়া কাম্য জনসংখ্যা স্তরে জনগণের জীবনযাত্রার মান সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়। কোনো দেশের জনসংখ্যা যদি কাম্য জনসংখ্যা অপেক্ষা বেশি হয় তাহলে মাথাপিছু আয় কমবে ও বেকার সমস্যা দেখা দেবে; এরূপ অবস্থাকে বলা হয় অধিক জনসংখ্যা। জনসংখ্যা যদি কাম্য জনসংখ্যা অপেক্ষা কম হয় তবে প্রয়োজনীয় শ্রমশক্তির অভাবে দেশের সামগ্রিক সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হয় না বলে মাথাপিছু আয় কমবে; এ অবস্থাকে বলা হয় কমতি জনসংখ্যা। কিন্তু কাম্য জনসংখ্যা অবস্থায় মাথাপিছু আয় দ্রুতগতিতে বাড়ে; বেকার সমস্যা থাকে না; দেশে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে।
অর্থনীতিবিদ ডাল্টন কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বের একটি সূত্র প্রয়োগ করে ব্যাখ্যা করেন:
সেখানে, M = কাম্য জনসংখ্যা থেকে বিচ্যুতি
A = প্রকৃত জনসংখ্যা
০ = কাম্য জনসংখ্যা
M-এর মানের উপর জনসংখ্যার আয়তন নির্ভর করবে। M-এর ধনাত্মক মান (M > 0) অধিক জনসংখ্যা, M-এর ঋণাত্মক মান (M < 0) কম জনসংখ্যা এবং M-এর শূন্য মান (M = 0) কাম্য জনসংখ্যা নির্দেশ করে। চিত্রে কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব:

চিত্রে ভূমি অক্ষে জনসংখ্যা ও লম্ব অক্ষে মাথাপিছু আয় দেখানো। হলো। PP জনসংখ্যার সাথে সম্পর্কিত মাথাপিছু আয় রেখা। চিত্রে, OA ও OC জনসংখ্যা স্তরে মাথাপিছু আয় কম। OA জনসংখ্যা দ্বারা কাম্য জনসংখ্যা থেকে কম জনসংখ্যা এবং OC জনসংখ্যা দ্বারা কাম্য জনসংখ্যা থেকে অধিক জনসংখ্যা নির্দেশিত হয়। OB জনসংখ্যা স্তরে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ, ফলে ইহা কাম্য জনসংখ্যা নির্দেশ করে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে আমরা বলতে পারি, কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটি উদ্দীপকের 'খ' দেশের সাথে সম্পর্কিত তাই 'ক' এবং 'খ' দেশের জনসংখ্যার মধ্যে 'খ' দেশেই কাম্য জনসংখ্যা রয়েছে বলা যায়।
Related Question
View Allজীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাই হলো আত্মকর্মসংস্থান।
একটি দেশের জনসংখ্যার মধ্যে মৃত্যুর শতকরা অংশকে 'মৃত্যুহার বলে। মৃত্যুহার জনসংখ্যাকে হ্রাস করে বলে জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার বেশি হলে জনসংখ্যা হ্রাস পায়। আবার জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার কম হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন কারণে মৃত্যুহার হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি পাস করে গ্রামে এসে মৎস্য খামারের কাজ শুরু করে। বর্তমানে একজন উচ্চশিক্ষিত ছেলে গ্রামে এসে মৎস্য চাষ করবে, এটা কেউ ভাবতেই পারে না। কারণ, এত কষ্ট করে পড়াশোনা করে কেউ গ্রামে গিয়ে মৎস্য চাষ করতে চায় না। তেমনি অধ্যক্ষ সাহেবও চাননি। কিন্তু অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে চায় নিজের উদ্যোগে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে। যেকোনো চাকরি করতে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করতে হয়। তাদের কথামতো সব কাজকর্ম করতে হয়। নিজের কোনো স্বাধীনতা থাকে না। কিন্তু যখন নিজের উদ্যোগে কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়, তখন আর কারও অধীন থাকতে হয় না। নিজের স্বাধীনতা বজায় রেখেই কাজ করা যায়।
অতএব বলা যায়, উল্লিখিত কারণেই অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে এমএসসি পাস করেও গ্রামে এসে নিজ উদ্যোগে মৎস্য খামারে কাজ শুরু করেছে।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি হচ্ছে আত্মকর্মসংস্থান। নিচে আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। একজন কর্মক্ষম ও কর্মে ইচ্ছুক ব্যক্তি বেকারত্ব লাঘবে স্বাধীনভাবে কোনো উৎপাদনকর্মে নিয়োজিত হলেই তাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে অভিহিত করা হয়। বাংলাদেশের মতো জনাধিক্যের দেশের সব শ্রমশক্তিকে প্রচলিত ধারায় কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া সম্ভম্ব নয়।
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। বেকারত্বের কারণে বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় কম। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান তৈরি করার মতো মূলধন সরকারের না থাকায় আত্মকর্মসংস্থান সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ কমায়। বেকারত্ব ও দরিদ্রতা সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দেয়, তাই আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূর করতে
পারলে সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠী উন্নয়নকাজে অংশগ্রহণ করলে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়।
উপর্যুক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মতো জনবহুল উন্নয়নশীল দেশে আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি হলো, DP = যেখানে, DP = জনসংখ্যার ঘনত্ব, TP = মোট জনসংখ্যা, TA = মোট আয়তন।
যে জনসংখ্যায় একটি দেশের উৎপাদন ও আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। একটি দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ, মূলধন ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জনসংখ্যা যে আয়তন/পরিমাণ দ্বারা সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় অর্জিত হয়, সেই জনসংখ্যার আয়তন/পরিমাণকে কাম্য জনসংখ্যা বলা হয়। কাম্য জনসংখ্যায় মোট জনসংখ্যা ও কর্মজীবী জনসংখ্যার অনুপাত স্থির থাকে। তাই উক্ত জনসংখ্যায় পূর্ণ নিয়োগ অবস্থা বর্তমান থাকে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!