উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বায়ুমণ্ডলীয় গোলযোগ দু'টির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ কর।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশে সংঘটিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বায়ুমণ্ডলীয় গোলযোগের কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে। প্রথমটি কালবৈশাখী এবং দ্বিতীয়টি ঘূর্ণিঝড়। এই গোলযোগ দুটির মধ্যে কিছু সাদৃশ্য থাকলেও তাদের উৎপত্তির স্থান, প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার দিক থেকে উল্লেখযোগ্য বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

কালবৈশাখী ও ঘূর্ণিঝড় উভয়ই বাংলাদেশের জলবায়ুর একটি স্বাভাবিক অংশ এবং গ্রীষ্মকালে (বিশেষত প্রাক-বর্ষা মৌসুমে) এদের উৎপত্তি হয়। উভয়ই প্রচণ্ড গতিসম্পন্ন বায়ুপ্রবাহ, বজ্রপাত ও বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে থাকে এবং দেশের জনজীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফসল, ঘরবাড়ি, গাছপালা ও প্রাণিসম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধনে এরা সক্ষম। উভয়ই বায়ুমণ্ডলীয় চাপ, তাপ ও আর্দ্রতার তারতম্যের ফলস্বরূপ সংঘটিত হয় এবং দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত।

তাদের উৎপত্তির স্থান ও প্রক্রিয়া ভিন্ন। উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম গোলযোগ, অর্থাৎ কালবৈশাখী, সাধারণত বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে (স্থলভাগে) স্থানীয় পরিচলন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় এবং এটি তুলনামূলকভাবে স্বল্পস্থায়ী ও স্থানীয় প্রকৃতির। অপরদিকে, দ্বিতীয় গোলযোগ, অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়, বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশির উপর নিম্নচাপ সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপন্ন হয় এবং এটি অপেক্ষাকৃত বৃহৎ এলাকা জুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাব বিস্তার করে। ঘূর্ণিঝড়ের সাথে প্রায়শই জলোচ্ছ্বাস যুক্ত থাকে যা উপকূলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটায়, কিন্তু কালবৈশাখীর সাথে জলোচ্ছ্বাস হয় না। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ তুলনামূলকভাবে পর্যবেক্ষণযোগ্য ও পূর্বাভাসযোগ্য হলেও কালবৈশাখী হঠাৎ করে সৃষ্টি হয় এবং এর পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন।

পরিশেষে বলা যায়, কালবৈশাখী ও ঘূর্ণিঝড় উভয়ই বাংলাদেশের জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও তাদের প্রকৃতি ও তীব্রতা ভিন্ন। এ দুটি বায়ুমণ্ডলীয় গোলযোগের উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য অনুধাবন করে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করাই দেশের আপদকালীন ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, যাতে মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
289

Related Question

View All
উত্তরঃ

একটি নির্দিষ্ট ও ক্ষুদ্র অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ুপ্রবাহকে স্থানীয় বায়ু বলে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
447
উত্তরঃ

সূর্যের তাপে ভূপৃষ্ঠ ও জলভাগের পানি বাষ্পীভূত হয়ে জলীয়বাষ্পে পরিণত হয়। এই জলীয়বাষ্প হালকা হওয়ায় উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঘনীভূত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা বা বরফ কণায় পরিণত হয়। এই জলকণাগুলো একত্রিত হয়ে মেঘের সৃষ্টি করে।

মেঘের জলকণাগুলো পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে আরও বড় ও ভারী হয়ে ওঠে। যখন এই জলকণাগুলো বাতাসের প্রতিরোধ ক্ষমতা অতিক্রম করে, তখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে নিচে নেমে আসে, যা বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত। বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ, তাপমাত্রা ও বায়ুচাপ বৃষ্টিপাত সংঘটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
597
উত্তরঃ

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দ্বিতীয় বায়ুমণ্ডলীয় গোলযোগটি হলো ঘূর্ণিঝড়। এটি মূলত ক্রান্তীয় অঞ্চলের বিশাল জলভাগের উপর সৃষ্টি হওয়া এক ধরনের নিম্নচাপজনিত আবহাওয়ার অবস্থা, যা প্রবল বেগে ঘুরতে ঘুরতে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসে, যেমনটি উদ্দীপকে "দেশের দক্ষিণের বিশাল জলভাগে সৃষ্টি হয়ে ঘুরতে ঘুরতে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসে" বাক্য দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ বিদ্যমান। প্রথমত, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা সাধারণত ২৭° সেলসিয়াস বা তার বেশি থাকতে হয়, যা উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস সৃষ্টি করে। এই উষ্ণ বাতাস উপরে উঠে গেলে একটি নিম্নচাপ অঞ্চলের সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয়ত, পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে সৃষ্ট কোরিওলিস প্রভাব (Coriolis Effect) এই নিম্নচাপ অঞ্চলে সৃষ্ট বায়ুপ্রবাহকে ঘূর্ণায়মান গতি প্রদান করে। তৃতীয়ত, বায়ুমণ্ডলে উচ্চ আর্দ্রতা এবং উলম্ব বায়ুপ্রবাহের (Vertical Wind Shear) অনুপস্থিতিও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, গ্রীষ্মকালে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের মতো দক্ষিণের বিশাল জলভাগে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং পর্যাপ্ত আর্দ্রতার উপস্থিতি দেখা যায়। এই সময় নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় এবং কোরিওলিস প্রভাবের কারণে বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রের দিকে ঘুরতে শুরু করে, যা এক পর্যায়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। উদ্দীপকে বর্ণিত "ঘুরতে ঘুরতে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসে" বাক্যটি এই ঘূর্ণনশীল বায়ুপ্রবাহ এবং উপকূলের দিকে এর অগ্রসর হওয়ার প্রবণতাকেই নির্দেশ করে, যা বাংলাদেশের আবহাওয়ার একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
287
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews