দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হলো দুর্যোগ সম্পর্কে পূর্ব প্রস্তুতি, দুর্যোগকালীন দুর্যোগ প্রতিরোধ, প্রশমন এবং পর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
দুর্যোগকে কার্যত মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন। মূলত সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ের কার্যক্রমকে বোঝায়।
উদ্দীপকের উল্লেখিত প্রাকৃতিক দুর্যোগটি হলো ঘূর্ণিঝড়। প্রচণ্ড শক্তিশালী প্রবিত্তত কেন্দ্রমুখী ও উর্ধ্বমখী বায়ুরূপে পরিচিত। এর কেন্দ্রস্থলে এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী সংঘটিত দযোগের মধ্যে এটি অন্যতম। নিম্নচাপ ও চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।উদ্দীপকে উল্লেখিত অবস্থায় গৃহীত দুর্যোগ পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনার মধ্যে দিল পূর্বেই জনগণকে সচেতন করা। এর ফলে প্রাণহানির মতো ঘটনা ব্যবস্থাপনাও দুর্যোগ কবলিত এলাকার জন্য অত্যন্ত জরার। এতে হাতে তাদের রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু দুর্যোগের পরবর্তী জনগণের দুযোগ কম হয়। কিন্তু উল্লেখিত জনগণের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে জনগণের মধ্যে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। এ সময় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের ব্যবস্থাপনা বেশি করত্বপূর্ণ। কিন্তু উত্ত এলাকায় এর অভাব রয়েছে। তাই বলা যায় উদ্দীপকে উল্লিখিত উপকূল অঞ্চলের দুর্যোগ পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা সঠিক হালও পরবর্তী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়।
Related Question
View Allমানুষ, অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক জীবন বিকাশের নিশ্চয়তাকে পরিবেশ সংরক্ষণ বলে।
ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা ও পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করছে।
বর্ধিত জনসংখ্যার প্রয়োজনে বনজঙ্গল, গাছপালা কেটে চাষের জমি তৈরি বা বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়। গাছপালা কাটার ফলে বৃষ্টিপাত কমে যায়, খরার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্য, বাসস্থান, যানবাহন, শিল্পকারখানা সবকিছুর চাহিদাই বৃদ্ধি পায়। জমিতে অধিক কীটনাশক ও সার ব্যবহার এবং ভূগর্ভের পানি উত্তোলনের ফলে মাটি দূষণ হচ্ছে। অধিক শিল্পকারখানা ও যানবাহনের ফলে পানি ও বায়ু দূষণ ঘটছে। সুতরাং বলা যায়, অধিক জনসংখ্যাই পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।
উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত স্থানে যে ধরনের দুর্যোগ নির্দেশ করে তা হলো জলোচ্ছ্বাস।
উপকূলীয় এলাকায় প্রবলভাবে ঝড়ের সাথে সমুদ্রের পানি আঘাত হানলে তাকে জলোচ্ছ্বাস বলে। জলোচ্ছ্বাস প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট দুর্যোগ। এটি স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। জলোচ্ছ্বাস আকস্মিকভাবে ঘটে। ঘূর্ণিঝড় যখন সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রবল বেগে স্থলভাগের দিকে ধেয়ে আসে তখন সমুদ্রের পানি ফুলে উঠে ঝড়ের সাথে আঘাত হানে। তখন জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। সমুদ্রে ভূমিকম্পের ফলেও জলোচ্ছ্বাস সংঘটিত হয়। জলোচ্ছ্বাস হলে পানির উচ্চতা ১২" পর্যন্ত উঠতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে যে ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয় জলোচ্ছ্বাস তা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এই দুর্যোগ পরিবেশকে বিনষ্ট ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে এবং প্রাণহানি ঘটায়। জনপদের স্বাভাবিক জীবনকে বাধাগ্রস্ত করে।
উদ্দীপকের ছকে দুটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয় দুটি হলো সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠা, যা ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয় দুটি জলোচ্ছ্বাস দুর্যোগকে নির্দেশ করছে। কারণ পাঠ্যবইয়ে আমরা জেনেছি জলোচ্ছ্বাস হওয়ার পিছনে এ দুটি কারণ দায়ী। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত স্থানটি জলোচ্ছ্বাস দুর্যোগকে নির্দেশ করছে।
দুর্যোগ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে উদ্দীপকটি ধারণা দিতে সক্ষম বলে আমি মনে করি।
দুর্যোগ ঘটার পূর্বেই দুর্যোগের আশঙ্কা করে অভিজ্ঞতার আলোকে বিশেষ পদক্ষেপ ও কর্মসূচি গ্রহণ করাকে দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতি বোঝায়। দুর্যোগ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা দুর্যোগ কবলিত এলাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি। দুর্যোগ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা যত দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে জনগণের দুর্ভোগ তত কম হবে।
উদ্দীপকে জলোচ্ছ্বসের পূর্ববর্তী অবস্থার দুইটি কারণ ফুটে উঠেছে। এ দুইটি কারণ দেখে আমরা বুঝতে পারব জলোচ্ছ্বাস হবে। যার প্রেক্ষিতে আমরা জলোচ্ছ্বাসের পূর্বে এবং পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব। এর ফলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।
যেমন- পূর্বাভাস পাওয়ার সাথে সাথে যদি মানুষ ও গবাদি পশু আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া যায় তাহলে জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতির হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করা যাবে। আবার জলোচ্ছ্বাস থেমে যাওয়ার পর ভালোভাবে নিশ্চিত হয়ে সবাইকে আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিতে হবে। এরপর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সবাইকে একসাথে কাজ করার উদ্যোগ নিতে হবে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস দেখে এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব।
প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে তাকে দুর্যোগ বলে।
উচ্চ শব্দে মাইক বাজালে শব্দ দূষণ হয়।
উচ্চ শব্দে মাইক বাজালে মানুষের স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে। মাইকে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা চালালে পরিবেশের শান্তিপূর্ণ অবস্থার ব্যাঘাত ঘটে। কর্মপরিবেশ নষ্ট হয়, রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ঐ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এভাবে উচ্চ শব্দে মাইক বাজালে শব্দ দূষণ হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!