উদ্দীপকে উল্লিখিত ঋণ হলো অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে প্রাপ্ত ঋণ। এসব গৃহীত ঋণের তুলনামূলক সুবিধা ও অসুবিধা নিচে উল্লেখ করা হলো-
◇সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যেকোনো ঘাটতির মোকাবিলা করতে পারে। কিন্তু এখান থেকে সরকারের ঋণ অত্যধিক হলে ব্যাংকটির পক্ষে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহে ঋণ প্রদানের হার কমে যায়, এতে করে দেশের বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
◇সরকার চাইলে দেশের অভ্যন্তরস্থ যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারে। সরকার বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করলে ব্যাংকগুলোকে, এককভাবে সরকারি ঋণের ভার বহন করতে হয় না। তবে অত্যধিক ঋণ গ্রহণের ফলে সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমে সেই অর্থ অর্থনীতিতে প্রবেশ করার ফলে অর্থের যোগান বেড়ে যায়; এতে করে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।
◇ সরকার জনগণের কাছে প্রয়োজনে ঋণপত্র ও বন্ড বিক্রয় করে জনগণের সঞ্চিত অর্থের একাংশকে ঋণ হিসেবে নিতে পারে। জনগণের কাছ থেকে বন্ডের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করলে আর্থিক ও ব্যাংক ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি হয় না।
◇বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেমন- বিমা কোম্পানি, বাংলাদেশ বিনিয়োগ সংস্থা, বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা ইত্যাদি থেকে ঋণপত্র বিক্রয়ের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানে অনেক সময় বিনিয়োগের নিমিত্তে অতিরিক্ত অর্থ জমা থাকে, সরকার এখান থেকে ঋণ গ্রহণ
করলে অসুবিধা হয় না।
◇বিদেশি সরকার কিংবা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের অনেক সুবিধা রয়েছে; কারণ ঋণের সাথে বা' ঋণ হিসেবে বিভিন্ন কারিগরি ও মূলধনী সাহায্য পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হলে তাও পাওয়া যায়- যা দেশীয় প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ দ্বারা অনেক সময় সম্ভব হয় না। আবার বৈদেশিক ঋণ বিভিন্ন শর্তের জালে আবদ্ধ থাকে বলে স্বাধীনভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায় না। ফলে ঋণের বিরাট অংশ মূলধনী দ্রব্যের মূল্য ও বিশেষজ্ঞের বেতন হিসেবে পুনরায় বিদেশে চলে যায়।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠান থেকে এককভাবে ঋণ না নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজন মতো ঋণ গ্রহণ করলে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না।
Related Question
View Allজাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে যে আয় সংগ্রহ করে, তাকে সরকারি আয় বলা হয়।
সরকার দেশ পরিচালনার জন্য এবং জাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে আয় সংগ্রহ করে। যেমন- আয়কর, মুনাফা কর, শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আবগারি শুল্ক, প্রশাসনিক রাজস্ব, জরিমানা ও বাজেয়াপ্ত, লাইসেন্স ফি, ঋণ, দান/অনুদান ইত্যাদি থেকে সরকার আয় করে থাকে। সরকারের এসব খাত থেকে আয় করাকে বলা হয় সরকারি আয়। সরকারের এই আয়ের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো সরকারি ব্যয়। তাই উল্লেখিত উৎস থেকে সরকার আয় করে থাকে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রশাসনিক ও প্রতিরক্ষা ব্যয়সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটানোর জন্য সরকার বিভিন্ন উপায়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যে অর্থ আদায় করে, তাকে সরকারি আয় বা রাজস্ব বলে।
সরকারি আয় সরকারি কোষাগারে জমা থাকে এবং দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের পক্ষে এর হিসাব রাখে। সরকারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো কর। সরকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কর হিসেবে যে অর্থ আদায় করে, তাকেই কর আয় বলে। এই কর আয় আবার দুই ধরনের; যথা- প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর। যে ব্যক্তির উপর কর ধার্য করা হয় তার বোঝা যদি তাকে বহন করতে হয়, তবে সেই করকে প্রত্যক্ষ কর বলে। যেমন-আয়কর, সম্পদ কর, ভূমি কর, মৃত্যু কর ইত্যাদি। আবার কোনো ব্যক্তির উপর যে কর ধার্য করা হয়, তার ভার বা বোঝা সে যদি অন্য কারও উপর চাপাতে পারে, তবে তাকে পরোক্ষ কর বলা হয়। যেমন- বিক্রয় কর, পণ্যকর, প্রমোদ কর ইত্যাদি। এছাড়া করবহির্ভূত আয় রয়েছে, যা থেকে রাষ্ট্র/সরকার আয় করে থাকে। সরকার কর ব্যতীত অন্যান্য উৎস থেকে যে রাজস্ব বা অর্থ পায়, তাকে করবহির্ভূত আয় বলে। এ ধরনের আয় সরকারের বাধ্যতামূলক পাওনা নয়। বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে সরকার জনগণের কাছ থেকে পেয়ে থাকে। যেমন- ফি, বাণিজ্যিক আয়, সরকারি সম্পত্তির আয়, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ, সরকারি ঋণ, সুদ, দান ও অনুদান ইত্যাদি। বিভিন্ন উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে রাষ্ট্রীয় আয় এসব উৎস থেকে হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ সরকার প্রশাসন পরিচালনা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ সাধন প্রভৃতির জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে।
এ ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (ক) কর রাজস্ব, (খ) করবহির্ভূত রাজস্ব। সরকারের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হলো কর রাজস্ব। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো আয়কর। বাংলাদেশ সরকারের আয়কর আইন অনুযায়ী যাদের আয় একটি নির্দিষ্ট সীমার ঊর্ধ্বে, তাদের কাছ থেকে আয়কর আদায় করা হয়। বাংলাদেশে কর ব্যবস্থায় মূল্য সংযোজন কর (VAT) ১৯৯২ সালে প্রচলন করা হয়। দেশের মধ্যে পণ্যসামগ্রী বিক্রয়ের উপর এ কর ধার্য করা হয়। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যাদির উপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। বাংলাদেশে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত চা, চিনি, তামাক, সিগারেট, দিয়াশলাই প্রভৃতি দ্রব্যের উপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। এছাড়া সম্পূরক শুল্ক, ভূমি রাজস্ব, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, রেজিস্ট্রেশন, যানবাহন শুদ্ধ, অন্যান্য কর ও শুল্ক কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত। সরকার বিভিন্ন আর্থিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে তার উপর সুদ বাবদ প্রচুর আয় করে থাকে। সরকারি সম্পত্তি ভাড়া ও ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে, দেশের বিভিন্ন রাস্তা, ব্রিজ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে টোল ও লেভি সংগ্রহ করে, বনভূমি থেকে, ডাক বিভাগ থেকে, রেলওয়ে থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ আয় করে, যা করবহির্ভূত রাজস্ব বলে পরিচিত।
উল্লেখিত উৎসসমূহ থেকে বাংলাদেশ সরকার প্রচুর অর্থ আয় করে থাকে।
হ্যাঁ, সমাজে ভালোভাবে চলতে হলে অবশ্যই ব্যয় অপরিহার্য।
রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় নির্বাহ করে, তাকে সরকারি ব্যয় বলে। দেশের ভেতরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণ, সামাজিক কল্যাণসাধন, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভৃতি কাজের জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয়। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে বর্তমানে প্রায় প্রতিটি দেশের সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাত বিবেচনায় রেখে বাজেটে ব্যয় বরাদ্দ রাখে; পরে আবার তা ব্যয়ও করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!