উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা মামুনকে জমিতে সবুজ সার প্রয়োগ করার পরামর্শ দেন। সবুজ সার প্রস্তুতের জন্য যে সকল সবুজ উদ্ভিদ চাষ করা হয় তারা দ্রুত বর্ধনশীল, সহজে পচনশীল, মূলে নাইট্রোজেন সঞ্চয় করে ও উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদানের প্রাপ্যতা বাড়ায়। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সবুজ সারের ভূমিকা নিম্নে আলোচনা করা হলো:
i. সবুজ সার মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ করে যা শেষ পর্যন্ত হিউমাসে রূপান্তরিত হয়। জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধিতে হিউমাসের অবদান অপরিসীম। এটি অনেক খাদ্যোপাদান ধরে রাখে ও তা গাছের গ্রহণযোগ্য করে মাটির রসে ছড়িয়ে দেয়। এটি মাটির ভৌত ধর্মেরও উন্নতি করে থাকে, যেমন- মাটির দানাবন্ধন সহজতর হয়, বায়ু চলাচল বাধামুক্ত হয় এবং তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় থাকে।
ii. সবুজ সার প্রস্তুতের জন্য শিম্বী জাতীয় ফসল ব্যবহার করলে জমিতে কিছু পরিমাণে নাইট্রোজেন যোগ হয় যা মাটির উর্বরতা তথা ফসলের বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। নাইট্রোজেন ছাড়াও ফসফেট, ম্যাগনেসিয়ামসহ অন্যান্য খাদ্য উপাদান সরবরাহ করে থাকে।
iii. সবুজ গাছ পচার সময় মাটিস্থ জীবাণুর কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। ফলে প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ জৈব পদার্থের প্রোটিন অ্যামোনিয়াতে ও পরে নাইট্রেটে পরিবর্তিত হয়ে গাছের ব্যবহারোপযোগী হয়। এছাড়াও নানারকম জৈবিক ক্রিয়ার ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
iv. সবুজ সার ব্যবহারের ফলে জমির উপরের মাটি সংরক্ষিত হয়। ধৈঞা, শন, কলাই প্রভৃতি ফসল যখন জমিতে জন্মাতে থাকে তখন সেই শস্যসমূহ এত ঘন হয়ে জন্মে যে বৃষ্টির পানি, ঝড় উপরিভাগের মাটি ধুয়ে কিংবা উড়িয়ে নিতে পারে না। ফলে মাটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়।
v. অন্যান্য শস্যের মতো সবুজ সারজাতীয় ফসল জমি হতে খাদ্যোপাদান গ্রহণ করে থাকলেও পরে সেই খাদ্য উপকরণসমূহ আবার মাটিতে ফিরিয়ে দেয়। পরবর্তী প্রধান ফসল সে খাদ্যসমূহ যথারীতি গ্রহণ করে।
vi. সবুজ সার প্রয়োগের ফলে ফসলের অন্যতম শত্রু আগাছার উপদ্রব কম হয়।
vii. সবুজ সার জমির আর্দ্রতা ও জো বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কৃষক মামুনের ফসলি জমির মাটি অম্লীয় হওয়ায় সবুজ সার প্রয়োগের মাধ্যমে উল্লিখিত প্রক্রিয়ায় মাটির অম্লত্ব প্রশমিত করে ফসল উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবেন। কাজেই কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তার দেওয়া পরামর্শটি যথার্থ ছিল।
Related Question
View Allযেসব ফসল সাধারণত বিস্তীর্ণ মাঠে বেড়াবিহীন অবস্থায় সমষ্টিগতভাবে পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ এবং প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়া হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে।
উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও তথ্য নিয়ে মতবিনিময় হয়।
কৃষি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের ফলে কৃষকদের জ্ঞান ও তথ্য আরো সমৃদ্ধ হয়। মতবিনিময়ের ফলে কৃষকদের জ্ঞান এবং কাজের স্পৃহা বাড়ে। এ ছাড়া হঠাৎ সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার প্রতিকার ব্যবস্থা জানা যায়। তাই কৃষিতে উঠোন বৈঠকের প্রয়োজন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আফসার আলীর জমির মাটি কাদাযুক্ত এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এজন্য বলা যায়, জমির মাটি এঁটেল প্রকৃতির।
নিচে এঁটেল মাটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
i. এঁটেল মাটি ভারী মাটি নামে অভিহিত।
ii. এ মাটিতে কমপক্ষে ৩৫% বা তার বেশি কর্দম বা এঁটেল কণা থাকে।
iii. এ মাটিতে সূক্ষ্ম রন্দ্রের সংখ্যা খুব বেশি, তাই এর পানি ধারণ ক্ষমতা খুব বেশি, কিন্তু নিষ্কাশন ক্ষমতা কম।
iv. এ মাটির বায়ু ও পানি চলাচল ক্ষমতা কম।
V. এঁটেল মাটি আঙুলে ঘষলে ট্যালকম পাউডারের মতো পিচ্ছিল মনে হয়।
vi. এ মাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সংযুক্তি (cohesion) খুব বেশি।
vii. আর্দ্র এঁটেল মাটি আঠালো ও চটচটে হয়, কিন্তু শুষ্ক অবস্থায় খুব শক্ত হয়। ফলে সহজে কর্ষণ করা যায় না।
viii. এ প্রকার মাটির ধনাত্মক আয়ন বিনিময় ক্ষমতা খুব বেশি। উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যাবলী থেকে এঁটেল মাটির প্রকৃতি জানা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট যা গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উচ্চ ফলনশীল এবং হাইব্রিড জাতের ধান উদ্ভাবন করে। এছাড়াও মৃত্তিকা, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, চাষাবাদ পদ্ধতি, পোকা-মাকড় ও রোগ দমন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি ও কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করে। এদের উদ্ভাবিত জাতগুলো তুলনামূলকভাবে রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। আবার এসকল জাতের ফলন স্থানীয় জাতের ফলনের তুলনায় অনেক বেশি। উদ্ভাবিত জাতের মধ্যে বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল, সুগন্ধি ও বিদেশে রপ্তানি উপযোগী জাতও রয়েছে। এসকল জাতসমূহ কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করে তোলার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে, রয়েছে প্রদর্শনী প্লট ও মডেল কৃষক। এছাড়াও কৃষি তথ্য সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পুস্তিকা, ম্যানুয়াল, প্রতিবেদন, জার্নাল প্রভৃতি প্রকাশ করে। এ প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য মাঠ দিবসের আয়োজন এবং কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এসকল কার্যক্রমের ফলে কৃষকগণ সহজেই কৃষি সংশ্লিষ্ট তথ্য ও জ্ঞান লাভ করতে পারে। ফলে কৃষক মাঠ পর্যায়ে এসব জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অল্প খরচে ফসল উৎপাদন করে লাভবান হয়। সর্বোপরি ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উল্লিখিত কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করে।
অভিজ্ঞ 'কৃষক হলো একজন স্থানীয় নেতা ও কৃষকদের পরামর্শদাতা যিনি নিজ উৎসাহে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন ও নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন।
কোনো মাটিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H') ও হাইড্রোক্সিল আয়নের (OH) পরিমাণ সমান থাকলে তাকে নিরপেক্ষ মাটি বলে। নিরপেক্ষ বা প্রশম মাটির অম্লমান ৭। এই ধরনের মাটিতে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সহজলভ্য থাকে বিধায় ফসল চাষে সর্বাধিক উপযোগী। নিরপেক্ষ মাটিতে জৈব পদার্থ সহজে বিয়োজিত হয়। নিরপেক্ষ মাটিতে বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!