অর্থনীতির ভাষায় উদ্দীপকে উল্লিখিত গনি মিয়ার সমস্যাটি হলো সুযোগ ব্যয়জনিত সমস্যা।
একটি দ্রব্যের অতিরিক্ত উৎপাদন পাওয়ার জন্য অপর দ্রব্যের উৎপাদন যতটুকু ছেড়ে দিতে হয় তাকেই সুযোগ ব্যয় বলে। অর্থাৎ একজন মানুষের পক্ষে এক সঙ্গে সবকিছু পাওয়া সম্ভব হয় না। একটি পছন্দের কিছু পেতে গেলে অন্য একটি পছন্দ তাকে ত্যাগ করতে হয়। এভাবে একটি দ্রব্যের উৎপাদন পাওয়ার জন্য অপর দ্রব্যের উৎপাদন যতটুকু ছেড়ে দিতে হয়, সেই ছেড়ে দেওয়ার পরিমাণ হলো সুযোগ ব্যয়। সীমিত সম্পদের সাহায্যে একটি দ্রব্য বেশি উৎপাদন করতে হলে অন্য দ্রব্যের উৎপাদন কিছু ত্যাগ করতে হয়। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, কৃষক গনি মিয়া তার একখণ্ড জমিতে গম অথবা আলু চাষ করতে পারেন। কিন্তু একই সাথে উভয় ফসল উৎপাদন করতে পারেন না। তাই একটি ফসল উৎপাদনের জন্য অপরটির উৎপাদন তাকে ত্যাগ করতে হয়। যা অর্থনীতির ভাষায় সুযোগ ব্যয়কে নির্দেশ করে।
Related Question
View Allকোন ব্যক্তি তার মালিকানাধীন উৎপাদনের উপকরণকে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত করে তার বিনিময়ে যা অর্জন করে তাই আয়।
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত যেসব সম্পদ ব্যবহার বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের শক্তি (বিদ্যুৎ, তাপ) উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে শক্তি সম্পদ বলে।
যেমন- নদীর স্রোত ব্যবহার করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদি ব্যবহার করে তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয় সোলার প্যানেল। আবার আণবিক শক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধাস্ত্র (পারমাণবিক বোমা, গ্রেনেড) ইত্যাদি তৈরি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, নদীর স্রোত, সৌরশক্তি, আণবিক শক্তি এগুলো হচ্ছে শক্তি সম্পদের বিভিন্ন উৎস।
শফিকের মাছ-মাংস ক্রয়ের ধারণাটি সুযোগ ব্যয়ের (Opportunity Cost) মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো দ্রব্যের অতিরিক্ত এক একক উৎপাদন বাড়াতে বিকল্প দ্রব্যটির যে পরিমাণ উৎপাদন ত্যাগ করতে হয় তাকে প্রথমোক্ত দ্রব্যটির সুযোগ ব্যয় বলে।

প্রদত্ত চিত্রে (OX) অক্ষে মাংসের পরিমাণ এবং (OY) অক্ষে মাছের পরিমাণ নির্দেশ করা হয়েছে। AB রেখাটি হলো সুযোগ ব্যয় রেখা যা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে দুটি বিকল্প দ্রব্য (মাছ ও মাংস) ক্রয়ের বিভিন্ন সংমিশ্রণ প্রকাশ করছে। এক্ষেত্রে শফিক ১০০০ টাকা ব্যয় করে শুধু মাংস কিনলে OB পরিমাণ অর্থাৎ ৪ কেজি মাংস কিনতে পারে অথবা সে মাছ কিনলে OA পরিমাণ অর্থাৎ ২ কেজি মাছ কিনতে পারে। কিন্তু শফিক ১০০০ টাকা দিয়ে ২ কেজি মাংস এবং ১ কেজি মাছ ক্রয় করলো; যা C বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত। অতএব C বিন্দুতে ১ কেজি মাছের সুযোগ ব্যয় হলো ২ কেজি মাংস।
উদ্দীপকের শফিকের দুটি দ্রব্য নির্বাচনের বিষয়টি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
নির্বাচন বলতে বোঝায় মানুষের অসীম অভাবের মধ্যে অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ অভাবগুলো বাছাই করা। কারণ মানবজীবনে অভাব অসীম হলেও তা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত। এ জন্য মানুষের পক্ষে সকল অভাব একত্রে পূরণ করা সম্ভব হয় না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে বেশি প্রয়োজনীয় অভাবগুলো আগে পূরণ করার প্রচেষ্টা করে। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, শফিক বাজারে গিয়ে দেখল তার মায়ের দেওয়া ১০০০ টাকা দিয়ে ২ কেজি মাছ অথবা ৪ কেজি মাংস ক্রয় করতে পারে। তখন সে অনেক চিন্তার পর ১ কেজি মাছ এবং ২ কেজি মাংস ক্রয় করে যা মূলত গুরুত্ব অনুসারে অভাব নির্বাচনকে নির্দেশ করে। অর্থাৎ, শফিক তার প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত সম্পদ (১০০০ টাকা) দিয়ে অভাব নির্বাচনের মাধ্যমে তা পূরণ করে থাকে। কাজেই, উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, মানবজীবনে সম্পদের স্বল্পতা তথা দুষ্প্রাপ্যতার কারণে অভাব নির্বাচন করে তা পূরণ করতে হয়।
যে সমস্ত দ্রব্য পাওয়ার জন্য মানুষকে মূল্য প্রদান করতে হয় তাকে অর্থনৈতিক দ্রব্য বলে।
প্রকৃতি থেকে পাওয়া যে জিনিসগুলো মানুষের প্রয়োজন মেটায় তাকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলে।
মানুষ প্রকৃতি থেকেই সব সম্পদ আহরণ করতে পারে। কেননা প্রকৃতির মধ্যেই নানা মূল্যবান সম্পদ রয়েছে। যেমন- ভূমি, বনভূমি, খনিজ সম্পদ, নদ-নদী, গাছপালা, জীবজন্তু ইত্যাদি প্রকৃতির উপাদান। বস্তুত, প্রকৃতির এসকল উপাদানকেই প্রাকৃতিক সম্পদ বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!