উদ্দীপকে নির্দেশিত 'Q' অংশটি হলো হৃৎপিণ্ড। হৃৎপিণ্ড থেকে ফুসফুসের মাধ্যমে পরিবেশে গ্যাসের পরিবহন হয়ে থাকে। নিচে গ্যাসের পরিবহন পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো-বিপাকীয় কার্যের ফলে দেহের কলাকোষে কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন এ শিরা রক্তের মাধ্যমে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। তিনটি ভিন্ন পদ্ধতিতে, এই পরিবহন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যেমন-
i. ভৌত দ্রবণ রূপে: ৫% রক্তের প্লাজমায় দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক অ্যাসিডরূপে বাহিত হয়।
ii. কার্বামিনো যৌগরূপে: ১০% লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের প্রোটিন অংশের অ্যামিন (-) মূলকের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বামিনো-হিমোগ্লোবিন যৌগরূপে রক্ত দ্বারা পরিবাহিত হয়।
কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন
iii. বাইকার্বোনেট যৌগরূপে: অধিকাংশ -ই রক্তে বাইকার্বোনেট রূপে পরিবাহিত হয় দুভাবে।
যথা- a) রূপে প্লাজমার মাধ্যমে এবং
b) রূপে লোহিত কণিকার মাধ্যমে।
এক্ষেত্রে ব্যাপন প্রক্রিয়ার লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে এবং কার্বনিক এনহাইড্রেজ এনজাইমের সহায়তায় পানির সাথে বিক্রিয়া করে
কার্বনিক অ্যাসিড (সৃষ্টি করে। এ কার্বনিক অ্যাসিডের অধিকাংশই ভেঙ্গেএবং আয়নে পরিণত হয়। লোহিত কণিকায় এর সাথে সংযুক্ত হয়ে পটাশিয়াম বাইকার্বনেট ) গঠন করে। কিছু লোহিত কণিকা থেকে বের হয়ে রক্তরসে চলে আসে এবংএর সাথে সংযুক্ত হয়ে সোডিয়াম বাইকার্বনেট () গঠন করে।
পরবর্তীতে কার্বন ডাইঅক্সাইড সমন্বিত যৌগগুলো ভেঙে যায় এবংব্যাপন প্রক্রিয়ায় ফুসফুসের বায়ুথলিতে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে পরিবেশে পরিত্যাক্ত হয়।
Related Question
View Allফুসফুসে স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষে গঠিত ও কৈশিক জালিকাসমৃদ্ধ প্রকোষ্ঠের মতো গ্যাসীয় বিনিময় তলই হলো অ্যালভিওলাস।
মাথার খুলিতে মুখমণ্ডলীয় অংশে নাসাগহ্বরের দু'পাশে অবস্থিত বায়ুপূর্ণ চারজোড়া বিশেষ গহ্বরকে সাইনাস বলা হয়। এসব সাইনাস যদি বাতাসের বদলে তরলে পূর্ণ থাকে এবং উক্ত তরল যদি অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয় তবে সাইনাসের মিউকাস ঝিল্লিতে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। একে বলে সাইনুসাইটিস।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'P' অঙ্গটি হলো ফুসফুস। নিচে এর গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
ফুসফুস প্লুরা নামক দ্বিস্তরী একটি পাতলা আবরণে. আবৃত থাকে। বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল এবং ভিতরের স্তরটিকে ভিসেরাল স্তর বলে। স্তর দুটির মাঝে অবস্থিত সেরাস ফ্লুইড নামক তরল পদার্থ ফুসফুসকে ঘর্ষণজনিত আঘাত থেকে রক্ষা করে। ডান দিকের ফুসফুসে তিনটি লোব এবং বাম ফুসফুসে দুটি লোব আছে। প্রতিটি লোব কয়েকটি সেগমেন্টে বিভক্ত। ডান ফুসফুসে ১০টি ও বাম ফুসফুসে ৮টি সেগমেন্ট থাকে। প্রত্যেকটি সেগমেন্ট আবার লোবিউল নামক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত। ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো অ্যালভিওলাস যা ক্ষুদ্র বুদবুদ সদৃশ বায়ুকুঠুরি। এদের প্রাচীর চ্যাপ্টাকৃতির স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা গঠিত।
ফুসফুসে স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষে গঠিত ও কৈশিক জালিকাসমৃদ্ধ প্রকোষ্ঠের মতো গ্যাসীয় বিনিময় তলই হলো অ্যালভিওলাস।
স্বরযন্ত্রের মুখবিবর গ্লটিস নামক যে ছিদ্র দিয়ে উন্মুক্ত হয় তার মুখে ঢাকনার মতো অংশই হলো এপিগ্লটিস। খাদ্য গলাধঃকরণের সময় এপিগ্লটিস স্বরযন্ত্রের মুখ বন্ধ করে দেয় এবং খাদ্যবস্তুকে শ্বাসনালিতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত গহ্বরটি বলতে সাইনাসকে বোঝানো হয়েছে।
সাইনাস তরলে পূর্ণ হলে জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়ে সাইনুসাইটিস রোগের সৃষ্টি করে। অবস্থানের উপর ভিত্তি করে মানবদেহে চার ধরনের সাইনাস রয়েছে। এসব সাইনাসে সৃষ্ট সাইনুসাইটিসের অবস্থানও ভিন্ন। নিচে এদের নাম, অবস্থান ও প্রদাহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়া হলো-
i.ম্যাক্সিলারি সাইনাস: ম্যাক্সিলারি অঞ্চলে এদের অবস্থান। এই সংক্রমণে ম্যাক্সিলা বা গালে চাপ প্রয়োগে ব্যথা অনুভূত হয়। বিশেষ করে দাঁত ও মাথায় ব্যথা হয়।
ii. ফ্রন্টাল সাইনাস: চোখের ওপরে অবস্থিত। এর ফলে ফ্রন্টাল সাইনাসে চাপ প্রয়োগে ব্যথা অনুভূত হয় এবং মাথা ব্যথা দেখা দেয়।
iii. এথময়েড সাইনাস: দুই চোখের মাঝে অবস্থিত। এক্ষেত্রে দুই চোখের মাঝখানে বা পেছনে ব্যথা অনুভূত হয়। এথময়েড সাইনাসে মিউকাস পর্দা সংক্রমিত হয়।
iv. স্ফেনয়েড সাইনাস: স্ফেনয়েড সাইনাস আক্রান্ত হলে চোখের পশ্চাৎ বা মাথার চূড়ায় ব্যথা অনুভূত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!