কোনো দ্রব্যের দাম কম-বেশি হলে তার চাহিদা ও যোগান প্রভাবিত হয়
প্রথমে দামের পরিবর্তনের কারণে চাহিদার ওপর তার প্রভাব আলোচনা করা যাক। কোনো দ্রব্যের দাম কমলে তার চাহিদা বাড়ে। যারা ইতোমধ্যে দ্রব্যটি কিনছে তাদের কাছে দ্রব্যটি সস্তা হয় বলে তারা তা বেশি কিনে। আবার দাম কমলে যারা আগে তা কিনেত পারতো না এখন তারা কিনতে সক্ষম হয়। এর ফলে দাম কমলে চাহিদা বাড়ে। আবার দাম বাড়লে পুরাতন ক্রেতাদের কাছে তা যথার্থ মনে হয় না বলে তার চাহিদা কমে। তাছাড়া নতুন ক্রেতারাও বেশি দামে তা কিনতে চায় না। এজন্যে দাম বাড়লে চাহিদা কমে। দ্বিতীয় পর্যায়ে, দামের পরিবর্তনের কারণে যোগানের ওপর কী প্রভাব পড়ে তা দেখা যাক। দাম বাড়লে যারা ইতোমধ্যে দ্রব্যটি বিক্রি করছে তাদের মুনাফা বাড়ে। ফলে তারা বেশি যোগান দেয়। বাইরের বিক্রেতারাও বেশি দামে বিক্রির জন্যে বাজারে প্রবেশ করে। উভয় কারণে দাম বাড়লে যোগান বাড়ে। আবার দাম কমলে যারা ইতিমধ্যে ব্যবসায় লিপ্ত তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় দ্রব্যের যোগান কমিয়ে দেয়। নতুন বিক্রেতারাও এক্ষেত্রে ব্যবসায়ে জড়িত হয় না। সব মিলিয়ে দাম কমলে যোগান কমে যায়।
Related Question
View Allঅর্থনীতিতে কোনো দ্রব্যের অভাব পূরণ করার ক্ষমতাকে উপযোগ বলে
একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দ্রব্যের ভোগ বাড়লে মোট উপযোগ ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ার সাথে সাথে প্রান্তিক উপযোগ কমতে থাকে। মোট উপযোগ হলো একটি দ্রব্যের বিভিন্ন একক থেকে প্রাপ্ত তৃপ্তির সমষ্টি। আর, অতিরিক্ত এক একক দ্রব্য ভোগ করে যে অতিরিক্ত তৃপ্তি পাওয়া যায় তাই প্রান্তিক উপযোগ। যেমন- টিপু ৩টি পেয়ারা ভোগ করে যথাক্রমে ৬, ৪ ও ৩ টাকা সমান উপযোগ পায়। এক্ষেত্রে তার মোট উপযোগ হবে (৬+ ৪+৩) = ১৩ টাকার সমান, এবং প্রান্তিক উপযোগ হবে যথাক্রমে ৬, ২ ও ১ টাকা।
X' দ্রব্যের চাহিদা সূচি থেকে 'ক' ব্যক্তির চাহিদা রেখা অঙ্কন করা হলো

প্রদত্ত রেখাচিত্রে ভূমি (OX) অক্ষে চাহিদার পরিমাণ এবং লম্ব (OY) অক্ষে দাম পরিমাপ করা হয়েছে। চাহিদা সূচি অনুযায়ী 'X' দ্রব্যের প্রতি এককের দাম ২০ টাকা, ১৫ টাকা ও ১০ টাকা হলে তার চাহিদা হয় যথাক্রমে ৫ কুইন্টাল (বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত), ১০ কুইন্টাল (বিন্দু ৮ দ্বারা নির্দেশিত) এবং ১৫ কুইন্টাল (বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত)। এখন দাম ও চাহিদার পরিমাণ নির্দেশক ৮৩ কিন্দুগুলো যোগ করে DID, রেখাটি পাওয়া যায়। এটি হচ্ছে প্রদত্ত সূচির ভিত্তিতে অঙ্কিত 'ক' ব্যপ্তির চাহিদা রেখা। দাম ও চাহিদার পরিমাণের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান থাকায় 'ক' ব্যক্তির চাহিদা রেখাটি বামদিক থেকে ডানদিকে নিম্নগামী হয়েছে।
ক' ও 'খ' ব্যক্তির চাষিদার পরিমাণ যোগ করে 'X' দ্রব্যের বাজার চাহিদা পাওয়া যায়। নিম্নে বাজার চাহিদার সাথে 'ক' ব্যক্তির চাহিদা তুলনা করা হলো-
প্রতি একক দ্রব্যের দাম (টাকায় | ক' ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ Q) (কুইন্টাল) | 'খ' ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ Q: (কুইন্টাল | বাজার চাহিদার পরিমাণ ০-০ (কুইন্টাল) |
২০ | ৫ | ৭ | ১২ |
১৫ | ১০ | ১১ | ২১ |
১০ | ১৫ | ১৫ | ৩০ |
প্রদত্ত সূচির ভিত্তিতে X দ্রব্যের বাজার চাহিদা রেখা অঙ্কন করা হলো-

চিত্রে OX অক্ষে দ্রব্যের চাহিদার পরিমাণ এবং OY অক্ষে দ্রব্যের দাম নির্দেশ করা হয়েছে। D,D, হলো 'ক' ব্যক্তির চাহিদা রেখা এবং D,D, হলো 'খ' ব্যক্তির চাহিদা রেখা। 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ যোগ করে বাজার চাহিদা পাওয়া যায়, যা D'D' রেখা দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত চাহিদার সাহায্যে বাজার চাহিদা পাওয়া গেলেও উভয় চাহিদা রেখার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ব্যক্তিগত চাহিদা রেখা কেবল একজন ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ নির্দেশ করে। অন্যদিকে বাজার চাহিদা বাজারে সব ভোক্তার ব্যক্তিগত চাহিদার সমষ্টিগত পরিমাণকে প্রকাশ করে, তাই বাজার চাহিদার পরিমাণ ব্যক্তিগত চাহিদার পরিমাণ থেকে সবসময় বেশি হয়। আবার, বাজার চাহিদা রেখা এবং ব্যক্তিগত চাহিদা রেখা উভয়ই বামদিক থেকে ডানদিকে, নিম্নগামী হলেও বাজার চাহিদার পরিমাণ বেশি হওয়ায় এ রেখাটি অপেক্ষাকৃত কম ঢাল বিশিষ্ট হয়।
ক্রেতার যে আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার সামর্থ্য ও ইচ্ছা থাকে, অর্থনীতিতে তাকে চাহিদা বলে।
কোনো দ্রব্যের দামের সাথে তার চাহিদার পরিমাণের বিপরীত সম্পর্ক যে বিধির সাহায্যে প্রকাশ করা হয় তাকে চাহিদা বিধি বলে।
ভোক্তার আয়, রুচি ও অভ্যাস, ক্রেতার সংখ্যা, বিকল্প দ্রব্যের দাম অপরিবর্তিত থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দ্রব্যের দাম কমলে তার চাহিদার পরিমাণ বাড়ে এবং দাম বাড়লে চাহিদার পরিমাণ কমে। যেমন- কোনো দ্রব্যের প্রতি এককের দাম ১০ টাকা হলে, একজন ভোক্তা ৪ একক দ্রব্য ক্রয় করে। দাম কমে ৮ টাকা এবং ৬ টাকা হলে চাহিদা বেড়ে যথাক্রমে ৬, ৮ একক হয়। এক্ষেত্রে দেখা যায়, দ্রব্যের দাম ও চাহিদার পরিমাণের সাথে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!