উদ্দীপকে উল্লিখিত পণ্য রপ্তানির বিষয়টি অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি, নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
⇨ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দ্বারা দ্রব্যের বাজার বিস্তৃত হলে নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদগুলোর পরিপূর্ণ ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
⇨ বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছর বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে; তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে আমদানির মাধ্যমে তার কিছুটা ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।
⇒ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে দেশে অনুৎপাদিত দ্রব্যাদি আমদানি করা হলে এদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়বে।
⇨ বাংলাদেশ শ্রমশক্তি তথা মানব সম্পদ রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে।
⇨ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে উঠবে।
⇨ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়িয়ে বেশি পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হলে বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে।
⇒ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের, ফলে দেশের উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হয়, ফলে সম্পদের অপচয় রোধ হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।
⇒ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কারণে বাংলাদেশের অলস মূলধনের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে; এর ফলে মূলধনের গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নতুন নতুন বিনিয়োগের সৃষ্টি হচ্ছে।
⇒ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি দ্রব্য রপ্তানি করার ফলে বাজারে দ্রব্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে।
⇨ বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে উন্নত দেশ থেকে আধুনিক কারিগরি জ্ঞান ও প্রযুক্তি আমদানি করে থাকে, যা দেশটির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অপরিহার্য উপাদান হিসেবে
ব্যবহৃত হয়।
উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত পণ্য রপ্তানির বিষয়টি অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Related Question
View Allকোনো অনুন্নত দেশ উন্নত দেশ বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে পরিশোধ করার শর্তে অথবা বিনা শর্তে যে সাহায্য পায় তা-ই বৈদেশিক সাহায্য।
দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘটিত হলে তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে। বলা হয়, International trade is the exchange of goods or resources among the countries, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হচ্ছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে দ্রব্য ও সম্পদের বিনিময়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রয় করাকে রপ্তানি বলে। অন্যদিকে বিদেশ থেকে পণ্য ও সেবা ক্রয় করাকে আমদানি বলা হয়।
উপরে বর্ণিত বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে, না অর্জিত হবে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
সাধারণত আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্য বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হয়। যখন একটি দেশ অন্যদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রি করে তখন তাকে রপ্তানি বলে। আর যে প্রক্রিয়ায় একটি দেশ অন্য দেশে পণ্য ও সেবা বিক্রয় করে, তাকে রপ্তানি বাণিজ্য বলে। রপ্তানি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোনো দেশ তার নিজ দেশে উৎপাদিত পণ্য বিদেশের বাজারে বিক্রি করতে পারে। ফলে রপ্তানি আয় তথা বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ে। উদ্দীপকে মি. ইদ্রিস ময়মনসিংহে মাছ চাষ করে এবং বিক্রি করেন। কিন্তু এ বছর তিনি বেলজিয়ামের বাজারে হিমায়িত মাছ বিক্রির জন্য পাঠাচ্ছেন। অর্থাৎ মি. ইদ্রিস বিদেশের বাজারে মাছ রপ্তানি করছেন। ফলে মি. ইদ্রিসের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।
অতএব বলা যায়, মি. ইদ্রিস বেলজিয়ামে হিমায়িত মাছ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাণিজ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে যেসব পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
⇨ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি করতে হলে শিল্পজাত দ্রব্যের মান ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। এর ফলে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে।
⇨ উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে কম দামে বিশ্ববাজারে রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনবোধে রপ্তানি শুল্ক হ্রাস করে কম দামে বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হবে।
⇨ আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের শ্রেণিবিভাগ করতে হবে।
⇨ রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনীতে যোগ দিয়ে পণ্যের গুণাগুণ প্রচার করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে বিশ্ববাজার সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
⇒ রপ্তানি উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত সকল প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে পারলে এ দেশের রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।
⇒ অল্প কয়েকটি রপ্তানি পণ্যের উপর নির্ভর না করে আরও রপ্তানি আইটেম বাড়াতে হবে।
⇨ রপ্তানি পণ্য বিজ্ঞানসম্মতভাবে গুদামজাত করা এবং যাতে পচে নষ্ট না হয়, তার জন্য যথাযথভাবে প্যাকেটিং করতে হবে।
⇒ সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্য সংগ্রহ করে এবং পরোক্ষভাবে নানা সুবিধাসহ রপ্তানিকারকদের উৎসাহ দিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে বাংলাদেশের রপ্তানি ও রপ্তানি আয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের রস্তানি আয় ২৭০২৭মিলিয়ন মার্কিন ডলার
ভিন্ন সংস্কৃতির অগ্রাসন বলতে আমরা বুঝি বিদেশি সংস্কৃতি অনেকটা জোরপূর্বক গ্রহণ। বিশ্বায়নের অনিবার্য ফল হিসেবে সংস্কৃতিক আগ্রাসন চলে আসে। যেমন- পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আনক কিছুই আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির সাথে মেলে না।
অরণক্ষত আমরা সেগুলো জন্মভাবে অনুকরণ করার চেষ্টা কার। এ ধারার সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের তরুণ সমাজ অনেকটাই প্রভাবিত হচ্ছে। এর ফলে বাড়ছে মাদকাসক্তি, বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ এবং অপ্রয়োজনীয় বিলাসজাত। দ্রব্যের প্রতি আকর্ষণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!