উদ্দীপকে উল্লিখিত পদার্থটি হলো অ্যান্টিবডি। অ্যান্টিবডি জীরাণু বা অ্যান্টিজেনকে অকার্যকর করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। অ্যান্টিবডির প্যারাটোপ নামক নির্দিষ্ট অংশ বহিরাগত অ্যান্টিজেন বা জীবাণুর প্লাজমামেমব্রেনের অ্যান্টিজেনধর্মী যৌগের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আবদ্ধ হয়ে জীবাণুকে অকার্যকর করে। নিম্নে বহিরাগত পদার্থের সাথে অ্যান্টিবডির ক্রিয়ার কৌশল ও ধরন আলোচনা করা হলো-
i.অ্যান্টিবডি একাধিক জীবাণুর অ্যান্টিজেনের সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে এদেরকে স্তূপকৃত করে।
ii. নিক্রিয়ালব্ধ পদার্থ দ্রবীভূত না হয়ে অধঃক্ষিপ্ত হয়।
iii. অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনধর্মী জীবাণুর বিষাক্ত স্থানকে আবৃত করে প্রশমন করে।
iv. অনেক সময় অ্যান্টিবডি সরাসরি জীবাণুর ঝিল্লিকে আক্রমণ করে তাকে ছিন্ন বা বিশ্লিষ্ট করে।
V. অ্যান্টিবডি জীবাণুর উপরিতলকে আক্রমণ করায় এরা পরিবর্তিত-হয়। এই পরিবর্তিত জীবাণুকে রক্তের নিউট্রোফিল ও দেহের অন্যান্য ম্যাক্রোফেজ আগ্রাসনের মাধ্যমে বিনষ্ট করে। একে অপসোনাইজেশন বলে।
এভাবেই বিভিন্ন পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রকারের অ্যান্টিবডি ক্ষতিকর অণুজীবের অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে জীবাণুকে ধ্বংস করে এবং দেহকে রোগমুক্ত রাখে।
Related Question
View Allদেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াদানকারী অণুপ্রবিষ্ট বহিরাগত বিষাক্ত পদার্থই হলো অ্যান্টিজেন।
দেহকে কোনো রোগের বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা করে গড়ে তোলাই হলো রোগ প্রতিরোধ। এই ব্যবস্থায় পূর্ব থেকে শরীর অনাকাঙ্ক্ষিত রোগজীবাণুকে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকে। টীকা দেওয়ার মাধ্যমে দেহকে নির্দিষ্ট রোগ হতে প্রতিরোধী করে তোলা যায়।
উদ্দীপকের দেহের প্রতিরক্ষায় প্রথম স্তরটি হলো ত্বক। আমাদের দেহের সুরক্ষায় ত্বক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ত্বক আমাদের শরীরের বাইরের দিকের আবরণী। এটি ক্ষতিকর রোগের প্রভাব থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে। এর মধ্য দিয়ে সহজে কোনো কিছু ভেতরে যেতে পারে না। এটি দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও ক্যারোটিনাইড আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ করে।
দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH কে অম্লীয় (pH 3-5) করে তোলে। ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। কিছু সংখ্যক উপকারি ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে অ্যাসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে। যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি অ্যাসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে এনজাইম, অ্যাসিড, ম্যাক্রোফেজ ও নিউট্রোফিল বিশেষ ভূমিকা রাখে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-
মানুষের মুখের লালাতে পেপটাইড যৌগ (লাইসোজাইম) রয়েছে। এরা Staphylococcus, Streptococcus, Bacillus ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া বিরোধী যৌগ। তবে যেসব ব্যাকটেরিয়া লালার এনজাইম সহনশীল তারা, পাকস্থলিতে পৌঁছালে পাকস্থলির HCI অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমের পানিকে বাইরে বের করে কোষ' সংকুচিত করে ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। তাছাড়া পাকস্থলিতে প্রোটিনধর্মী যেসব এনজাইম (যেমন- পেপসিন) রয়েছে তারাও ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। যেসব ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলিতেও মারা যায় না তারা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্যানেথ কোষ হতে নিঃসৃত ব্যাকটেরিয়া বিরোধী পেপটাইডধর্মী এনজাইম ক্রিয়ায় মারা যায়। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে Macrophage তিন ধরনের কাজ করে থাকে। যথা- Macrophage ক্ষণপদের মতো গঠন সৃষ্টি করে জীবাণুকে ফ্যাগোসোম নামক গহ্বরে আবদ্ধ করে ফেলে। পরবর্তীতে ইহা লাইসোজোমের সাথে একীভূত হয়ে Phagolysosome গঠন করে। লাইসোসোমের এনজাইম ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। ম্যাক্রোফেজ T-Lymphocyte কে ব্যাকটেরিয়ার প্রকৃতি সম্বন্দ্বে তথ্য
সরবরাহ করে থাকে।
নিউট্রোফিল তিনটি প্রধান উপায়ে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের কাজ করে থাকে। যেমন- এরা অপসোনাইজেশন প্রক্রিয়ায় অপসোনিন প্রোটিনের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে প্রবেশিত জীবাণুকে চিহ্নিত করে। নিউট্রোফিল সাইটোকাইন নিঃসৃত করে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। নিউট্রোফিল প্রোটিন ও ক্রোমাটিনের সমন্বয়ে Neutrophil Extracellular Traps বা NETS নামক ফাঁদ তৈরি করে যা ছাঁকনির মতো কাজ করে ব্যাকটেরিয়াকে আবদ্ধ ও ধ্বংস করে ফেলে।
দেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াদানকারী অণুপ্রবিষ্ট বহিরাগত বিষাক্ত পদার্থই হলো অ্যান্টিজেন।
দেহে অনুপ্রবিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার গায়ে অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি কমপ্লেক্স যুক্ত হলে কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রোটিন নিউট্রোফিল ও ম্যাক্রোফেজকে প্রচন্ডভাবে ফ্যাগোসাইটোসিসে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় অপসোনাইজেশন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!