উদ্দীপকে ফাহিমের দেশে মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ হলো- বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুবিধা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়নসহ আরও কিছু পদক্ষেপ। উক্ত পদক্ষেপসমূহ দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। নিচে উক্ত পদক্ষেপসমূহ মূল্যায়ন করা হলো-
→ বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা: শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী একটি দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে। মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রথম পদক্ষেপ হলো শিক্ষা। শিক্ষা ছাড়া মানুষ কোনো কাজই করতে পারে না। আর সমাজে চলার পথে কেতাবি শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দীপকে ফাহিমের দেশের সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছে, যা একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি।
⇒ স্বাস্থ্য সুবিধা বৃদ্ধি: মানবসম্পদ উন্নয়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো স্বাস্থ্য সুবিধা বৃদ্ধি। একটি দেশের মানুষ তখনই মানবসম্পদে পরিণত হবে যখন সেই মানুষটি শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে সুস্থ থাকবে। শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে অসুস্থ ব্যক্তি কখনো মানবসম্পদ হতে পারে না। তাই ফাহিমের দেশের সরকার স্বাস্থ্য সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
⇒ নারীর ক্ষমতায়ন: নারীর ক্ষমতায়ন অনেক ক্ষেত্রে মানবসম্পদের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। কথায় আছে, একজন শিক্ষিত মা একটি শিক্ষিত জাতি দিতে পরে। আবার সেই মা যদি ঘরে বসে না থেকে কাজে অভ্যস্ত হয় তবে ব্যস্ততার দরুন সন্তান কম উৎপাদনের চিন্তা করে। আবার কীজে ব্যস্ত হওয়া মানে তিনি নিজেও মানবসম্পদে রূপান্তরিত হয়েছেন। নারী যদি দেশের সব জায়গায় সমান সুযোগ পায় তবে দেশের জনশক্তি যেমন বৃদ্ধি পায় আবার মানবসম্পদেও এগিয়ে যায়। উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ ছাড়াও খাদ্য ও পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ,
আবাসনব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, তথ্য ও প্রযুক্তির বিকাশ ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে ফাহিমের দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার হতো।
Related Question
View Allজীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাই হলো আত্মকর্মসংস্থান।
একটি দেশের জনসংখ্যার মধ্যে মৃত্যুর শতকরা অংশকে 'মৃত্যুহার বলে। মৃত্যুহার জনসংখ্যাকে হ্রাস করে বলে জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার বেশি হলে জনসংখ্যা হ্রাস পায়। আবার জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার কম হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন কারণে মৃত্যুহার হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি পাস করে গ্রামে এসে মৎস্য খামারের কাজ শুরু করে। বর্তমানে একজন উচ্চশিক্ষিত ছেলে গ্রামে এসে মৎস্য চাষ করবে, এটা কেউ ভাবতেই পারে না। কারণ, এত কষ্ট করে পড়াশোনা করে কেউ গ্রামে গিয়ে মৎস্য চাষ করতে চায় না। তেমনি অধ্যক্ষ সাহেবও চাননি। কিন্তু অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে চায় নিজের উদ্যোগে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে। যেকোনো চাকরি করতে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করতে হয়। তাদের কথামতো সব কাজকর্ম করতে হয়। নিজের কোনো স্বাধীনতা থাকে না। কিন্তু যখন নিজের উদ্যোগে কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়, তখন আর কারও অধীন থাকতে হয় না। নিজের স্বাধীনতা বজায় রেখেই কাজ করা যায়।
অতএব বলা যায়, উল্লিখিত কারণেই অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে এমএসসি পাস করেও গ্রামে এসে নিজ উদ্যোগে মৎস্য খামারে কাজ শুরু করেছে।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি হচ্ছে আত্মকর্মসংস্থান। নিচে আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। একজন কর্মক্ষম ও কর্মে ইচ্ছুক ব্যক্তি বেকারত্ব লাঘবে স্বাধীনভাবে কোনো উৎপাদনকর্মে নিয়োজিত হলেই তাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে অভিহিত করা হয়। বাংলাদেশের মতো জনাধিক্যের দেশের সব শ্রমশক্তিকে প্রচলিত ধারায় কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া সম্ভম্ব নয়।
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। বেকারত্বের কারণে বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় কম। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান তৈরি করার মতো মূলধন সরকারের না থাকায় আত্মকর্মসংস্থান সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ কমায়। বেকারত্ব ও দরিদ্রতা সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দেয়, তাই আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূর করতে
পারলে সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠী উন্নয়নকাজে অংশগ্রহণ করলে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়।
উপর্যুক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মতো জনবহুল উন্নয়নশীল দেশে আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি হলো, DP = যেখানে, DP = জনসংখ্যার ঘনত্ব, TP = মোট জনসংখ্যা, TA = মোট আয়তন।
যে জনসংখ্যায় একটি দেশের উৎপাদন ও আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। একটি দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ, মূলধন ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জনসংখ্যা যে আয়তন/পরিমাণ দ্বারা সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় অর্জিত হয়, সেই জনসংখ্যার আয়তন/পরিমাণকে কাম্য জনসংখ্যা বলা হয়। কাম্য জনসংখ্যায় মোট জনসংখ্যা ও কর্মজীবী জনসংখ্যার অনুপাত স্থির থাকে। তাই উক্ত জনসংখ্যায় পূর্ণ নিয়োগ অবস্থা বর্তমান থাকে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!