উদ্দীপকের উল্লিখিত দুধ সংরক্ষণের 'C' পদ্ধতিটি হলো দুধ পাস্তুরিকরণ। নিচে পদ্ধতিটির বর্ণনা করা হলো-
পাস্তুরাইজেশন হলো দুধ সংরক্ষণের সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। দুধের পচন ঘটানোর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে স্ফুটন তাপমাত্রার চেয়ে কম তাপমাত্রায় তাপ দিয়ে ধ্বংস করা হয়। পাস্তুরিকরণের জন্য বিভিন্ন প্রকার খোলামুখ পাত্র ব্যবহার করা হয়। এ পাত্রে আলোড়ক ও ফোম হিটার থাকে। প্রথমে পাস্তুরিকারক পাত্রে দুধ দিয়ে ১.৭৫ অংশ পূর্ণ করে যাতে দুধের স্নেহ পদার্থ ভেসে না ওঠে। সে জন্য আলোড়ক দ্বারা মৃদু আলোড়ন অব্যাহত রাখতে হয়। উত্তপ্ত করার জন্য গরম পানির স্রোত প্রবাহিত করতে হয়। দুধের তাপমাত্রা যখন ৬২.৮° সে. করতে হয় তখন গরম পানির সঞ্চালন বন্ধ করতে হয়। এ তাপমাত্রায় দুধ ৩০ মিনিট রাখতে হয়। পরে সাথে সাথে দুধ ঠান্ডা করার জন্য সাধারণ একটি বিশেষ ধরনের যন্ত্রে ৪° সে. তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়।
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষি এদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। এদেশের কৃষক প্রাচীনকাল থেকেই পারিবারিক কৃষি খামার পরিচালনা করে আসছে। এদেশের কৃষক তার খামারে শস্য, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মৎস্য উৎপাদন করে। এ অধ্যায়ে পারিবারিক কৃষি খামারের ধারণা ও গুরুত্ব আলোচনা করা হয়েছে।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
- পারিবারিক কৃষি খামারের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- পারিবারিক কৃষি খামার তৈরির কলাকৌশল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- ক্ষুদ্র আয়ের উৎস হিসাবে পারিবারিক কৃষি খামারের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব; •
- পারিবরিক দুগ্ধ খামার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের বর্ণনা করতে পারব;
- দুগ্ধ দোহন ও সংরক্ষণের সনাতন ও আধুনিক পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে পারব;
- পারিবারিক খামারের তথ্য লিপিবদ্ধ করার পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করতে পারব;
- খামারের উৎপাদনের আয়-ব্যয়ের হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব ।
Related Question
View Allপরিবারের সদস্যদের পুষ্টি ও আর্থিক চাহিদা মেটানোর জন্য যে খামারের মাধ্যমে শস্য, শাকসবজি, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মৎস্য উৎপাদন করা হয় তাকে পারিবারিক খামার বলে।
যে খামার আকারে বড় এবং তাতে উৎপাদন, লেনদেন ও আমদানি- রপ্তানি বেশি তাকে বাণিজ্যিক খামার বলে।
বেকারত্ব দূরীকরণ, আত্মকর্মসংস্থান, আর্থিক স্বচ্ছলতা, পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বাড়তি আয়ের ব্যবস্থার জন্য বাণিজ্যিক খামার প্রয়োজন। বাণিজ্যিক খামারের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখা যায়। দেশের কৃষি উৎপাদনে ও জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে বাণিজ্যিক খামার সাহায্য করে।
আরিফ ও হাসিফ দীর্ঘদিন নিজ আঙিনায় দেশি জাতের মুরগি পালন করে। এতে তেমন লাভবান হতে পারেননি। পরবর্তীতে তারা পোল্ট্রি খামারের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে পারিবারিক পোল্ট্রি খামার স্থাপন করে অল্প সময়ের মধ্যেই সফলতা লাভ করেন।
আরিফ ও হাসিফ পারিবারিক পোল্ট্রি খামার স্থাপনের মাধ্যমে উন্নত জাতের মুরগি পালন করেন। সফলভাবে পারিবারিক পোল্ট্রি খামার পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ থাকা উচিত। বিশেষ করে পোল্ট্রির জাত, বাসস্থান, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং টিকাদান কর্মসূচী সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে এসব বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে খামার পরিচালনা করে এবং তা থেকে অধিক মাংস ও ডিম পায়।
মূলত পোল্ট্রি পালনের সব ধরনের জ্ঞান থাকার জন্যই আরিফ ও হাসিফ সফলতা লাভ করেন।
আরিফ ও হাসিফ লক্ষ করলেন তাদের পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যগুলো বাড়ির পরিবেশকে দূষিত করছে। এ অবস্থায় তারা খামারের বর্জ্যগুলো পচিয়ে ফসলের জমিতে ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
জমি বা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের জন্য নিয়মিত জৈব সার প্রয়োগ করতে হয়। জৈব সার মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়, মাটিস্থ উপকারী অণুজীবকে ক্রিয়াশীল রাখে, মাটির ভৌত ও রাসায়নিক গুণাবলী উন্নত করে। জৈব সার ব্যবহারে রাসায়নিক সারের পরিমাণ কম লাগে ফলে উৎপাদন খরচ কমে। উপরন্তু জৈব সার পরিবেশ বান্ধব। জৈব সার হিসেবে পোল্ট্রির বর্জ্য বেশ উৎকৃষ্ট ও উপযোগী। কাজেই তাদের খামারের বর্জ্যগুলো ফসলের জমিতে ব্যবহারের ফলে বাড়ির পরিবেশ দূষণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন থাকবে। উপরন্তু জমির উর্বরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
সুতরাং এই আলোচনা থেকে বলা যায়, আরিফ ও হাসিফের উদ্যোগটি খুবই যুক্তিযুক্ত।
পুকুরে অতিরিক্ত কাদা হলে একটি দড়ির মধ্যে ইটের টুকরা বেঁধে তা পানিতে টেনে তলার গ্যাস দূর করার উপকরণটিকে বলে হররা।
পুকুরের তলায় অতিরিক্ত কাদার উপস্থিতি এবং বেশি পরিমাণ লতাপাতা ও আবর্জনা পচনের ফলে গ্যাসের সৃষ্টি হয়। এতে করে পানি বিষাক্ত হয়ে মাছ মারা যায়।
এক্ষেত্রে হররা (একটি মোটা দড়ির সাথে ছোট ছোট দড়ি দ্বারা ইট ঝুলিয়ে বেঁধে দেওয়া) টেনে পুকুরের তলার গ্যাস দূর করার ব্যবস্থা করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!