ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদানটি হলো DNA । DNA অনুসূত্রের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত পৃথক ও রৈখিকভাবে জিনগুলো পরপর সাজানো থাকে। জিন হলো জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী একক।
মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য কীভাবে বংশধরে প্রকাশ পায়, সে সম্বন্ধে মেন্ডেল মটর গাছ নিয়ে একটি পরীক্ষা করেন। এজন্য তিনি একটি লম্বা ও একটি খাটো গাছ নিয়ে পরস্পরের মধ্যে কৃত্রিম সংকরায়ন ঘটান।
এরপর উৎপন্ন বীজ বুনে দেখলেন সব গাছই লম্বা হয়েছে। তিনি আবার এখান থেকে একটি গাছ নিয়ে তাতে স্বপরাগায়নের মাধ্যমে প্রজনন ঘটান। এর থেকে উৎপন্ন বীজ বুনে দেখা গেল লম্বা ও খাটো দুরকমের গাছই রয়েছে। এদের মধ্যে তিন ভাগ গাছ লম্বা এবং এক ভাগ গাছ খাটো। অর্থাৎ তাদের অনুপাত দাঁড়ায় ৩ : ১, যা মেন্ডেলের প্রথম সূত্র নামে পরিচিত। খাটো কিংবা লম্বা বৈশিষ্ট্যগুলোর নিয়ন্ত্রক হলো জিন। মটরশুঁটির লম্বার জন্য দায়ী জিনের সংস্করণ হলো । এবং খাটোর জন্য t। এক্ষেত্রে । হলো প্রকট এবং। হলো প্রচ্ছন্ন জিন। জীবে জিনের দুটি সংস্করণই প্রচ্ছন্ন অর্থাৎ tt হলে, তখনই কেবল খাটো বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পাবে।
অতএব, DNA জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য মাতাপিতা থেকে সরাসরি বংশধরে বহন করে নিয়ে যায় এবং জিনের মাধ্যমে মেন্ডেলের সূত্রানুসারে প্রকাশিত হয়।
Related Question
View Allজীববিজ্ঞানের যে বিশেষ শাখায় সকল প্রকার জীবের বংশগতি সম্পর্কে বিশদ আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তাই এক কথায় বলা বংশগতিবিদ্যা।
যে প্রক্রিয়ায় একটি অণু (DNA) থেকে অনুরূপ দুটি নতুন অণুর (DNA) সৃষ্টি হয় তাকে অনুলিপন (DNA) অনুলিপন বলে। এই প্রক্রিয়াটি DNA অণুর সূত্র দুটির হাইড্রোজেন বন্ধন ভেঙ্গে গিয়ে আলাদা হয় এবং প্রতিটি সূত্র তার পরিপূরক নতুন সূত্র সৃষ্টির মাধ্যমে নতুন DNA অণু তৈরি করে।
সিফাতের বড় কন্যাটি যেহেতু দেখতে হুবহু বাবার মত সেহেতু তার এ চেহারার জন্য দায়ী প্রকট জিনটি বাবার কাছ থেকেই এসেছে এবং মায়ের চেহারার জন্য দায়ী জিনটি তার 'দেহে প্রচ্ছন্ন অবস্থায় আছে। অর্থাৎ মায়ের ঐ জিনটি তার দেহে প্রচ্ছন্ন জিন।
আবার, ছোট কন্যাটির চুল ও গায়ের রং বাবার মত। অর্থাৎ চুল ও গায়ের রং এর জন্য দায়ী প্রকট জিনগুলো সে বাবার কাছ থেকে পেয়েছে। কিন্তু তার চেহারা মায়ের মতো হওয়ায় চেহারার জন্য দায়ী প্রকট জিনটি সে মায়ের কাছ থেকে পেয়েছে। মা বাবার অন্যান্য যে সকল বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পায়নি সেগুলোর জন্য দায়ী জিন তার দেহে প্রচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে।
সুতরাং সিফাতের সন্তানদের ক্ষেত্রে এরূপ শারীরিক গঠনগত ভিন্নতার কারণ হলো প্রকট জিন। প্রকট জিনই যে কোন জীবের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
সম্প্রতি সিফাতের আরও একটি কন্যা সন্তান হওয়ায় সে তার স্ত্রীর উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারণ, স্ত্রী লোকের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স কোমোসোমই X ক্রোমোসোম অর্থাৎ XX। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি X, অপরটি Y ক্রোমোসোম অর্থাৎ XY। মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ ভালভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, কন্যা বা পুত্র সন্তানের জন্ম হবার ব্যাপারে মায়ের আদৌ কোনো ভূমিকা নেই। কারণ মা সবসময় কেবল X বহনকারী ডিম্বাণু তৈরি করে। অপরদিকে পিতা X এবং Y উভয় ধরনের শুক্রাণু উৎপাদন করে। গর্ভধারণকালে কোন ধরনের শুক্রাণু মাতার X বহনকারী ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হবে তার উপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ সন্তানের লিঙ্গ। যেহেতু নিষেকে কেবল একটি শুক্রাণুই ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয় তাই পিতার X অথবা Y শুক্রাণুর কোনটি সাফল্যভাবে নিষেক ঘটাবে তার উপর নির্ভর করে সন্তানের লিঙ্গ। যদি X বহনকারী শুক্রাণু নিষেক ঘটায় তা হলে জাইগোট হবে XX, অর্থাৎ সন্তান হবে কন্যা। আর যদি Y বহনকারী শুক্রাণু নিষেকে অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে জাইগোট হবে XY এবং সন্তান হবে পুত্র। উপরের বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে বলা যায় যে সম্প্রতি সিফাতের আরও একটি কন্যা সন্তান হওয়ার জন্য তার স্ত্রী কোনভাবেই দায়ী নয়, বরং কন্যা সন্তান হওয়ার জন্য সিফাতই দায়ী। সুতরাং স্ত্রীর উপর ক্ষুব্ধ হওয়া সিফাতের অনুচিৎ এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
ক্রোমোসোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাই লোকাস।
পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব রয়েছে তাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে এ ভূমণ্ডলে আবির্ভূত হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে পরিবেশেরও পরিবর্তন ঘটেছে। আর এই ভিন্ন পরিবেশে জীবগুলো তাদের নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়ে টিকে আছে। বিভিন্ন পরিবেশে বা প্রতিকূল পরিবেশে জীবের নিজেকে খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকাই হলো অভিযোজন। অভিযোজন জীবের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
