উদ্দীপকে কম্বোডিয়ার সরকারের গৃহীত কর্মসূচিটি বাংলাদেশ সরকারের উক্ত সমাজসেবা অর্থাৎ গ্রামীণ সমাজসেবা কার্যক্রমের খণ্ডচিত্র মাত্র।
গ্রামাঞ্চলের দারিদ্র্য হ্রাসকরণের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজসেবা অধিদপ্তর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেমন- আর্থ-সামাজিক জরিপের মাধ্যমে দল গঠন, বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান, ঋণ দান কার্যক্রম, পল্লী মাতৃকেন্দ্র ইত্যাদি। গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির আওতায় প্রথমে বয়স, লিঙ্গ, আকার, দক্ষতা, অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে দল গঠন করা হয়। এরপর গ্রামের নিম্ন আয়ভুক্ত যুবক-যুবতীদের বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়। দরিদ্রদের পুঁজি সমস্যা সমাধানে পল্লী এলাকায় সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি পল্লী মাতৃকেন্দ্রের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিজ্ঞান প্রদান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সামাজিক বনায়নসহ মা ও শিশুসেবা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। উদ্দীপকে দেখা যায় কম্বোডিয়ার সরকার তাদের কর্মসূচি আওতায় শুধু পশ্চাৎপদ এলাকার নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, মা ও শিশুর যত্ন, স্বাক্ষরতা বিষয়ে জ্ঞান দান করে সচেতনতা যা বাংলাদেশ সরকারের গ্রামীণ সমাজসেবা কার্যক্রমের পল্লী মাতৃকেন্দ্র কর্মসূচি। এটি ছাড়া বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজসেবার কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত উপরে বর্ণিত অন্যান্য কর্মসূচিগুলো কম্বোডিয়ার সরকারের কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়নি। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে কম্বোডিয়ার সরকারের গৃহীত কর্মসূচিটি বাংলাদেশ সরকারের গ্রামীণ সমাজসেবা কার্যক্রমের খণ্ডচিত্র মাত্র।
Related Question
View Allমাঠকর্মী যে সকল নিয়ম-নীতির মাধ্যমে তার কার্য সম্পাদন করে তাকে মাঠকর্ম নীতি বলা হয়।
ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম হচ্ছে সমাজকর্মের তত্ত্ব ও পদ্ধতির পেশাগত অনুশীলন। এ শাখায় মনো-সামাজিক সামঞ্জস্যহীনতা, অক্ষমতা বা আংশিক অক্ষমতা অথবা আবেগীয় ও মানসিক সামঞ্জস্যহীনতার প্রতিকার ও প্রতিরোধে কাজ করে।
সাধারণত শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যা, যেমন- প্রিয়জনের মৃত্যু, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, দাম্পত্যকলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, চাকরি হারানো ইত্যাদির ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। এক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম সাহায্যার্থীকে সাইকোথেরাপি এবং পরামর্শ সেবার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে সব চাহিদা পূরণ করতে হয় সেগুলোই মৌলিক মানবিক চাহিদা। এ চাহিদাগুলো পূরণ না করলে পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা। প্রতিটি মানুষের এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। যদি কেউ এগুলোর বেশিরভাগ পূরণ করতে না পারে তাহলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
উদ্দীপকে তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ তিনবেলা ঠিকমতো খেতে পারে না। তাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার সুযোগ পায় না। এমনকি অসুস্থ হলেও তারা চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার। আর তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ এ সকল মৌলিক মানবিক অধিকার ভোগ করতে পারছে না। তাই বলা যায়, তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষরা মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
উদ্দীপকে সরকারের গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি মূলত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সম্পদ ও সরকারের সহায়তার মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে কাজ করে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে সংগঠিত করে তোলে। গ্রামের দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষক, বেকার, দরিদ্র মহিলাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের উপার্জনক্ষম করে তোলা এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
গ্রামীণ অর্থনীতির কাঠামো সুদৃঢ় করার জন্য কুটির শিল্পের প্রসারে সহায়তা করা এবং গ্রামের সক্ষম দম্পতিদের পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করাও গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। এর বাইরে নিরক্ষরতা ও অজ্ঞতা দূরীকরণে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করা, স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে পরামর্শ ও সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি পরিচলিত হয়। গ্রামীণ জনগণের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেও এ কর্মসূচি কাজ করে থাকে। গ্রামের জনগণের মধ্যে পুষ্টিজ্ঞান, খাবার স্যালাইন তৈরি, বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার, শিশু যত্ন ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দান, শিশু, যুবক, মহিলা, প্রতিবন্ধী প্রভৃতির জন্য বাস্তবমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে। শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং অক্ষমদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করে। একইসাথে বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রম গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, গ্রামাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি কাজ করে থাকে।
প্রতিটি কাজের সফলতা-বিফলতা বিশ্লেষণ করাই হলো মূল্যায়ন।
পরিবার গঠনে বিবাহের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিবাহ হচ্ছে এমন একটি কার্যপ্রণালি যার মাধ্যমে পরিবার গড়ে ওঠে। মূলত বিবাহ হচ্ছে পরিবার গঠনের উপায়। কেননা একজন নারী এবং একজন পুরুষের মাঝে পারিবারিক জীবনের সূচনা ঘটিয়ে দেয় বিবাহ। বিবাহ ছাড়া পরিবার গঠন অসম্ভব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!