উদ্দীপকে সুশাসনের সব বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়নি। এখানে ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচনে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত হয়েছে। এর বাইরেও সুশাসনের আরও অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন-
১. নৈতিক মূল্যবোধ আইন অপেক্ষা নৈতিকতার সীমানা অনেক বেশি প্রসারিত। নৈতিক মূল্যবোধ দ্বারা শাসন কাজ পরিচালনা করা হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
২ . স্বচ্ছতা : স্বচ্ছতার অর্থ পরিষ্কার, স্পষ্ট। দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতিই হলো স্বচ্ছতা। শাসনব্যবস্থার আইনকানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট, পরিষ্কার বা স্বচ্ছ হয়, যদি এর একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়। শাসক-শাসিতের মধ্যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ও তা পালনকারীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থাকে না।
৩. বৈধতা: সরকারের বৈধতা, সরকারের গৃহীত নীতি বা সিদ্ধান্তের বৈধতা, প্রণীত আইনের বৈধতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আবশ্যকীয় উপাদান। এজন্যই অনির্বাচিত, অগণতান্ত্রিক, স্বেচ্ছাচারী বা সামরিক শাসনকে কেউ সুশাসন বলে না। বৈধতাকে তাই সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বলা হয়।
৪. দায়িত্বশীলতা: সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দায়িত্বশীলতা। এর অর্থ হলো সরকার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কর্মকাণ্ডের দায়িত্বশীলতা। সরকারের শাসন বিভাগ তাদের নীতিসিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে। এভাবে পরোক্ষভাবে শাসন কর্তৃপক্ষ জনগণের নিকটই দায়ী থাকে। কেননা আইন বিভাগের সদস্যগণ জনগণেরই নির্বাচিত প্রতিনিধি।
৫. দক্ষতা: দক্ষতার অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন। অবাধ তথ্য সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান, দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব, কর্তব্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, কাজের আগ্রহ, কাজে ফাঁকি দেওয়ার অভ্যাস বা বিলম্বে যোগ দেওয়ার বদঅভ্যাস পরিত্যাগ, সততা ইত্যাদি বজায় থাকলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
৬. জনপ্রশাসনের সেবাধর্মী মনোভাব: প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব সময় মনে রাখতে হবে যে, জনকল্যাণের জন্যই প্রশাসন গড়ে উঠেছে। তারা জনগণের সেবক, প্রভু নন। জনসেবার জন্যই প্রশাসনের জন্ম হয়েছে, প্রশাসন চলে জনগণের অর্থে- এ উপলব্ধিই সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে।
উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্য ছাড়া আইনের শাসন, দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা স্বাধীন বিচার বিভাগ, সততা, লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি, বিকেন্দ্রীকরণ, শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সুশীল সমাজ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। একটি রাষ্ট্রে এসব বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য একান্ত অপরিহার্য।
Related Question
View Allপৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics |
নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিকতা লাভের উপায়, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক। এককথায় পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু যেহেতু নাগরিকতাকেন্দ্রিক সেহেতু পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়
তাহসিন এ বছর একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশুনা করছে। তাহসিনকে তার বাবা 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি পাঠের পরামর্শ দিলেন। পাঠ্য বিষয় হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন গ্রহণের বা পাঠের ফলে তাহসিন যে ধরনের সুফল লাভ করবে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিন তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের মাধ্যমে তাহসিন সুনাগরিকের গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হবে। যা তার গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে এবং মনের সংকীর্ণতা দূর হবে। তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা বিকশিত হবে। যা একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারবে। সে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করে গড়ে তোলার জ্ঞানলাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন রাষ্ট্র পরিচালনাসংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করবে।
- রাষ্ট্রব্যবস্থা বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে তাহসিন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
- তাহসিন বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ব ও মতবাদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে। খ। তাকে একজন বিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে সহায়তা করবে।
- অতএব বলা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে ইচ্ছুক তাহসিনের জন্য 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি নির্বাচন সঠিক হয়েছে। এ বিষয়টি তাহসিনের জ্ঞানের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আধুনিককালে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি রাষ্ট্রের নাগরিক ও নাগরিকতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বরূপ ও কার্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
পৌরনীতির উৎপত্তির ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্র কেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এ শাস্ত্রের উদ্ভব। সেই সময়ে পৌরনীতির ক্ষেত্র ছিল মূলত নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিক সম্পর্কিত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে নাগরিকতার ধরন, বিস্তার ও মাত্রা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সুনাগরিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ইত্যাদির গঠন, কার্যাবলি ও ভূমিকা পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। জাতীয় গৌরবময় ইতিহাস, আন্দোলন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও জ্ঞানদান করে পৌরনীতি। বর্তমান কালের বৈশ্বিক বিস্তৃত নাগরিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন- জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, FIFAইত্যাদির গঠন ও কার্যাবলি নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে। একই সাথে অতীতে নাগরিক জীবন কেমন ছিল, রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব কেমন ছিল, নাগরিকগণ কেমন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত তার স্বরূপ নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে এর প্রকৃতি কেমন এবং ভবিষ্যতে তা কেমন হতে পারে, তারও দিকনির্দেশনা পৌরনীতি হতে পাওয়া যায়। অতীতের শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, শাসক শ্রেণি ইত্যাদির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো ছিল যা ভবিষ্যতে গ্রহণ করা যেতে পারে পৌরনীতির আলোচনায় তা পাওয়া যায়। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে আধুনিককালের পৌরনীতি বিষয়ে যে ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে তা যথাযথ ও যৌক্তিক।
কযে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ, জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও সাম্য বিরাজ করে, তাই সুশাসন।
সুশাসন হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। আর নীতিশাস্ত্র হলো মানুষের আচার-আচরণ মূল্যায়নের বিজ্ঞান। উভয়ের মাঝে বিষয়বস্তুগত মিল রয়েছে যেমন, তেমনি সুশাসনকে মূল্যায়ন করে নীতিশাস্ত্র। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে যেসব গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন তা নীতিশাস্ত্র পাঠের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আবার নীতিশাস্ত্রের একটি প্রায়োগিক দিক হলো সুশাসন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!