উদ্দীপকে'?' চিহ্নিত স্থানের ক্ষেত্রে লৌহ উপাদানকে নির্দেশ করা হয়েছে।
খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যে এবং খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দে ব্রিটেনে লৌহ যুগের সূচনা হয়। অন্যদিকে এশিয়া মাইনরে হিট্রাইটদের (Hittites) মধ্যে সর্বপ্রথম লৌহ শিল্পের ব্যবহার জানা যায়। এ যুগে লৌহ নির্মিত কুঠার ও লাঙলের ফলা আবিষ্কার হওয়ায় অকর্ষিত ভূমি পরিষ্কার করে কৃষিকাজ আরো সহজ হয়ে ওঠে। লোহার যন্ত্রপাতি ব্যবহারে জমির ফলন আগের তুলনায় বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। ফলে মানুষের জাতীয় আয় ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যানবাহন, রাস্তাঘাট, বিভিন্ন ভারি ও হালকা যন্ত্রপাতি নির্মাণে লৌহের ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়, যা শিল্পায়ন ও নগরায়ণের বিকাশে সহায়তা করে। এজন্য আধুনিক সমাজ ও সভ্যতাকে লৌহের অবদান হিসেবেই সবাই স্বীকার করেন। আবার লৌহের ব্যবহারের মাধ্যমে চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষা করা সহজ হওয়ায় আধুনিক সমাজে জন্মহার ও মৃত্যুহার উভয়ই বেশ কম। এছাড়া বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি, শিল্পকলা ও স্থাপত্য শিল্পেও লৌহের ব্যবহার ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈজ্ঞানিক চিন্তা-চেতনার উন্মেষ ঘটে।
উদ্দীপকের ছকে লক্ষণীয় যে, '?' চিহ্নিত স্থানের চারদিকে নির্দেশক হিসেবে নগরায়ণ ও শিল্পায়নের বিকাশ, জাতীয় আয় ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি, বৈজ্ঞানিক চিন্তা-চেতনার উন্মেষ এবং জন্মহার ও মৃত্যুহার কম ইত্যাদির উল্লেখ রয়েছে, যা পূর্বোক্ত লৌহযুগের আলোচনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং এ কথা সুস্পষ্ট যে, উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে 'লৌহ যুগে' ব্যবহৃত লৌহ উপাদানকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
Related Question
View Allমহাস্থানগড় বৌদ্ধ ও হিন্দু সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ।
বাংলাদেশের নগরায়ণ বৃদ্ধির হার দ্রুতগতিতে বেড়ে চলায় সাংস্কৃতিক ব্যবধান দেখা দিচ্ছে। দেশে নগরায়ণ যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে নগর মানসিকতা সে তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। অর্থাৎ বস্তুজগতের উন্নতির সাথে তাল মিলিয়ে মনোজগতের উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সাংস্কৃতিক ব্যবধান দেখা দিচ্ছে।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার মহাস্থানগড় নামক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে শিক্ষা সফরে গিয়েছে।
মহাস্থানগড় প্রাচীন বাংলার সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন ও পুরাকীর্তির স্থান। বগুড়া শহর থেকে তেরো কিলোমিটার উত্তরে বর্তমান শিবগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর তীরে এটি অবস্থিত। এর প্রাচীন নাম পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ডনগর। এক সময় এটি ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী। মহাস্থানগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এগুলোর ওপর ভিত্তি করে বাংলার সামাজিক ইতিহাস রচনা করা সম্ভব হয়েছে। মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো হলো- বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা, পরশুরামের প্রসাদ, গোকুল মেধ, শীলাদেবীর ঘাট, মুনীর ঘোন ইত্যাদি। এছাড়াও মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত অন্যান্য নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির ফলক, খেলনা, থালা-বাসন, জলপাত্র, রন্ধনপাত্র, সীলমোহর, ব্রোঞ্জের গহনা ইত্যাদি।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে শিক্ষাসফরে গিয়ে পোড়ামাটির ফলক, তামা ব্রোঞ্জের গহনা, পাথরের মূর্তি, সীলমোহর ইত্যাদি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে পায়। শিক্ষার্থীদের দেখা এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো বগুড়ার মহাস্থানগড়কে নির্দেশ করে, যা উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার মহাস্থানগড়ে শিক্ষাসফরে গিয়েছে।
উদ্দীপকের আসহাব সাহেবের বক্তব্যে সমকালীন সামাজিক ইতিহাস রচনা করার ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান বিষয়টির গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
সমাজবিজ্ঞানকে বলা হয় সমাজকাঠামোর বিজ্ঞান। আর সমাজকাঠামো হলো সমাজের সামগ্রিক ব্যবস্থা। সমাজবিজ্ঞান যেহেতু সমাজকাঠামো তথা ব্যক্তি, গোষ্ঠী, বিভিন্ন অনুষ্ঠান- প্রতিষ্ঠান, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও কার্যাবলি, সমাজের অতীত ইতিহাস ইত্যাদি সম্পর্কে পঠন-পাঠন ও গবেষণা করে সেহেতু সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে সমাজ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও গভীর জ্ঞান অর্জন করা যায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো এই সমাজকাঠামোরই উপাদান। এ উপাদানগুলোই সমাজ ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সামাজিক ইতিহাসের অংশ। আর সামাজিক ইতিহাস হলো একটি জাতি বা সম্প্রদায়ের অতীতের নির্দিষ্ট সময়ের সমাজব্যবস্থার পূর্ণ বিবরণ। আমরা জানি, ভবিষ্যৎ সমাজকে সুষ্ঠুভাবে গড়ে তুলতে হলে অতীতের মানব গোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, আইন-কানুন, রীতি-নীতি জানা দরকার। এক্ষেত্রে সামাজিক ইতিহাসের জ্ঞান খুবই জরুরি। আর সামাজিক ইতিহাস জানতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই। কারণ একমাত্র সমাজবিজ্ঞানই সামাজিক ইতিহাস নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করে। তাই বলা যায়, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্লেষণ করে সামাজিক ইতিহাস রচনা করতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই।
সাঁওতালরা রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, মৌলভীবাজার, বগুড়া, ময়মনসিংহ, সিলেট, নওগাঁ, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরে বাস করে।
মানুষের জীবনাচরণের সব দিক সংস্কৃতির আওতাভুক্ত হওয়ায় ব্যাপক অর্থে সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয় বহন করে। সংস্কৃতি হলো সমাজস্থ মানুষের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিচয়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহনকারী একটি উপাদান। প্রকৃত অর্থে সংস্কৃতি হচ্ছে মানুষের জীবনপ্রণালি। সংস্কৃতি একটি সমাজ বা জাতিকে পরিচালিত করে। সর্বোপরি বলা যায়, সংস্কৃতি একটি সমাজ বা জাতির পরিচয় বহন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!