নারী উন্নয়নে অবদান রাখার দিক থেকে উদ্দীপকের জেসমিন করিমের কর্মকাণ্ড বিখ্যাত 'সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
অবিভক্ত বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে বেগম রোকেয়ার নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। তিনি আমৃত্যু নারীশিক্ষা, লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় ও সামাজিক গোঁড়ামি দূর করা এবং অন্যান্য সামাজিক বিষয়ে নারীদের উন্নয়ন ও কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। উদ্দীপকের জেসমিন করিমেরও বেগম রোকেয়ার দেখানো পথেই হেঁটেছেন।
জেসমিন করিমের পারিবারিক ইতিহাস ও প্রাথমিক জীবন বেগম রোকেয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে তাদের দুজনের মধ্যে মূল সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায় নারী মুক্তির জন্য কাজ করার মাধ্যমে। জেসমিন করিম তার গ্রামের পশ্চাৎপদ, নিরক্ষর ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন নারীদের মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। তিনি তাদেরকে শিক্ষিত করে তোলার লক্ষ্যে গ্রামে একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেছেন। তাছাড়া নারীদের অবস্থার উন্নয়নে তিনি গ্রামে একটি মহিলা সমিতিও, স্থাপন করেছেন। অন্যদিকে বেগম রোকেয়াও নারী শিক্ষার বিস্তারে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। মাত্র ৫ জন ছাত্রী নিয়ে তিনি 'সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল' এর যাত্রা শুরু করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে স্কুলটি সরকারি সাহায্য লাভ করে এবং ইংরেজি বালিকা বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। তাছাড়া রোকেয়া নারীদের কল্যাণে 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' নামে একটি - সংগঠন গড়ে তোলেন। উদ্দীপকের জেসমিন করিমও মহিলাদের সচেতন ও সংগঠিত করতে মহিলা সমিতি নামে সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। সুতরাং বলা যায়, জেসমিন করিমের কার্যক্রম আমাদেরকে বেগম রোকেয়ার কথাই মনে করিয়ে দেয়।
Related Question
View Allসমাজকর্মের বিকাশের ধারা দুই ভাগে বিভক্ত।
আপদকালীন সময়ে আর্তদের বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করার ব্যবস্থার নাম লঙ্গরখানা।
লজ্জার শব্দটি ফার্সি শব্দ। এর অর্থ সমাজের দুস্থ ও নিঃস্বদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। সমাজের যেকোনো শ্রেণির মানুষের জন্যই লঙ্গরখানার খাবারের ব্যবস্থা উন্মুক্ত থাকে।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত নারীকল্যাণ সাধন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে।
সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নারীদের উন্নয়ন সাধন, সমাজে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা। এ লক্ষ্যে সমাজকর্ম কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। পাশাপাশি মেয়েদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়। সমাজে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণেও সমাজকর্ম বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম বিভিন্ন সামাজিক আইনের প্রয়োগ করে। আবার, সমাজে উদ্ভূত বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন- জনসংখ্যা সমস্যা, বেকারত্ব, কিশোর অপরাধ, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুকপ্রথা, মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস প্রভৃতি সমস্যা সমাধানেও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের সদস্যরা কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য অধিকার ও সেবা সহজলভ্য করা, দক্ষতা বৃদ্ধি, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ, যৌতুক প্রথার অবসান প্রভৃতিনিয়ে কাজ করে। আর এ কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধিভুত্ব নারীকল্যাণ সাধন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সমস্যা দূরীকরণের অন্তর্ভুক্ত।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সামাজিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিস্ট।
সমাজের বিভিন্ন প্রথা, প্রতিষ্ঠান, রীতিনীতি, আইন, সামাজিক মূল্যবোধ ও আদর্শ যেগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর সেগুলো দূর করার জন্য জনগণের সুসংগঠিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টাকে সামাজিক আন্দোলন বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণের সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ যৌতুক প্রভৃতি দূর করতে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হলো সামাজিক আন্দোলন। উদ্দীপকের স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ডেও তাই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও তাদের জীবনমানের উন্নয়নের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। সেই সাথে সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ, যৌন নিপীড়ন ও যৌতুক প্রথা প্রভৃতি সমস্যা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ থেকে এগুলো দূর করতে ভূমিকা পালন করছে। কারণ এই সমস্যাগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর আর এগুলো দূর করার জন্য জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। আর সমাজের জন্য ক্ষতিকর রীতিনীতি দূর করতে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হলো সামাজিক আন্দোলন। স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে সুসংগঠিত করে এসব সমস্যা দূর করতে কাজ করছে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সামাজিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট।
সমাজকর্ম পেশাগত সম্পর্ক স্থাপনে বিশ্বাসী।
সমাজকর্মের পরিধি বলতে মূলত এর ব্যবহারিক দিকের প্রয়োগক্ষেত্র বা প্রয়োগ উপযোগিতাকে বোঝানো হয়।
সমাজকলা পূর্ববজেতাদের অশ্রণির জনগণের সামাজিক সমস্যা মোকাবিলাপূর্বক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সম্ভাব্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রচেষ্টা চালায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে গোটা সমাজই সমাজকর্মের পরিধি বা ক্ষেত্রের আওতাভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!